
স্টাফ রিপোর্টার ঃ-
মোঃ দেলোয়ার হোসেন বাবু
জয়পুরহাট জেলা ।।
জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলায় আদালতের মামলা ও নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে প্রতিপক্ষ তারেক,খোরশেদ আলম,খলিল এর বসতবাড়িতে ভাঙচুর এবং আবাদী জমির ধান নষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে গোপীনাথপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য হাকিম মেম্বারের নেতৃত্বে ৩০ থেকে ৪০ জনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং স্থানীয়দের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে আক্কেলপুর উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের দুলালী ভ্যাললা গ্রামে। অভিযোগ অনুযায়ী, চলমান জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে আদালতের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও অভিযুক্ত পক্ষ সংঘবদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রতিপক্ষের বাড়িঘরে হামলা চালায় এবং জমিতে থাকা ধান নষ্ট করে দেয়।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, হাকিম মেম্বারের নেতৃত্বে কালাম, বারিক, জামাল, রবিউল, মুক্তারসহ প্রায় ৩০ থেকে ৪০ জনের একটি দল জোরপূর্বক তাদের বসতবাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করে। এ সময় তাদের হাতে থাকা লাঠিসোঁটা দিয়ে বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয় এবং ঘরের ভেতরে থাকা বিভিন্ন মালামাল লুটপাট করা হয়।
ভুক্তভোগীরা দাবি করেন, হামলাকারীরা তাদের ঘরের স্বর্ণালঙ্কার, চাল-ডাল, হাঁড়ি-পাতিল, কাপড়-চোপড়, চেয়ার-টেবিল, এমনকি শিশুদের বই-খাতা পর্যন্ত নিয়ে যায়। এ ঘটনায় তাদের প্রায় ১৫ লক্ষ টাকার মালামাল নষ্ট ও লুটপাট হয়েছে বলে তারা অভিযোগ করেন।
এছাড়াও হামলাকারীরা বসতবাড়ির আশপাশে থাকা আবাদী জমির ধান কেটে ও পায়ে মাড়িয়ে নষ্ট করে দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে করে ভুক্তভোগী পরিবার আর্থিকভাবে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য হাকিম মেম্বার জানান, তার ভগ্নিপতির জমি প্রতিপক্ষ বেআইনিভাবে দখল করে সেখানে বাড়িঘর নির্মাণ করেছে। তিনি বলেন,
“তারা আমাদের জমি জবরদখল করে রেখেছে। তাই ভাঙচুর করেছি, ওরা কি করতে পারে করবে। আমি মামলা দেখে ভয় করি না। বিষয়টি স্থানীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে বসে সমাধান করা হবে।”
তিনি আরও দাবি করেন, প্রতিপক্ষ পক্ষ থেকেও তাদের বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়েছে এবং গাছপালা কেটে ফেলা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রশাসনের কাছে তদন্ত করার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে তিনি বলেন,
“আমি ভয় করি না, আবারো যাবো—দেখি ওরা কি করে।”
এ বিষয়ে আক্কেলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিন রেজা জানান, ঘটনা সম্পর্কে খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন,
“ঘটনার বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
ঘটনার পর থেকে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং যেকোনো সময় পুনরায় সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। নিরাপত্তার স্বার্থে প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়রা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা যাতে আর না ঘটে, সে জন্য প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
মোঃ দেলোয়ার হোসেন বাবু
জয়পুরহাট জেলা স্টাফ রিপোর্টার ।।