
মোঃ শহীদুল ইসলাম, বিশেষ প্রতিবেদকঃ চট্টগ্রামের মধ্যম পাড়া একতা সংঘের উদ্যোগে ২য় বারের মতো আয়োজিত দিবারাত্রি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা জমকালো ও উৎসবমুখর পরিবেশে ৬ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে সম্পন্ন হয়েছে। স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং দর্শকদের ব্যাপক উপস্থিতিতে পুরো আয়োজনটি রূপ নেয় এক প্রাণবন্ত ক্রীড়া উৎসবে। দিনব্যাপী টানটান উত্তেজনার পর ফাইনাল ম্যাচে প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা লক্ষ্য করা যায়।
৬ এপ্রিলের ফাইনাল ডে আয়োজনে সকাল থেকে প্রীতি ও বাছাইভিত্তিক ম্যাচের মাধ্যমে খেলার সূচনা হয়, বিকেলে অনুষ্ঠিত হয় সেমিফাইনাল পর্যায়ের জমজমাট লড়াই এবং রাতের আলো ঝলমলে পরিবেশে গ্র্যান্ড ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। খেলা শেষে পুরস্কার বিতরণ ও সমাপনী আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।
খেলার প্রতিটি মুহূর্তে দর্শকদের উচ্ছ্বাস, করতালি ও সমর্থনে মাঠজুড়ে তৈরি হয় এক ব্যতিক্রমধর্মী পরিবেশ। এ ধরনের আয়োজন স্থানীয় ক্রীড়াঙ্গনে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টির পাশাপাশি তরুণদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে ভূমিকা রাখছে। উক্ত ফাইনাল খেলায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অত্র এলাকার সাবেক কাউন্সিলর নুরুল আবছার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জসীম উদ্দিন মিল্কি, জিয়াউর রহমান মিয়া ও কাজি জিয়া উদ্দিন সোহেল।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ওসমান, ইকবাল ও শাহীন মুরাদসহ এলাকার অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। অতিথিরা তাদের বক্তব্যে বলেন, যুব সমাজকে মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই। তারা আরও বলেন, নিয়মিত ক্রীড়া আয়োজন তরুণ সমাজকে সুস্থ ধারায় পরিচালিত করে এবং সামাজিক বন্ধন সুদৃঢ় করে। খেলা শেষে বিজয়ী দলের হাতে ট্রফি তুলে দেন অতিথিবৃন্দ, যা উপস্থিতদের মাঝে আনন্দঘন মুহূর্ত সৃষ্টি করে। মধ্যম পাড়া একতা সংঘের নেতৃবৃন্দের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলাপূর্ণভাবে পুরো আয়োজনটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়। স্থানীয়রা আশা প্রকাশ করেন,
ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে। তারা মনে করেন, এ ধরনের উদ্যোগ তরুণ প্রজন্মকে ক্রীড়ামুখী করে তোলার পাশাপাশি সমাজকে ইতিবাচক ধারায় এগিয়ে নিতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে এ আয়োজন স্থানীয় পর্যায়ে সামাজিক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
সার্বিকভাবে টুর্নামেন্টটি একটি সফল, সুশৃঙ্খল ও প্রশংসনীয় আয়োজন হিসেবে ইতোমধ্যে সবার কাছে সমাদৃত হয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ পরিসরে এমন আয়োজনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন এলাকাবাসী। এই উদ্যোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় ক্রীড়াচর্চা আরও বিস্তৃত হবে বলেও মনে করছেন সচেতন মহল।