
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি:
বর্তমান সরকারের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফের সিদ্ধান্তে ঝিনাইদহ জেলার ৪ হাজার ৫৫১টি কৃষক পরিবার দীর্ঘদিনের ঋণের বোঝা থেকে মুক্তি পেয়েছে যার ফলে কৃষি জনপদে স্বস্তির হাওয়া বইছে। । সরকারের এই বিশেষ আর্থিক ছাড়ের আওতায় জেলায় মোট সাড়ে তিন কোটি টাকারও বেশি ঋণ মওকুফ করা হয়েছে।সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর তথ্য অনুযায়ী, সরকারের নির্দেশনা বাস্তবায়নে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত ব্যাংকগুলো। ঝিনাইদহের প্রধান তিনটি ব্যাংকের মাধ্যমে মোট ৩ কোটি ৫৩ লাখ ৩৫ হাজার টাকার কৃষিঋণ মওকুফ নিশ্চিত করা হয়েছে।
সুবিধাভোগীদের বড় অংশই বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের গ্রাহক। ঝিনাইদহ কৃষি ব্যাংকের উপমহাব্যবস্থাপক জিয়াউর রহমান জানান, জেলার ৪ হাজার ২৩০ জন কৃষকের অনুকূলে ৩ কোটি ২৮ লাখ ৬৬ হাজার টাকা মওকুফ করা হয়েছে।ঝিনাইদহ অগ্রণী ব্যাংকের উপমহাব্যবস্থাপক নিলিনা আক্তার জানান, তাদের শাখার ২৯০ জন কৃষকের ২১ লাখ ৮৩ হাজার টাকা মওকুফ হয়েছে। অন্যদিকে জনতা ব্যাংকের কর্মকর্তা ময়নুল ইসলাম জানান, ৩১ জন কৃষকের ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকার ঋণ পরিশোধের বাধ্যবাধকতা আর নেই।ঝিনাইদহ সদর উপজেলার সাধুহাটী ইউনিয়নের কৃষক নাছির বিশ্বাস বলেন, উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি আর দুর্যোগের কারণে ছোট এই ঋণটুকু পরিশোধ করা আমার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছিল।
এখন দুশ্চিন্তামুক্ত হয়ে নতুন করে মাঠে নামতে পারব।ঝিনাইদহ অগ্রণী ব্যাংক আঞ্চলিক শাখার কর্মকর্তা নাজমুস সায়াদাত বলেন, গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে এটি একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ। এতে প্রান্তিক কৃষকদের মনোবল বাড়বে। ব্যাংকগুলো দ্রুত এই সুফল কৃষকদের কাছে পৌঁছে দিতে কাজ করছে।ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক এম এ মজিদ সরকারের এই সিদ্ধান্তকে কৃষিবান্ধব ও যুগান্তকারী উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, ঝিনাইদহের নিভৃত পল্লীর হাজারো কৃষকের ঘরে এখন উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।
আতিকুর রহমান
ঝিনাইদহ।।