
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
গোপালগঞ্জের সাংবাদিকেরা ফিলিং স্টেশন থেকে তেল নিয়ে তা বিক্রি করে দেয়, জনসমক্ষে এমন মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর কথা বলেছেন, ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের গোপালগঞ্জ বেদগ্রাম মিতা ফিলিং স্টেশনের স্বত্বাধিকারী শেখ মাসুদুর রহমান।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাত আনুমানিক ৮ টার দিকে তিনি এ কথা বলেন। উল্লেখ্য, জনৈক এক সাংবাদিক কোথাও জ্বালানি তেল না পেয়ে নিরুপায় হয়ে গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) ফারিহা তানজিনের সহযোগিতা কামনা করেন, পরে তিনি পাম্পের মালিক শেখ মাসুদুর রহমান মাসুদকে মুঠোফোনে জ্বালানি তেল না পাওয়া ওই সাংবাদিককে পেট্রোল দেওয়ার কথা বলেন, পরবর্তীতে সেই সাংবাদিক মিতা ফিলিং স্টেশনে তেল আনতে গেলে সমগ্র সাংবাদিকদের সম্পর্কে এই মিথ্যা ও কটূক্তি মূলক কথা বলেন শেখ মাসুদুর রহমান মাসুদ। এসময় তিনি নিজেকে গোপালগঞ্জের বড়ো সাংবাদিক বলে পরিচয় দেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, শেখ মাসুদুর রহমান মাসুদ সাধারণ একজন স্কুল শিক্ষকের সন্তান। বেদগ্রামের রব মাস্টার ছেলে তিনি। বর্তমানে তিনি জাসদের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি, একাধিক রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার আসামী হাসানুল হক ইনু’র কমিটির গোপালগঞ্জ জেলার সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি শেখ লিপুর হাত ধরে ঠিকাদারী ও গোপালগঞ্জ সমবায় সমিতি থেকে অবৈধভাবে হাতিয়ে নিয়েছে শতকোটি টাকা। তা ছাড়া, তিনি গোপালগঞ্জ জেলার সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিক সিকদার ও সাবেক মেয়র কাজী লিয়াকত আলী লেকুর ব্যবসায়িক পার্টনার।
জানা যায়, তিনি, বহুবছর আগে দৈনিক জনতা নামক একটি পত্রিকার কার্ডধারী একজন সাংবাদিক ছিলেন। এক সময়ে তিনি প্রেসক্লাবের সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। সেই সময়কার প্রেসক্লাব ছিলো একটি বাণিজ্যিক ও পকেট সংগঠন। তিনি এই মিতা ফিলিং স্টেশন করার জন্য শহর সংলগ্ন বেদগ্রাম মোড়ের একটি দামি জায়গা সরকারের কাছ থেকে লিজ নেয়। ফিলিং স্টেশনের পাশাপাশি তিনি ঐ জায়গার চার পাশ দিয়ে অবৈধভাবে মার্কেট করে ভাড়া দিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছেন প্রতি মাসে লক্ষ লক্ষ টাকা। বিগত সরকারের আমলে ১৪ দলীয় নেতা হিসেবে পরিচিত ছিল সে। এরই সুবাদে তিনি জেলা মুক্তিযোদ্ধা ব্যবসায়িক একটি বড় রুম তার নামে বরাদ্দ নিয়ে গোপালগঞ্জ জেলা জাসদের কার্যালয় করেন। বর্তমানে তা চলমান। তিনি বিগত সরকারের আমলে তাদের দোসর হিসেবে হিসাব ছাড়া অর্থ কামিয়েও বর্তমানে বুক ফুলিয়ে চলা ফেরা করে বেড়াচ্ছে। ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগে সরকারের পতনের পর গোপালগঞ্জের বহু সাধারণ মানুষ হামলা-মামলা ও জেল হাজত এড়াতে পারে নাই। কিন্তু এই শেখ মাসুদুর রহমান অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছে কিভাবে? কার হাত ধরে প্রকাশ্যে বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে? এর খুঁটির জোর কোথায়?
সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন মনগড়া কথার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান জেলার বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় বেশ কয়েকজন সাংবাদিকদের জানান ডিপো থেকে তেল লোড করে ফেরার পথে এবং রাতের আঁধারে তার নির্দেশে পাম্পের ম্যানেজার সহ কর্মচারীরা অবৈধভাবে বেশি মূল্যে তেল বিক্রি করে দেন। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখলেই এর সত্যতা পাওয়া যাবে।
বর্তমান জ্বালানি তেল সংকট নিরসনে জেলা প্রশাসন নিরলস ভাবে কাজ করে চলেছে। অথচ কতিপয় অসাধুচক্র প্রশাসন তথা সরকারকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলার জন্য জ্বালানি তেল নিয়ে এমন কার সাজি করছে। তাই উপরোক্ত সকল বিষয়াদি নজরে এনে মিতা ফিলিং স্টেশন সহ অসাধু পাম্প মালিকদের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্তের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপে কামনা করেছেন সাংবাদিক সহ সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ।