
মোঃ শহীদুল ইসলাম
বিশেষ প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম:
চট্টগ্রাম মহানগরীর বহুল আলোচিত শিক্ষার্থী আশফাক কবির সাজিদ (১৭) হত্যা মামলায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। র্যাব-৭, চট্টগ্রাম ও র্যাব-৬, খুলনার যৌথ ও সমন্বিত অভিযানে পৃথক স্থানে অভিযান চালিয়ে মামলার প্রধান পলাতক আসামি রানা প্রকাশ মাইকেল রানা এবং তার সহযোগী মো. ইলিয়াসকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ১৮ এপ্রিল দিবাগত রাত থেকে ১৯ এপ্রিল ভোররাত পর্যন্ত ধারাবাহিক অভিযানে তাদের আটক করা হয়।
নিহত সাজিদ কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলার
দাতিনাথালীপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আবুল হাসেমের ছেলে এবং চট্টগ্রামের বিএএফ শাহীন কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। পড়াশোনার কারণে তিনি নগরীর ডিসি রোড এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।
মামলা ও র্যাব সূত্রে জানা যায়, ১২ এপ্রিল ২০২৬ বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে সাজিদ তার বন্ধু ফারদিন হাসানের সঙ্গে বাকলিয়া এক্সেস রোডের মৌসুমি আবাসিক এলাকায় দেখা করেন। এ সময় সংঘবদ্ধ একটি দুর্বৃত্তচক্র ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তাকে জোরপূর্বক তুলে নেওয়ার চেষ্টা করে। জীবন রক্ষায় দৌড়ে পাশের একটি নির্মাণাধীন ভবনের ৮ম তলায় আশ্রয় নিলেও দুর্বৃত্তরা কৌশলে ভবনের ভেতরে প্রবেশ করে তাকে আটক করে। পরে তাকে বেধড়ক মারধর করে ভবনের লিফটের খালি স্থানে নিক্ষেপ করলে তিনি গুরুতর আহত হন।
স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ হত্যাকাণ্ড নগরজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে এবং জনমনে ব্যাপক আলোড়ন তোলে।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে ১৩ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে চকবাজার থানায় দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
র্যাব জানায়, ঘটনার পরপরই জড়িতদের গ্রেফতারে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয় এবং প্রযুক্তিনির্ভর অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ১৮ এপ্রিল রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে খাগড়াছড়ি জেলার মানিকছড়ি এলাকা থেকে প্রধান আসামি রানা প্রকাশ মাইকেল রানাকে গ্রেফতার করা হয়। পরদিন ১৯ এপ্রিল ভোর আনুমানিক ২টা ৫৫ মিনিটে বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট এলাকা থেকে যৌথ অভিযানে গ্রেফতার করা হয় তার সহযোগী মো. ইলিয়াসকে।
গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
র্যাব-৭, চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) সহকারী পুলিশ সুপার এ.আর.এম. মোজাফ্ফর হোসেন বলেন, “আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই সন্ত্রাস, মাদক ও জঙ্গিবাদ দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। চাঞ্চল্যকর ও জটিল অপরাধের রহস্য উদ্ঘাটন এবং অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে সংস্থাটির ধারাবাহিক তৎপরতা জনমনে আস্থা সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।