
খলিলুর রহমান খলিল, নিজস্ব প্রতিনিধ:
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে আর্থিক দেনা পাওনা নিয়ে তর্ক-বিতর্কের ঘটনাকে পূর্বের ভিন্ন ও মিমাংসিত ঘটনার পুনরাবৃত্তি দেখিয়ে উদ্দেশ্যমুলক হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। গত (৫ মার্চ) উপজেলার ১নং বড়ভিটা ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের চেয়ারম্যান পাড়া এলাকায় আর্থিক দেনা পাওনা নিয়ে তর্ক-বিতর্কের ঘটনাকে ভিন্ন ভাবে প্রভাবিত করতে মোস্তাকিম নামের ব্যক্তি নিজের শরীর (হাতের বাহুর নীচের অংশ) কেটে হাসপাতালে ভর্তি হয় এবং স্থানীয় একাধিক ব্যক্তিকে দিয়ে মিথ্যে স্বাক্ষী গ্রহণের চেষ্টা করেন মর্মে তথ্য পাওয়া গেছে। উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের মো. আমিনুর রহমানের ছেলে মোস্তাকিম কর্তৃক এমন ঘৃণ্য কাজের শিকার হন একই এলাকার বাসিন্দা মো. আব্দুল কাদের দয়াল। তারা পারিবারিক ভাবে পারস্পরিক চাচাতো ভাই।
স্থানীয় ভাবে জানা গেছে, গত ৬-৭ মাস আগে পারিবারিক ভাবে চাচাতা বোনের সাথে দয়ালের প্রেমের সম্পর্ককে ইভটিজিং দেখিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসে লিখিত অভিযোগ করা হলে স্থানীয় ভাবে তা মিমাংসা করা হয়। পারিবারিক সুসম্পর্কের মধ্যদিয়ে দয়ালের বাবা বাদি হয়ে স্থানীয় প্রতিপক্ষের কাছ থেকে পৈতৃক অংশীদারিত্বমুলক জমি উদ্ধার করেন এবং অংশ ভিত্তিক ভাগাভাগি করে নেন। এতে অংশীজন হিসেবে মোস্তাকিমের বাবা সহ আরো অংশীদারের কাছে জমি উদ্ধার কাজে ব্যয় হওয়া টাকার অংশ ভিত্তিক টাকা =২৬০০০/-(ছাব্বিশ হাজার) চাইতে গিয়ে তাদের মধ্যে বিবাদ হয়।
ভুক্তভোগী দয়াল ও তার পরিবারের দাবি, গত বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) দয়াল পারিবারিক সম্পর্কে বড় মা (নাম মাছি) এর কাছে পাওনা টাকা চাইতে যায়। এতে একই বাড়ীতে বসবাসকারী মো. আমিনুর রহমানের ছেলে মোস্তাকিম দয়ালের সাথে মারমুখি আচরণ করে। এতে দুজনের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি হলেও ঘটনা সেখানেই মিটে যায়। পরে দয়ালের পরিবার জানতে পারে মোস্তাকিম তার হাতের বাহু কেটে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। পরে আরো জানতে পারে দয়াল ও তার পরিবারের পাঁচ সদস্যকে আসামী করে নাটকীয় ভাবে মোস্তাকিমের চাচি রেনুফা বেগমকে বাদি করে ১১/০৩/২৬ইং থানা মিথ্যে মামলা করেছে। মামলা নং-১৫। মামলার ঘটনা সত্য নয় বলে তারা দাবি করেন।
অপরদিকে মোস্তকিমের বক্তব্য ও এজাহার সূত্রে দেখা যায়, মোস্তাকিম তার চাচাতো বোনকে ইভটিজিং কারার অভিযোগে দয়ালকে নিষেধ করতে গিয়ে বিবাদ সৃষ্টি হয় এবং পরবর্তীতে পরিকল্পিত ভাবে তাদের উপর আক্রমণ করা হয় বলে সাংবাদিকদের জানান। তবে স্থানীয় অনেকের দেয়া তথ্য এবং টাকার লোভ দেখিয়ে স্বাক্ষী দেওয়ানোর চেষ্টা করা ভিডিও বক্তব্য অনুযায়ী মামলাটি মিমাংসিত ঘটনার পুনরাবৃত্তি দেখিয়ে উদ্দেশ্যমুলক হয়রানি বলে মনে করছেন অনেকে।
থানা পুলিশের উপ পরিদর্শক ইব্রাহিম মোল্লা বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমরা তদন্ত করছি, আশা করি চলতি সম্পাহের মধ্যে চারশিট দাখিল করা হবে। এবিষয়ে তদন্ত শেষ হলে প্রকৃত বিষয়টি উঠে আসবে।