
এম এ আলিম রিপন : পাবনার সুজানগরে উৎসবমুখর পরিবেশে বাংলা নববর্ষ পহেলা বৈশাখ উদযাপিত হয়েছে।
দিনব্যাপী কর্মসূচিতে ছিলো লোকজ মেলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বৈশাখী শোভাযাত্রা এবং শিশুদের জন্য রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতাসহ নানা আয়োজন।মঙ্গলবার সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বরে দিনব্যাপী এ সকল কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন পাবনা ২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এ কে এম সেলিম রেজা হাবিব।সভাপতিত্ব করেন সুজানগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মীর রাশেদুজ্জামান রাশেদ।প্রধান অতিথির বক্তব্যে পাবনা ২ আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট এ কেএম সেলিম রেজা হাবিব বলেন, পহেলা বৈশাখের আয়োজন অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রতিফলন, পহেলা বৈশাখের আয়োজন জাতি, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে মানুষকে একত্রিত করে।তিনি বলেন, পহেলা বৈশাখ উদযাপন শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং সংস্কৃতি ও সম্প্রীতির এক অনন্য প্রকাশ।নববর্ষকে কেন্দ্র করে আয়োজিত র্যালি, আবৃত্তি, নৃত্য ও সংগীতের মাধ্যমে বাঙালির ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির নানান দিক তুলে ধরা হয় উল্লেখ করে তিনি সবাইকে বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা জানান এবং এই চেতনা ধারণ করে একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও প্রগতিশীল বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।উদ্বোধনের পর সেখান থেকেই একটি বর্ণাঢ্য বৈশাখী শোভাযাত্রা বের করা হয়।পাবনা ২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এ কে এম সেলিম রেজা হাবিবের নেতৃত্বে বের হওয়া শোভাযাত্রায় সুজানগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মীর রাশেদুজ্জামান রাশেদ,পাবনা সহকারি পুলিশ সুপার (সুজানগর সার্কেল) সাদিক আহমেদ, থানা অফিসার ইনচার্জ মোজাফফর হোসেন, উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি মেহেদি হাসান, উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাগণ, পৌর বিএনপির সাবেক যুগ্ন আহবায়ক অধ্যাপক আব্দুল মোনায়েম, পৌর বিএনপির সভাপতি কামাল হোসেন বিশ্বাস, উপজেলা বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক অধ্যক্ষ নাদের হোসেন, বিএনপি নেতা আহমেদ আলী প্রামানিক লাটু,পৌর বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি সরদার বাবুল হোসেন, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জসিম বিশ্বাস,বিএনপি নেতা হারুন মন্ডল, উপজেলা কৃষক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান খোকন, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক সিদ্দিকুর রহমান পিন্টু, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক জাকির হোসেন, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব রিয়াজ মন্ডল,বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণির পেশার মানুষ অংশ নেন।শোভাযাত্রাটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে এসে শেষ হয়।শোভাযাত্রায় গ্রামীণ ঐতিহ্যের লাঠিখেলা, গরুর গাড়ি, ঘোড়ার গাড়ি, পালকিসহ দেশীয় বাদ্যযন্ত্রের পরিবেশনায় বাঙালির সংস্কৃতি তুলে ধরা হয়। অংশগ্রহণকারীরা রঙিন পোশাক, মুখোশ, ব্যানার-ফেস্টুনে সজ্জিত হয়ে উৎসবের আবহকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলেন। এতে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।এর আগে সকাল থেকেই উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে ভিড় জমাতে থাকেন উৎসবপ্রেমীরা।দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সংগীত, নৃত্য ও আবৃত্তি পরিবেশন করেন স্থানীয় শিল্পীরা।