শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৪২ অপরাহ্ন
Title :
৩২ বছরের শিক্ষকতাকে সম্মান, বিদায়ে লাল গালিচা ও মোটরসাইকেল উপহার মোহনপুরে পেঁয়াজ সংর-ক্ষণের এয়ার-ফ্লো মেশিন বিতরণ তেঁতুলিয়ায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ উদযাপন উপলক্ষ্যে মেলা ও কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত আশুলিয়ার জামগড়া কিশোর কর্তৃক এক শিশুকে ধর্ষ-ণের অভিযোগঃ ৩ ঘন্টার মধ্যে ধর্ষ-ণকারী আ-টক মোহনপুরের কৃষিতে নতুন সম্ভবনা চুইঝাল তেঁতুলিয়ায় মতবিনিময় সভার ভিডিও ধারণে ডিসির বাধা, মতবিনিময় বয়-কট সাংবাদিকদের চারঘাটে শতবর্ষী ঐতিহ্যের কালুপীরের বৈশাখী মেলা শুরু রাজশাহী কেন্দ্রীয় কা-রাগারে সিনিয়র জেল সুপার হলেন আল মামুন ধামইরহাটে পবিত্র বায়তুল্লাহ শরীফে হজ্ব যাত্রা উপলক্ষে দোয়া ও বিদা-য় অনুষ্ঠিত মহেশপুরে নবাগত জেলা প্রশাস-কের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

অবশেষে সুনামগঞ্জ  নানান অ-ভিযোগে অভিযুক্ত জেলা শিক্ষা অফিসার জাহাঙ্গীরের ব-দলির

Reporter Name
  • Update Time : শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১২৮ Time View

‎কেএম শহীদুল সুনামগঞ্জ:

‎নিয়োগ-বাণিজ্য, শিক্ষকদের এমপিওভুক্তিতে বাধা এবং কোনো অভিযোগের তদন্ত করতে গিয়ে অনৈতিক সুবিধা নেওয়াসহ নানা অভিযোগে অভিযুক্ত  সুনামগঞ্জ জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ জাহাঙ্গীর আলমের অবশেষে বদলির টিকেট।গত ৯এপ্রিল ২০২৬ইং তারিখে “এসএম জিয়াউল হায়দার হেনরী মাধ্যমিক -১” এর সহকারী পরিচালকের স্বাক্ষরিত পেডে ঐ শিক্ষা অফিসার মোঃ জাহাঙ্গীর আলমের বদলির আদেশ হয়।
‎জানা যায় সুনামগঞ্জ জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে। ২০২২ সাল থেকে এ পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে আদালতে পাঁচটি মামলা এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর দুটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন ভুক্তভোগীরা। তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন একই জেলায় দায়িত্বে থাকায় নিয়োগ-বাণিজ্যের সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছিলেন জাহাঙ্গীর আলম।
‎জেলার বিশ্বম্ভরপুর, জামালগঞ্জ, জগন্নাথপুর, সদর ও শাল্লা উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা না থাকায় জাহাঙ্গীর আলম অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতেন তিনি দীর্ঘ ১যুগ  জেলার কর্মকর্তা হয়ে উপজেলায় দায়িত্ব পালনের বিষয়ে প্রশ্ন তুলছিলেন উপজেলা শিক্ষা অফিসের অন্য কর্মকর্তারা। অনেক ভুক্তভোগী শিক্ষক  বলছেন, জাহাঙ্গীর সিন্ডিকেটের সঙ্গে বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কয়েকজন প্রধান শিক্ষক জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। তাঁদের নিয়োগ কমিটিতে মহাপরিচালকের (ডিজি) প্রতিনিধি দেখানো হত। আর এসব অভিযোগ অস্বীকার করতেন জাহাঙ্গীর আলম।
‎জাহাঙ্গীর আলমকে নিয়ে  গত বছর ১৪ আগস্ট২০২৩ জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন দোয়ারাবাজার উপজেলার ঘিলাছড়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি মোশাহীদ আলী। এতে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নিয়োগকৃত এক প্রধান শিক্ষকের এমপিওভুক্তিতে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করার অভিযোগ আনা হয়েছিল  জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে। এছাড়া গত ২০২৩ইংরেজী বছরের ২৩ মার্চ শাল্লার প্রতাপপুর পাবলিক উচ্চবিদ্যালয়ে পরিচ্ছন্নতাকর্মী পদের প্রার্থী গোপেশ চন্দ্র দাস ঘুষ ও অনিয়মের মাধ্যমে অবৈধ নিয়োগের অভিযোগ দিয়েছেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) সিলেট অঞ্চলের উপপরিচালক বরাবর। পরে  জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে আদালতে দুটি মামলা করেছিলেন শাল্লার চয়নিকা তালুকদার ও তাহিরপুরের ছিদ্দিকুর রহমান। তাঁরা গিরিধর উচ্চবিদ্যালয় ও বালিজুরি হাজি এলাহী বক্স উচ্চবিদ্যালয়ে ঘুষ নিয়ে কর্মচারী নিয়োগের অভিযোগ তুলেছিলেন জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে। দুটি মামলা তৎকালীন  চলতি বছরের। আরও বাকি তিনটি মামলা হয়েছে ২০২২ সালে জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে । এছাড়াও ২০২২ সালের ১৭ মে ধর্মপাশার জয়শ্রী উচ্চবিদ্যালয়ের বিভিন্ন পদে তিনজনকে নিয়োগ দেয় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। স্বাক্ষর ও সিল জালিয়াতির মাধ্যমে ওই নিয়োগ হয়েছে বলে তখন অভিযোগ তোলেন তৎকালীন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আবু তাহের মো. কামরুল হাসান। তিনি তখন জাহাঙ্গীরের সংশ্লিষ্টতার কথা উল্লেখ করে লিখিত আকারে অভিযোগ মাউশি সিলেটের উপপরিচালক জাহাঙ্গীর কবীর আহাম্মদের কাছে জমা দিয়ে নিয়োগ বাতিলের ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। জেলা শিক্ষা অফিসের সূত্রে আরও জানা যায়, অভিযুক্ত হওয়ার পরও জয়শ্রী উচ্চবিদ্যালয়ের ওই ঘটনা তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় জাহাঙ্গীর আলমকে। ২০২২ ইং সালের ৩০ অক্টোবর মাউশি সিলেটের উপপরিচালক জাহাঙ্গীর কবীর আহাম্মদ স্বাক্ষরিত আদেশে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়। তদন্ত কর্মকর্তা (জাহাঙ্গীর) নিয়োগপ্রাপ্ত তিন কর্মচারীর এমপিও দেওয়ার সুপারিশ করেন। একই বিষয়ে তৎকালীন  চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ সালে পুনরায় তদন্তের জন্য দুই সদস্যের কমিটি গঠন করেছিলেন মাউশির মহাপরিচালক। তখন কমিটির সদস্যরা ছিলেন মাউশি সিলেটের পরিচালক আব্দুল মান্নান খান ও উপপরিচালক জাহাঙ্গীর কবীর আহাম্মদ।
‎এসময়  আব্দুল মান্নান খান মৌখিকভাবে জানান, তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।
‎এঋাড়াও ধর্মপাশার তৎকালীন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (বর্তমানে রাঙামাটির ননিয়ারচরে কর্মরত) আবু তাহের মো. কামরুল হাসান বলেন, ‘নিয়মনীতি বহির্ভূতভাবে আমার সিল ও স্বাক্ষর জালিয়াতি করে তিনজন কর্মচারী নিয়োগ দিয়েছে একটি চক্র। এর সঙ্গে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, সভাপতি ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম জড়িত। বিষয়টি জানার পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ দেওয়া হয়। এর পরিণামে (জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা) পার্বত্য জেলায় বদলি করেন তাকে। মামলা ও অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সুনামগঞ্জ জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘সব অভিযোগ মিথ্যা, ভিত্তিহীন। একটি পক্ষ আমাকে ফাঁসানোর জন্য প্রতিহিংসামূলক এসব করছে। কোনো নিয়োগের সঙ্গে জড়িত নই বলে দাবী করতেন। তিনি আরও বলতেনত তাদের ফাইলগুলো উপজেলা থেকে আসে জেলায়। পরে ঢাকায় ফরওয়ার্ড করতেন এবং সব সিদ্ধান্ত ঢাকা থেকে হতো। তখন মাউশি সিলেটের উপপরিচালক জাহাঙ্গীর কবীর আহাম্মদ বলেন, জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হওয়ার বিষয়টি তাঁর জানা নেই। তবে প্রতাপপুর পাবলিক উচ্চবিদ্যালয়ে চাকরিপ্রত্যাশীর অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে। বাকি অভিযোগের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলে ও প্রমাণিত হলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়াও সুনামগঞ্জ কয়েকটি হাই স্কুলের গরীব পিয়নদের স্বাক্ষর জাল করে প্রশিক্ষণ ভাতা আত্মসাৎ করেন ঐ শিক্ষা অফিসার জাহাঙ্গীর আলম। দীর্ঘ ১যুগ পর নানান অভিযোগে অভিযুক্ত সুনামধন্য দূর্নীতিবাজ শিক্ষা অফিসারের বদলীর খবর পেয়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেক শিক্ষক বৃন্দ ও ভূক্তভোগীরা। ##

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © natunbazar24.com
Developed by: A TO Z IT HOST
Tuhin