
দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি:
দোয়ারাবাজার উপজেলার টেংরা–আলীপুর সড়কে খাসিয়ামারা নদীর উপর নির্মাণাধীন ৭৫ মিটার দৈর্ঘ্যের গার্ডার ব্রিজ ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরলেও নদীতীর সংরক্ষণ নিয়ে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ। নদীর ভাঙন রোধে স্থাপন করা জিও ব্যাগের সুরক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগের পাশে বল্লি গাড়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
সোমবার (২ রা মার্চ) দুপুরে সরেজমিনে উপস্থিত হলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে খাসিয়ামারা নদীর ভাঙনে টেংরা ও আলীপুর এলাকার বিস্তীর্ণ অংশ ঝুঁকির মুখে ছিল। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে নদীর স্রোত তীব্র আকার ধারণ করলে সড়ক ও আশপাশের বসতবাড়ি হুমকির সম্মুখীন হয়। এ প্রেক্ষাপটে টেংরা–আলীপুর সড়কে ৭৫ মিটার গার্ডার ব্রিজ নির্মাণ কাজ শুরু হওয়ায় জনমনে স্বস্তি ফিরে আসে।
তবে নদীর তীর সংরক্ষণে ইতোমধ্যে যে জিও ব্যাগ স্থাপন করা হয়েছে, তা সঠিকভাবে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজনীয় বল্লি গাড়া হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তাদের দাবি,
নদীর তীর সংরক্ষণের জন্য যে জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে সে গুলো রক্ষার জন্য বল্লি বা বাঁশের খুটি পুঁতে দেওয়া জরুরী। অন্যথায় পাহাড়ি ঢলের শুরুতেই জিও ব্যাগ গুলো সরে যাবে। ফলে রাষ্ট্রিয় টাকার ক্ষতি সহ ব্রীজ ও আলীপুর বাজারের বিরাট ক্ষতি হবে। এ ছাড়া ব্রীজের দুই পার্শ্বের এ্যাপ্রোচের কাজ টি যেন দ্রুত সম্পন্ন হয় এ বিষয়ে এলাকা বাসীগণ কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান,ব্রিজ নির্মাণ একটি অত্যন্ত ইতিবাচক উদ্যোগ। কিন্তু নদীর পাড় ঠিকমতো সংরক্ষণ না করলে ভবিষ্যতে সড়ক ও ব্রিজ দুটিই ঝুঁকিতে পড়বে। তাই দ্রুত বল্লি বা বাঁশের খুটি গাড়ার ব্যবস্থা নিতে হবে।”
এলাকাবাসীর দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত সরেজমিন পরিদর্শন করে জিও ব্যাগ সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করুক। তারা মনে করেন, এখনই যথাযথ ব্যবস্থা নিলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হবে।
উল্লেখ্য, টেংরা–আলীপুর সড়কটি স্থানীয় যোগাযোগ ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ব্রিজটি নির্মিত হলে দোয়ারাবাজার উপজেলার বিভিন্ন এলাকার সঙ্গে যোগাযোগ আরও সহজ হবে এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আসবে বলে প্রত্যাশা করছেন স্থানীয়রা।
এব্যাপারে নুরপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও আলীপুর গ্রামের বাসিন্দা মশিউর রহমান মাস্টার বলেন, খাসিয়ামারা নদীর উপর আলীপুর ব্রীজের এ্যাপ্রোচ ও নদীর তীর সংরক্ষণে যে, জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে তা সঠিক ভাবে হয়নি। এছাড়াও জিও ব্যাগ রক্ষার জন্য বল্লি অথবা বাঁশের খুটি শক্ত করে গাড়লে জিও ব্যাগ রক্ষা হতো, তা না হলে পাহাড়ি ঢলের শুরুতেই ভেসে যাবে জিও ব্যাগ। বিরাট ক্ষতি সম্ভাবনায় ব্রীজ ও আলীপুর বাজার।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আলীপুর বাজার ব্যবসায়ী জানান, পাহাড়ি ঢল আসার পূর্বেই জিও ব্যাগের নিচে বল্লি বা বাঁশের খুটি গাড়া প্রয়োজন। এবং ব্রীজের দুই পাশের এ্যাপ্রোচে মাটি ভরাট না করলে বর্ষা মৌসুমে কাজ করা সম্ভব না।
দোয়ারাবাজার উপজেলার এলজিইডির উপসহকারী প্রকৌশলী জসিম উদ্দিন জানান, আলীপুর ব্রীজের দুই পাশের এ্যাপ্রোচে দুই একদিনের মধ্যে মাটি ভরাটের কাজ শুরু হবে।
জিও ব্যাগ এর বিষয়টি পানিউন্নয়ন বোর্ডের।