
খলিলুর রহমান খলিল, নিজস্ব প্রতিনিধি:
রংপুরের তারাগঞ্জে মাটি চাপা দেওয়া অবস্থায় পল্লী বিদ্যুতের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী মঞ্জুরুল হোসেনের লাশ উদ্ধারের দুইদিন পর তাঁর ব্যবহৃত মটরসাইকেলটি পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) উপজেলার ফায়ার সার্ভিস এলাকার একটি বাগান থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় এটি উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকাল আনুমানিক ৮ টার দিকে একজন ধান চাষী তাঁর ধানখেত দেখতে গিয়ে পাশের একটি বাগানে পরিত্যক্ত অবস্থায় লাল রংয়ের একটি PLATINA 100 মোটরসাইকেল দেখতে পায়। দ্রুতই এ খবর উপজেলা জুড়ে ছড়িয়ে পরে। খবর পেয়ে মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। উদ্ধারকৃত মোটরসাইকেলটি নিহত মঞ্জুরুলের ব্যবহৃত বলে, পরিবারের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করেছে।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বাড়ি থেকে কাজের সন্ধানে বের হয়ে ইলেকট্রিশিয়ান মনজুরুল ইসলাম নিখোঁজ হন। খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে (২৫ ফেব্রুয়ারি) থানায় জিডি করে। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নের ঝাকুয়াপাড়া এলাকার রামপুরা মাজারের পাশের সদ্য উত্তোলন করা আলু ক্ষেত থেকে মাটি চাপা অবস্থায় লাশ উদ্ধার করে থানা পুলিশ।
নিহত মনজুরুল উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নের অনন্তপুর গ্রামের ফরিজ উদ্দিনের ছয় সন্তানের মধ্যে সবার ছোট ছেলে। তিনি পেশায় একজন ইলেকট্রিশিয়ান ছিলেন। তিন ছেলে মেয়ে, স্ত্রী জান্নাতি বেগম এবং অসুস্থ ও বৃদ্ধ মা সহ ছয় সদস্যের সংসারে একমাত্র উপার্জনকারী ছিলেন মঞ্জুরুল। একমাত্র উপার্জন সক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে পরিবারটি আজ দিশেহারা।
মঞ্জুরুলের পারিবারিক অবস্থা- তিন ছেলে মেয়ের মধ্যে মেয়েটি বড় মীম আক্তার(১৪), পড়ালেখা করে উপজেলার কুর্শা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে। মো. রাব্বি(১৩) ৫ম শ্রেণির পর অর্থাভাবে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হতে পারে নাই এবং ছোট জোবাইদ ৪ বছর বয়সি শিশু। মঞ্জুরুলের অসুস্থ মা মানিজা বেগম (প্যারালাইস্ট) কাতরাচ্ছে বিছানায়। অসহায় জান্নাতি বেগম (মঞ্জুরুলের স্ত্রী) নির্বাক, স্বামী হারানো শোক আর জীবন জীবিকার চিন্তায় নিস্তব্ধ।
তারাগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. রুহুল আমিন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। মোটরসাইকেলটি মনজুরুলের ব্যবহৃত, তাঁর পরিবারের লোকজন নিশ্চিত করেছে। আমরা হত্যার সাথে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেফতারে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোনাব্বর হোসেন বলেন, আমরা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কিছু নগত অর্থ ও শুকনা খাবার সহায়তা দিয়েছি। নিহতের সন্তানদের পড়ালেখার বিষয়ে ব্যবস্থা করা হচ্ছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিবারটিকে আর্থিক ভাবে স্বচ্ছল করতে বিভিন্ন ভাতা প্রদান সহ কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে।