
আলিফ হোসেন,তানোরঃ
রাজশাহীর তানোরের সীমান্তবর্তী নওগাঁ-৪ (মান্দা) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হয়ে ডাঃ ইকরামুল বারী টিপু প্রথমবারেই বিপুল ভোটের ব্যবধানে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে নিজের গ্রহণযোগ্যতা ও জনপ্রিয়তার প্রমাণ দিয়েছেন।তৃণমুল থেকে উঠে আশা এই রাজনৈতিক নেতা অন্যদের কাছে রোল মডেল হয়ে উঠেছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দলের ভিতর এবং বাইরের নানা ষড়যন্ত্র, অপপ্রচার, প্রতিহিংসা ও গুজবের বহু অন্ধকার গলিতেও তিনি পথ হারাননি এবং গতানুগতিক রাজনীতির স্রোতে গা ভাসিয়ে দেননি।নিজস্ব, স্বকীয়তা ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন অমায়িক ব্যবহার ও প্রচণ্ড সাহসী নেতৃত্বের লৌহমানব এই তরুণ ছাত্র রাজনীতির সীমানা অতিক্রম করে ধীরে ধীরে মান্দার গণমানুষের আকাঙ্ক্ষার পুরুষে হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তার প্রতি সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসার যে বহিঃপ্রকাশ তাতে তিনি না চাইলেও মান্দার মানুষ তাকেই তাদের নেতা হিসেবে বেছে নিয়েছে, এখানে তার কোনো বিকল্প নাই। কারণ সাধারণ মানুষের নিখাদ ভালবাসার চেয়ে বড় কোন শক্তি নাই। মান্দার মাটি এবং মানুষের কাছে আদর্শিক,পরিক্ষীত,কর্মী ও জনবান্ধব নেতৃত্ব ডাঃ ইকরামুল বারী টিপু এমপি।
জানা গেছে,আদর্শিক ও বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী ডা, একরামুল বারী টিপু এমপি।
বিগত ১৯৯৩ সালে মান্দা মমিন শাহানা ডিগ্রি কলেজে ছাত্রদল গঠনের মধ্যে দিয়ে মান্দা উপজেলায় বিএনপি’র রাজনীতি শুরু করেছিলেন টিপু। তার হাতে তৈরি করেছেন শতশত আদর্শিক নেতা ও কর্মী-সমর্থক। অনেকের কর্মসংস্থান করে দেবার জন্য করেছেন আপ্রাণ চেষ্টা, কখনো সফল হয়েছেন আবার কখানো হয়তো হোঁচট খেয়েছেন। প্রসাদপুর বাজারে জিগাতলা মোড়ে শুরু করেছিলেন মান্দা ক্লিনিক, রোগী দেখতেন ১০ থেকে ২০ টাকায় এবং দরিদ্রদের ফ্রি ভিজিটে। তখন মান্দা কলেজ থেকে প্রসাদপুরে আসার জন্য আজকের মত এত পরিপাটি রাস্তাঘাট ছিল না। ফেরিঘাট এসে নৌকায় চড়ে প্রসাদপুর বাজারে আসতে হতো নয়তো হেয়ারিং রাস্তা দিয়ে ভ্যানে বা বাইসাইকেলে। এমন প্রতিকুল পরিবে
ডাঃ টিপু তাঁর লোকজন নিয়ে প্রায়ই কলেজে গিয়ে কলেজ ছাত্রদের সঙ্গে মিছিল করে ছাত্রদলের কমিটি গঠন করে দেন। উপজেলা ছাত্রদল কমিটি গঠন, যুবদল গঠন এরপর হাত দেন মান্দা উপজেলা বিএনপি পুনর্গঠনে। এভাবে পথ চলা মানুষটি নিজেকে নিয়ে ভাবার সময়টিও পার করে দেন। তার মাঝেই ১৭তম বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে মেধার স্বাক্ষর রাখেন এবং অর্জন করেন ১ম শ্রেণির ক্যাডার কর্মকর্তার। ১ম কর্মস্থল নিয়ামতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্রেক্স।তার পূর্বে সিসিডিবির মেডিক্যাল কর্মকর্তা হিসেবেও তিনি কয়েক মাস চেম্বার করেন। আজব চরিত্রের মানুষ ডাঃ টিপু,কারন মানুষ ডাক্তার হওয়ার জন্য এবং ডাক্তারি পড়ার জন্য পলিটিক্স করেন আর তিনি রাজনীতির জন্য এগুলো পরিত্যাগ করেছেন।সোনার হরিণ ১ম শ্রেণির চাকরি ছেড়ে দিয়ে যে মানুষ নিজের সুখ স্বাচ্ছন্দ্য বিসর্জন দিয়ে যৌবনে বিলাসিতার তোয়াক্কা না করে জেল, জুলুম ঝড়,বৃষ্টি, রোদ,করোনা মহামারি সব কিছু উপেক্ষা করে মান্দার মানুষের পাশে থাকার এক অদম্য প্রাণ শক্তি নিয়ে দীর্ঘ ৩২ বছরের সাধনার পূর্ণতা অর্জন করে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে আজ তাঁর কাঙ্খিত ও প্রত্যাশিত স্থান মহান জাতীয় সংসদে সংসদ সদস্য হিসেবে প্রবেশ করেন।
সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ডাঃ ইকরামুল বারী টিপু এমপি। তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজে অধ্যয়নকালে ছাত্রদলের রাজনীতি করেন। তিনি সব সময় বিএনপির মুল ধারায় থেকে রাজনীতি করে যাচ্ছেন। তিনি কখানো কোনো লোভ-লালসার স্রোতে গা-ভাসিয়ে দেননি। এখানো দলকে সুসংগঠিত, সাংগঠনিক কর্মকান্ড জোরদার ও নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। ১৯৯৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে দল তাকে মনোনয়ন দেয়ার আগ্রহ দেখালেও তিনি তা গ্রহণ না করে সিনিয়র নেতৃত্বের প্রতি সম্মান দেখিয়ে সামসুল আলম প্রামাণিককে মনোনয়ন দেয়ার জন্য সুপারিশ করেছিলেন। স্থানীয়রা জানান, বিএনপির মান্দা উপজেলা শাখার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন কালে তার প্রচেষ্টায় ১৯৯৬-২০০১ সাল পর্যন্ত দুইবার সামসুল আলম প্রামাণিক এমপি নির্বাচিত হন।
মান্দায় বিএনপির রাজনীতিতে টিপু এমপির কোনো বিকল্প নাই।ইতোমধ্যে টিপুকে ঘিরে মান্দা বিএনপির রাজনীতিতে বইছে ঐক্যের হাওয়া একই সঙ্গে নেতা ও কর্মী-সমর্থকেরা রয়েছে ফুরফুরে মেজাজে।স্থানীয়রা টিপুর আহবানে সাড়া দিয়ে তৃণমুলের নেতা এবং কর্মী-সমর্থকেরা উঠান বৈঠক, কর্মীসভার মাধ্যমে নেতাকর্মীদের চাঙা ও দলীয় কর্মকান্ড জোরদার করেছে। এতে মান্দা-৪ আসনে দীর্ঘ প্রায় দেড় দশক পর টিপুর এমপির নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ বিএনপির রাজনীতিতে নাটকীয় পরিবর্তন দেখা গেছে। এতে দীর্ঘদিন পর বিএনপির রাজনীতিতে ফিরে এসেছে প্রাণচাঞ্চল্য।
জানা গেছে, মান্দা উপজেলা বিএনপির সম্পাদক হিসেবে এবং নওগাঁ জেলা বিএনপি’র যুগ্ম-সম্পাদক হিসেবে দুই বার দায়িত্ব পালন করছেন ডাঃ ইকরামুল বারী টিপু এমপি। তিনি নওগাঁ জেলা শাখার ডক্টরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)’র সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। ২০০৯ সালে তিনি বিপুল ভোটে মান্দা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন।
বিগত ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ডাঃ টিপু দ্বিতীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনীত ছিলেন। এখানো তিনি চিকিৎসক হিসেবে সাধারণ মানুষের পাশে থেকে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবাসহ নানামুখী সেবা করে যাচ্ছেন। করোনাকালীন সময়ে তিনি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাধারণ মানুষের জন্য সেবা করে গেছেন। এদিকে উপজেলা চেয়ারম্যান থাকাকালে তিনি এলাকায় সীমিত সুযোগের মধ্যেও আশাব্যঞ্জক উন্নয়নমূলক কাজ করে সাধারণ মানুষের সুনাম অর্জন করেছেন। এর স্বীকৃতি স্বরুপ তিনি রাজশাহী বিভাগের শ্রেষ্ঠ উপজেলা চেয়ারম্যানের সম্মাননা পেয়েছিলেন।#