
দয়াল ডিসি রায় দিনাজপুর সংবাদদাতা//
দিনাজপুর জেলার কাহারোল উপজেলার ৬নং রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের বলরামপুর সাহাপাড়ায় দেশব্যাপী নদী-নালা, খাল ও জলাধার খনন এবং পুনঃখনন কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান। সোমবার (১৬ মার্চ) আয়োজিত এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিপুল সংখ্যক স্থানীয় জনগণ, রাজনৈতিক নেতাকর্মী, জনপ্রতিনিধি, কৃষক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে এই উন্নয়ন কর্মসূচির উদ্বোধন ঘোষণা করেন। এ সময় তিনি নিজ হাতে খাল কেটে দেশব্যাপী নদী-নালা, খাল ও জলাধার খনন ও পুনঃখনন কার্যক্রমের সূচনা করেন। প্রধানমন্ত্রীর এমন প্রতীকী উদ্বোধনকে ঘিরে উপস্থিত সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়।
উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, দেশের কৃষি উন্নয়ন, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় নদী-নালা ও খাল পুনঃখনন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে ভরাট হয়ে থাকা খাল, নদী ও জলাধারগুলো পুনরুদ্ধার করা গেলে কৃষি উৎপাদনে নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হবে এবং জলাবদ্ধতার মতো দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধান সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হচ্ছে কৃষি। কৃষিকে আরও শক্তিশালী করতে হলে পানি ব্যবস্থাপনা উন্নত করা অপরিহার্য। নদী-নালা ও খাল পুনঃখননের মাধ্যমে সেচ ব্যবস্থা সহজ হবে, কৃষকের উৎপাদন খরচ কমবে এবং ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে গ্রামীণ অর্থনীতি আরও গতিশীল হবে এবং দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার দেশের প্রতিটি অঞ্চলের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। কৃষক ও সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। নদী-নালা, খাল ও জলাধার খনন কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, পানি সংরক্ষণ এবং পরিবেশ সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী মির্জাফখরুল ইসলাম আলমগীর। মন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মনজুরুল ইসলাম এবং দিনাজপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও হুইপ আক্তারুজ্জামান মিয়া।
বিশেষ অতিথিদের বক্তব্যে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে এলাকার অনেক খাল ও জলাধার ভরাট হয়ে যাওয়ার কারণে কৃষকরা সেচ সংকট ও জলাবদ্ধতার সমস্যায় ভুগছিলেন। এই খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে সেই সমস্যাগুলোর সমাধান হবে এবং কৃষি উৎপাদনে নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হবে।
বক্তারা আরও বলেন, খাল খননের ফলে বর্ষা মৌসুমে জমে থাকা পানি দ্রুত নিষ্কাশন হবে এবং শুষ্ক মৌসুমে কৃষকরা সহজেই সেচ সুবিধা পাবেন। এতে করে ধান, গম, ভুট্টা, সবজি ও অন্যান্য ফসল উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী হবে এবং কৃষকদের জীবনমান উন্নত হবে।
স্থানীয় কৃষক ও বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে এলাকার খালগুলো ভরাট হয়ে যাওয়ায় বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচ সংকট দেখা দিত। সরকারের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে কৃষি উৎপাদনে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে এবং এলাকার কৃষকরা ব্যাপকভাবে উপকৃত হবেন।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, সাংবাদিকসহ বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। উন্নয়নমূলক এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে স্থানীয় জনগণ সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং দ্রুত ও সুষ্ঠুভাবে প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।