বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১১:৩৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :-
বার্থী তাঁরা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপিত ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষ্যে ময়মনসিংহে লালকুঠি পাক দরবার শরীফের উদ্যোগে জশনে জুলুস অনুষ্ঠিত সুন্দরগঞ্জ ডি ডব্লিউ সরকারি ডিগ্রী কলেজে ঈদে মিলাদুন্নবী উদযাপন নওগাঁর পোরশায় ভূমি অফিস অরক্ষিত: কম্পিউটার দোকানের কর্মীর হাতে সরকারি নথিপত্র, দা;লালদের দৌরাত্ম্যের অভিযোগ মাজার ধ্বং/স করলে আমরা ঘরে বসে থাকবো না -পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী আজাদ আশুলিয়ায় ৫ বছরের শিশু তাসিন হ/ত্যার প্রধান আ/সামি গ্রে/ফতার ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের জায়গা দখ/ল করে যানজট, চাঁ/দাবাজির অভিযোগ গোপালগঞ্জে পূর্ব বি/রোধের জেরে এক যুবকের ওপর হাম/লার অভিযোগ উঠেছে সন্ত্রা/সী অন্তর বাহিনীর বিরুদ্ধে গোবিপ্রবিতে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) পালিত মোরেলগঞ্জে জামায়াত-বিএনপির পা/ল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন

ভারত থেকে ধেয়ে আসছে ব/ন্যা, গোদাগাড়ী পদ্মা পড়ের লাখ লাখ মানুষ আ/তঙ্কিত

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬
  • ৫০ Time View

মোঃ হায়দার আলী রাজশাহী থেকে : ভারতের উজান থেকে ধেয়ে আসছে বন্যা, রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে মরা পদ্মায় যেন যেন যৌবন ফিরে পেয়েছে। পদ্মার বিস্তীর্ন বালুচরের স্থলে এখন ঘোলা পানির স্রোত প্রবাহিত হচ্ছে। যে কোন সময় বন্যার পানিতে ডুবে যাওয়ার আশাংকা করছেন অনেকে। ভারত মরনবাঁধ ফারাক্কার সব গেট খুলতে দিয়েছে। ভারত থেকে থেকে নেমে আসা ঢলের পানিতে প্রতিদিন পদ্মা যেন ফুলেফেপে উঠছে। যদিও বিপদ সীমার অনেক নীচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফারাক্কার গেট পেরিয়ে হু হু করে পানি আসছে। গত বছর ভয়াবহ বন্যায় বিপুল পরিমান ফসলী জমি নদীগর্ভে বিলিন হয়েছে, ছাড় পায়নি স্কুল, মসজিদ, ব্রিজ, রাস্তা, গবাদিপশু, জমির ফসল। ওই সময় পদ্মার ভাঙ্গন ঠেকাতে জরুরীভাবে জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছিল কিন্তু খুব একটা লাভ হয় নি। পদ্মা আঘাত হেনেছিল রাজশাহীর গোদাগাড়ি, চাঁপাই নবাবগঞ্জ এলাকার কয়েকটি ইউনিয়নে।

উজানে (ভারত) বর্ষন হওয়ায় সেই পানি গঙ্গা হয়ে পদ্মায় নামছে। ওপারের পানির চাপ কমাতে উদার হস্তে খুলে দিয়েছিল ফারাক্কার গেট। এবারও তার ব্যতিক্রম করেনি ভারতে নরেদ্র মদির সরকার। নাব্যতা হারানো পদ্মায় এক সাথে ছুটে আসা পানিতে এমনিতে ফুসে উঠছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানাযায়, প্রতিদিন গড়ে ১৫/২০ সেন্টিমিটার করে পানি বাড়ছে। পদ্মা মহানন্দা নদীতে বন্যার পানি বাড়ার সাথে সাথে নদী ভাঙ্গন ব্যাপকহারে শুরু হয়।

গতবছর গোদাগাড়ীতে পদ্মা নদীর ভঙ্গনে চরাঞ্চলে ভারতীয় সীমান্তবর্তী এলাকায় মাত্র দুই সপ্তাহে সমসজিদ, ব্রিজ, রাস্তা, ফসলী জমিসহ ৫০টি বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছিল। বন্যা ও নদী ভাঙ্গন কবলিত এলাকার মানুষ নৌকায় করে ১ টিতে গরু-ছাগল, অন্যটিতে বস্তায় বস্তায় ধান আবার কোনোটিতে চর থেকে ভেঙে নিয়ে আসা বাড়ির চাল, টিনের ছাউনি, ধান, গম, ভুট্টা, চাউল,, বাড়ী ঘর নির্মানের পুরাতন সামগ্রী, ঢেউটিন, দরজা জানালা প্রভূতি নিয়ে ছিল। ওপারে বন্যা ও নদী ভাঙ্গনের ভয়াবহতা এত বেশী ছিল যা প্রকাশ করা যায় না। এ দুর্ভোগের বিষয় নদীর ধারে এসে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ দেখেছেন।

গোদাগাড়ী উপজেলার আষাড়িয়াদহ ইউনিয়নের মেম্বার জোহরুর ইসলাম জানান, পদ্মা নদীতে প্রতিদিন অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে পানি। প্রতিবছরই বন্যার সাথে সাথে পদ্মায় ভাঙ্গন দেখা দেয়। গত বছর মানুষ ঘরবাড়ী, জায়গাজমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এলাকার ৫০ বিঘা কৃষিজমি, জমির ফসল, গরু-মহিষ, মসজিদ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছিল। মানুষ ঘর বাড়ি একাধিকবার সরিয়ে রেহায় পান নি। অন্তত ৬০ পরিবার ঘরবাড়ি নিয়ে ওপারে বরেন্দ্র এলাকায় চলে গেছেন। নদীতে পানি বাড়ার সাথে সাথে নদীপাড়ের হাজার হাজার হাজার মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।

মরণবাঁধ ফারাক্কা ব্যারেজ নির্মিত হয়েছে আবহমানকাল ধরে প্রবাহিত গঙ্গা-পদ্মা নদীর ভারতের অংশ ফারাক্কায় । ১৯৬৮-১৯৬৯ সালে ফরাক্কা ব্যরেজটি একতরফাভাবে নির্মাণ করে ভারত। কিন্তু ভারত কৌশলগতভাবে ব্যারেজটি তখনই চালু করেনি । তখন পাকিস্থানে ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুথানের ১৯৭০ সালের জেনারেল ইয়াহিয়া সামরিক শাসন জারি এবং সবশেষে ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বধীনতা অর্জনের কাল। তারপরেও ভারত অপেক্ষা করে এবং অবশেষে ১৯৭৫ ইং সালের ২১ এপ্রিল ভারত ফারাক্কা চালু করার পর থেকে অব্যাহতভাবে মরণদশা শুরু হয়েছে দেশের নদীর উপর।

শুস্ক মমৌসুমে ফারাক্কা ব্যরেজের সব কয়টি গেট বন্ধ করে নদী শাসন করে মেরে ফেলা হয় অসংখ্য নদ নদীকে জলবায়ুর বিরুপ প্রভাবে পরিবেশ জীবন জীবিকায় নেমে এসেছে প্রচন্ড ধ্বস। দেশের এক তৃতীয়াংশ এলাকা ধীরে ধীরে মরুভূমিতে পরিণত হয় । গ্রীষ্ম মৌসুমে পানির স্তর অস্বাভাবিকভাবে নীচে নেমে যাওযায় উত্তাঞ্চলের বেশীর ভাগ নলকূপে পানি ওঠা বন্ধ হয়ে যায় । দেখা দেয় তীব্র পানির সংকট । উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলের কোটি কোটি মানুষের জীবনে অভিশাপ বয়ে এনেছে এই ফারাক্কা ব্যারেজ; এসব এলাকার মানুষ যাকে মরণ ফাঁদ বলে জানেন ।
আবার বর্ষা মৌসুমে বিমাতৃসুলভ অচারণ করে ফারাক্কার সব কয়টি গেট খুলে দেশের মানুষকে ডুবিয়ে মারেন ভারত।
গত ৫০ বছরে ফারাক্কা ব্যারাজ বাংলাদেশের নদ-নদীতে যে বিরূপ প্রভাব রেখেছে তার বড় সাক্ষী বাংলাদেশে পদ্মা পাড়ের মানুষ।

আবার বন্যার সময় সেই ফারাক্কারই সবগুলো গেট খুলে দেওয়া হচ্ছে। এরে ফলে প্রায় প্রতিবছরই গঙ্গা ও পদ্মা অববাহিকার বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে বন্যা ও ভাঙনের সমস্যা দেখা দিচ্ছে। ফারাক্কার বিরূপ প্রভাবে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পদ্মা নদী। বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান এ নদীটি উত্তরবঙ্গে রাজশাহী বিভাগ থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।

নদী গবেষকরা বলছেন, বাংলাদেশের দীর্ঘতম এ নদীর গতিপথ থেকে শুরু করে এর শাখা নদনদীর প্রবাহে মারাত্মক ক্ষতি করেছে ফারাক্কা। এ বাঁধকে দুদেশের কল্যান হিসেবে গন্য করা হলেও বাংলাদের জন্য অকল্যানের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ছোট বেলা থেকেই রাজশাহীর গোদাগাড়ী এলাকায় পদ্মা নদীতে মাছ শিকার করেন মোহাম্মদ রাব্বির হোসেন। পদ্মা নদীতে তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায় নদীর পানি শুস্ক মৌসুমে, বর্ষা মৌসুমে ভারত ইচ্ছামত পানি ছেড়ে আমাদের ডুবিয়ে মারে।

গোদাগাড়ী পৌরসভার মাদাপুর মহাল্লার বলেন, ইয়াসিন মাঝি বলেন, ছোট বেলা থেকেই আমারা এ নদীতে সাঁতার দিয়েছি ব্যাপক খরস্রোত ছিল শুস্ক মৌসুমে মরা খালে পরিনত হয়। বর্ষা মৌসুমে ফারাক্কার সব কয়টি গেট খুলে দিয়ে ভারতের উঠানের পানি দিয়ে জান মালের প্রতিবছর ব্যাপক ক্ষতি করে। সরকার আসে সরকার কিন্তু পানি ব্যবস্থার কোন পরিবর্তন হয় না।

মোঃ হায়দার আলী
রাজশাহী ।।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved.©natunbazar24.com
Developed by: A TO Z IT HOST
Tuhin