
শহিদুল ইসলাম
মহেশপুর (ঝিনাইদহ) সংবাদদাতাঃ-
উন্নত জীবনের আশায় লিবিয়া হয়ে ইতালি যাওয়ার স্বপ্নে বিভোর হয়ে দালালচক্রের নির্মম প্রতারণা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার উজ্জ্বলপুর গ্রামের মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে মোঃ ইসমাইল হোসেন মৃধা (৩২)
অভিযোগ অনুযায়ী জানা গেছে একই উপজেলার তালপট্টি গ্রামের আবু কালামের সঙ্গে ১২ লাখ টাকায় ইতালি যাওয়ার চুক্তি হয়, যার বিপরীতে পরিবার জমি জায়গা নষ্ট করে ১১ লাখ টাকা পরিশোধ করে এবং লিবিয়ায় অবস্থানকালে ইসমাইল হোসেন নিজেও ১৮ হাজার দিনার কালামের হাতে তুলে দেন। এ সময় উপস্থিত মোঃ অহিদুল ইসলাম (৩৫) ও ভুক্তভোগীর পরিবার জানায়, পুরো প্রক্রিয়াটি সামন্তা গ্রামের উমরের মাধ্যমে পরিচালিত হয় এবং কালাম ও উমর আলী চক্র ইসমাইলকে লিবিয়ায় একটি বদ্ধ গেম ঘরে’ আটকে রেখে অমানবিক নির্যাতন চালায়। ইসমাইল হোসেনের স্ত্রী মোছাঃ সালমা খাতুন বলেন, আমার স্বামীকে ইতালি নেওয়ার কথা বলে ১২ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। পরে তিন মাস গেম ঘরে আটকে রেখে মারধর ও নির্যাতন করে। পরে ৪ লক্ষ টাকা দেওয়ার পরও তাকে ছাড়েনি। একই অভিযোগ করেন ইসমাইলের মা ছপুরা খাতুন। তিনি বলেন, “ছেলেকে বাঁচাতে আমরা ধার-দেনা করে আরও ৪ লাখ টাকা এবং পরে অতিরিক্ত ৫০ হাজার টাকা মনজুরা খাতুনের কাছে দিতে বাধ্য হই। তবুও নির্যাতন বন্ধ হয়নি।” পরিবারের দাবি, কালামের ভাগ্নে ওমর এই চক্রের মূল হোতা এবং বিদেশে মানবপাচার ও নির্যাতনের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। স্থানীয়রা জানান, এর আগেও এই ওমরের দালালির কারণে মহেশপুরের জামতলা পাড়ার সাগর সামন্ত লিবিয়া থেকে কঙ্কাল হয়ে ফিরে আসে। এছাড়া একই সময়ে লিবিয়ায় অবস্থানরত মোহর আলী জানান, “আমরা মহেশপুরের ৪০-৫০ জন লোক গেম ঘরে আটক ছিলাম এবং নির্যাতনের শিকার হয়েছি।” ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। দালাল কালাম ও ওমরের বিরুদ্ধে কঠোর তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়রা।
শহিদুল ইসলাম
মহেশপুর ঝিনাইদহ।