
মোঃ দেলোয়ার হোসেন বাবু
জয়পুরহাট জেলা স্টাফ রিপোর্টার।।
জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার বিলের ঘাটের ধানক্ষেত থেকে রাশেদা বেগম ওরফে আশুড়া (৪৫) নামে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১০
এপ্রিল) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার তুলসীগঙ্গা ইউনিয়নের বিলের ঘাট সংলগ্ন সোতার আদর্শ গ্রামের একটি ধানক্ষেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার পর থেকেই নিহতের দ্বিতীয় স্বামী বাবলু মিয়া পলাতক ছিলেন বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা। পরে শনিবার (১১ এপ্রিল) সকালে ক্ষেতলাল থানা পুলিশের একটি অভিযানে মামুদপুর ইউনিয়নের আয়মাপুর গ্রামের একটি গভীর নলকূপ ঘর থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
নিহত রাশেদা বেগম উপজেলার তুলসীগঙ্গা ইউনিয়নের সোতার আদর্শ গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ছয় মাস আগে রাশেদা বেগমের প্রথম স্বামী মোজাফ্ফর হোসেন মারা যান। এরপর তিনি মুনঝার এলাকার বাবলু মিয়া নামে এক ব্যক্তিকে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। তবে বিয়ের পর থেকেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দাম্পত্য কলহ চলছিল বলে জানা গেছে।
শুক্রবার রাতে বিলের ঘাট সংলগ্ন আদর্শ গ্রামের (গুচ্ছগ্রাম) পাশের একটি ধানক্ষেতে রাশেদার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। পরে তারা থানায় খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।
এ বিষয়ে স্থানীয় পুকুর চাষি সাইফুল ইসলাম জানান, মাগরিবের আগ মুহূর্তে তিনি আশুড়াকে জীবিত অবস্থায় দেখেছেন। কে বা কারা তাকে হত্যা করেছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তিনি বলেন,
“তিনি একজন ভালো মানুষ ছিলেন। প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলে আমরা আশা করছি।”
ক্ষেতলাল উপজেলার তুলসীগঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য তুষার আহমেদ বলেন,
“আমি যতদূর জানি, আশুড়া নামের ওই মহিলা ভালো মানুষ ছিলেন এবং কারো সঙ্গে তার বড় কোনো ঝগড়া-বিবাদ ছিল না। কী কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে, তা বোঝা যাচ্ছে না। পুলিশ তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করবে এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।”
মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে ক্ষেতলাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোখলেছুর রহমান বলেন, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাতেই জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় নিহত রাশেদা বেগম আশুরার দ্বিতীয় স্বামী বাবলু মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে পুলিশের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
মোঃ দেলোয়ার হোসেন বাবু
জয়পুরহাট জেলা স্টাফ রিপোর্টার।।