
মোঃ শহীদুল ইসলাম
বিশেষ প্রতিবেদকঃ
চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় সমুদ্রপথে সক্রিয় ইয়াবা পাচার চক্রের বিরুদ্ধে বড় ধরনের আঘাত হেনেছে র্যাব-৭। এক ঝটিকা ও গোয়েন্দা তথ্যনির্ভর অভিযানে প্রায় ১৫ কোটি টাকা মূল্যের ৫ লাখ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধারসহ ৯ জন মাদক কারবারিকে আটক করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি শুধু একটি চালান জব্দ নয়—বরং একটি সক্রিয় নেটওয়ার্কে সরাসরি আঘাত।
র্যাব-৭ সূত্র জানায়, কক্সবাজার সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে ফিশিং ট্রলারযোগে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা চট্টগ্রাম মহানগরীতে প্রবেশ করছে—এমন নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত ১০ এপ্রিল ২০২৬ রাত আনুমানিক ২১:৩০ ঘটিকায় পতেঙ্গার ১৫ নম্বর ঘাট এলাকায় অবস্থান নেয় আভিযানিক দল এবং অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানের সময় র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে ট্রলারে থাকা মাদক কারবারিরা পালানোর চেষ্টা করলে দ্রুত চারদিক থেকে ঘেরাও করে তাদের আটক করা হয়। আটককৃতরা হলেন—সৈয়দ আলম (৪৫), সুলতান আহম্মদ (৫৫), মোঃ ইউসুফ (৪৫), মোঃ কাসিম (৩০), মোঃ ইসমাইল (৪০), শাহ আলম (৩৫), আজম উল্লাহ (৫৭), মোঃ ফারুক (২৫) ও ছানাউল্লাহ (৫৭); যাদের মধ্যে কয়েকজন রোহিঙ্গা বলে জানা গেছে।
পরবর্তীতে ট্রলারটি তল্লাশি করে ইঞ্জিন রুমের বাম পাশে গোপন স্থানে রাখা ৩টি প্লাস্টিকের বস্তা উদ্ধার করা হয়। এসব বস্তার ভেতরে পলিথিন ও স্কচটেপ দিয়ে বিশেষ কৌশলে মোড়ানো মোট ৫ লাখ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট পাওয়া যায়, যা তাৎক্ষণিকভাবে জব্দ করা হয়েছে।
র্যাব জানায়, উদ্ধারকৃত ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১৫ কোটি টাকা। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা স্বীকার করেছে, তারা দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত এলাকা থেকে স্বল্পমূল্যে ইয়াবা সংগ্রহ করে সমুদ্রপথ ব্যবহার করে চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করে আসছিল।
সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, সমুদ্রপথ এখন ইয়াবা পাচারের অন্যতম প্রধান রুটে পরিণত হয়েছে। তবে র্যাব-৭ এর ধারাবাহিক অভিযানে এই রুটে চাপ সৃষ্টি হয়েছে এবং বড় নেটওয়ার্ক ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
র্যাব-৭ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এ. আর. এম. মোজাফ্ফর হোসেন জানান, গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।