
মোঃ দেলোয়ার হোসেন বাবু,
জয়পুরহাট জেলা স্টাফ রিপোর্টার।।
জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার জিন্দারপুর ইউনিয়নের বেগুনগ্রাম চৌধুরী পাড়ায় মাত্র ৬৫০ টাকা চুরির অভিযোগে এক শিশুকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের ঘটনা স্থানীয়ভাবে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। নির্যাতনের শিকার সিয়াম চৌধুরী (১৩), একজন এতিম শিশু। সে স্থানীয় একটি মাদ্রাসার আলিয়া বিভাগের সপ্তম শ্রেণীর ছাত্র।
অভিযোগ রয়েছে, গত শনিবার রাত আনুমানিক ১১টার দিকে নিজ ঘরে ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় সিয়ামকে তার চাচা সালাউদ্দিন রানুসহ পরিবারের কয়েকজন সদস্য জোর করে ঘর থেকে বাইরে নিয়ে যায়। পরে তাকে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে বেধড়ক মারধর করা হয়। শুধু তাই নয়, তাকে কারেন্ট শক দেওয়ার মতো অমানবিক নির্যাতনেরও চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত হিসেবে সালাউদ্দিন, রানু ও মিলি আক্তার-এর নাম উঠে এসেছে।
শিশুটির পরিবার জানায়, সিয়ামের বাবা বাহারুল ইসলাম বাকপ্রতিবন্ধী হওয়ায় ছেলেটি দীর্ঘদিন ধরে অসহায় অবস্থায় জীবনযাপন করছে। ঘটনার সময় তিনি বাড়িতে ছিলেন না। পরে বাড়িতে ফিরে এসে ছেলেকে উদ্ধার করে ঘরে নিয়ে যান। কিন্তু পরদিন শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তার নানি আঞ্জুয়ারা বেগম তাকে দ্রুত ক্ষেতলাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান।
মঙ্গলবার কিছুটা সুস্থ হলে সিয়াম নিজেই কালাই থানায় উপস্থিত হয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে।
শিশুটির নানি আঞ্জুয়ারা বেগম বলেন,
“আমার মেয়েকে আগেই এই বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল। এখন নাতি-নাতনিদেরও তারা নির্যাতন করছে।”
সিয়ামের বড় বোন সুমাইয়া আক্তার স্বর্ণা (১৫) বলেন,
“আমরা এতিম। মা নেই, বাবা বাকপ্রতিবন্ধী। চাচারা আমাদের বাবার সম্পত্তির লোভে আমাদের ওপর নির্যাতন করে। আমাদের ন্যায্য অধিকার থেকেও বঞ্চিত করা হচ্ছে। পরিবার থেকে আলাদা করে রাখার চেষ্টা চলছে। দুই বছর আগে আমার ভাই বাবার কাছে আসার পর থেকেই তার ওপর নির্যাতন করা হচ্ছে, যাতে সে এখানে থাকতে না পারে। আমরা এই ঘটনার সঠিক বিচার চাই।”
এ বিষয়ে কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন,
“আমরা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অন্যদিকে অভিযুক্ত রানু আংশিকভাবে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন,
“আমি মারিনি, তবে আমার বড় ভাই তাকে বেত দিয়ে মেরেছে। ভয় দেখানোর জন্য কারেন্ট শক দিতে চেয়েছিল।”
টাকা চুরির প্রসঙ্গে অভিযুক্ত সালাউদ্দিন সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন,
“সে প্রায়ই টাকা চুরি করে। এবার হাতেনাতে ধরা হয়েছে, তাই ভাতিজা হওয়ায় তাকে শাসন করেছি।”
তবে শিশু অধিকার সচেতন মহল বলছে, কোনো অভিযোগ থাকলেও শিশুকে এভাবে নির্যাতন করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ, এবং দ্রুত দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে স্থানীয়রা।
মোঃ দেলোয়ার হোসেন বাবু
জয়পুরহাট জেলা স্টাফ রিপোর্টার।।