
রাজশাহী থেকে মো. হায়দার আলী : নদীর দেশ বাংলাদেশে বর্তমানে নদীর বেহালদশা। শত শত নদী মরে যাচ্ছে, অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাচ্ছে। দেশে জলবায়ুর প্রতিকূল প্রভাব পড়ছে। এখন শুধু ইতিহাসের পাতায় লেখা একটি নদীর নাম ।
এটা কি নদী? বিশ্বাস করা যায় না। পদ্মার সেই খরস্রোত নেই কেন? এমন সব প্রশ্নের জবাব দিতে হচ্ছে একালের শিশু, কিশোর, ছাত্রছাত্রীসহ কোন আগন্তুককে।
এখন পদ্মার কোলে জেগে উঠা চরে সবুজ সবুজের সমাহার ঘটেছে। ইরি-বোরা, খিরা, শষা, পটল, করলা, ভূট্টা,চিনা, পিঁয়াজ, সবজি, মুসরি, ধনিয়া চাষ করেছেন এলাকার কৃষকগণ। এ যেন পদ্মার বুকে জেগে ওঠা সবুজের সমাহার, খুব সুন্দর লাগছে, দেখে মন প্রাণ জুড়িয়ে যাচ্ছে।
সর্বগ্রাসী, প্রমত্তা পদ্মা ও মহানন্দা নদীর বুকে জেগে ওঠা চরগুলোতে কৃষকরা এখন সোনা ফলিয়ে চলেছেন। সমন্বিত পরিকল্পনা ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পেলে কৃষিতে অর্থনীতিতে বিপ্লব ঘটিয়ে নিজেদের ভাগ্য বদলাতে পারে চরাঞ্চলের কৃষকরা। এক্ষেত্রে কৃষি বিভাগকেই প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে বলে মনে করছেন কৃষিবিদ ও প্রবীণ কৃষকরা।
তাদের মতে, প্রতিবছর পদ্মায় জেগে উঠা অসংখ্য চর গুলিতে পলি মিশ্রিত ও দোআঁশ মাটি থাকায় ফসল বিশেষ করে ইরি, ভুট্টা, কাউন, মিষ্টি আলু, পটল, করলা, ঝিঙ্গা, লালমী, ভিন্ডি, তরমুজ ও মিষ্টি কুমড়াসহ কিছু কিছু রবিশস্যের ফলন খুব ভালো হচ্ছে।
সরকারের কৃষি বিভাগ থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ, দিক নির্দেশনা, পরিকল্পনা ও সহযোগিতা দেয়া হলে নদীর বুক চিরে জেগে ওঠা এসব চরে সত্যিকার অর্থেই সোনা ফলানো সম্ভব হচ্ছে । ইতিমধ্যে চরাঞ্চলের কৃষকরা বছরের ৮ মাসই এসব চরে ভুট্টা, কাউন, মিষ্টি আলু, মিষ্টিকুমড়াসহ বিভিন্ন রবিশস্য আবাদ করে চলেছেন।
উপজেলা কৃষি অফিসার মরিয়ম আহম্মেদ, বলেন, পদ্মায় জেলে উঠা চরে কৃষি বিভাগরে পরামার্শে চিনা, ইরিবোরা ধান পটল, করলা ধনে, ভূট্টাসহ বিভিন্ন মৌসমী ফসল চাষ করছেন এবং ফলনও ভাল হচ্ছে।
বিশাল বিস্তৃত্ব ধু-ধু বালুচর আর পানির ক্ষীণ বিল কিংবা লেকের মতো পদ্মার ঐতিহ্য অস্তিত্বকে এতটা বিপন্ন করেছে। ফারাক্কা ব্যারেজের সব কয়টি গেট বন্ধ করে নদী শাসন করে মেরে ফেলা হয়েছে পদ্মাসহ অসংখ্য নদনদীকে। জলবায়ুর বিরূপ প্রভাবে পরিবেশ জীবন-জীবিকায় নেমে এসেছে ধস। দেশের এক-তৃতীয়াংশ এলাকা ধীরে ধীরে মরুভূমিতে পরিkifণত হচ্ছে। গ্রীষ্ম মৌসুমে পানির স্তর আস্বাভাবিকভাবে নিচে নেমে যাওযায় উত্তরাঞ্চলের বেশিরভাগ নলকূপে পানি উঠা বন্ধ হয়ে যায়। দেখা দেয় তীব্র পানির সংকট। উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলের কোটি কোটি মানুষের জীবনে অভিশাপ বয়ে এনেছে এই ফারাক্কা ব্যারেজ। প্রত্যাহার করে ভারত তাদের বন্দর, কৃষি, সেচ, বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা সচল রাখলেও এদেশের কৃষি, নৌযোগাযোগ, পরিবেশ, জীবন-জীবিকাকে ঠেলে দিয়েছে এক ভয়াবহ পরিস্থিতির দিকে। বিভিন্ন সময়ে পদ্মার পানি বণ্টন নিয়ে অনেক আলোচনা-মাপজোক আর পর্যবেক্ষণ হয়েছে। চুক্তি হয়েছে, চুক্তি নিয়ে সংসদে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে কিন্তু বাংলাদেশের ভাগ্যে কখনই চুক্তি মোতাবেক পানি জুটেনি। তবে পানি এসেছে সংসদে, টেলিভিশন, রেডিও, টেলিফোনে। এর ফলে শুধু পদ্মা নয় অভিন্ন ৫৪টি নদনদীর পানি ভারত একতরফা প্রত্যাহার করে চলেছে। ফলে এপারের নদনদীগুলো মরে যাচ্ছে। পদ্মা নদী মরে যাওয়ার সাথে সাথে শাখা নদী বড়াল, মরাবড়াল, নারোদ, মুছাখান, ইছামতি, চিকনাই, নাগর, ধলাই, গড়াই, মাথাভাঙ্গা, হিসলা, কাজলা, চিত্রা, সাগোরখালি, চন্দনা, কপোতাক্ষ মরে যাচ্ছে, কালিগঙ্গা, বেলাবত এসব নদীর অস্তিত্ব বিলীন হয়ে গেছে।
মাওলানা আবদুল হামিদ খাঁন ভাসানী ফারাক্ক ব্যারেজের বিরুদ্ধে ব্যারেজমুখী ফারাক্কা লংমার্চ করেছিলেন- ব্যারেজটির মারাত্মক পরিণিতির কথা বিবেচনা করে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে সংসদে গিয়ে আলোচনা করে , দেশের স্বার্থে সরকার ও বিরোধী দলের প্রতিনিধিদের একযোগে কাজ করা দরকার।
মোঃ হায়দার আলী
রাজশাহী।