
তরিকুল ইসলাম তরুন, কুমিল্লা থেকে:
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার দুর্গাপুর উত্তর ইউনিয়নের শাসনগাছা তৃশা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় একটি নির্মাণাধীন ভবন থেকে ইট পড়ে ফাতেমা নামের এক গৃহবধূ গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় এলাকায় চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে রবিবার (৫ এপ্রিল) বাদ মাগরিবে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শাসনগাছা তৃশা বাসস্ট্যান্ডের উত্তর পাশে নির্মাণাধীন একটি বহুতল ভবন থেকে হঠাৎ একটি ইট নিচে পড়ে পাশের বাড়ির গৃহবধূ ফাতেমার মাথায় আঘাত করে। এতে তার মাথা ফেটে রক্ত বের হতে থাকে এবং তিনি ঘটনাস্থলেই অজ্ঞান হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
পরে স্বজনরা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে প্রথমে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. ফয়সাল হোসেন প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ক্ষতস্থান পরিষ্কার ও ব্যান্ডেজ করেন। পরে উন্নত পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য তাকে সিটি স্ক্যান করাতে অন্যত্র পাঠানো হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মিম হাসপাতাল সংলগ্ন স্বপ্ন মেমোরিজের পাশে, নিজামুদ্দিন সড়কের ধারে রেসকোর্স এলাকার বাসিন্দা হুমায়ুন দীর্ঘদিন ধরে ভবনটি নির্মাণ করে আসছেন। কিন্তু নির্মাণকাজে যথাযথ নিরাপত্তা বেষ্টনী না থাকায় প্রায়ই ইটের টুকরো বা বড় ইট নিচে পড়ে পথচারী ও আশপাশের বাসিন্দারা ঝুঁকিতে পড়ছেন।
এলাকাবাসীর দাবি, বিষয়টি নিয়ে তারা একাধিকবার ভবন মালিক হুমায়ুনকে সতর্ক করলেও তিনি কোনো কর্ণপাত করেননি। বরং নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার না করেই নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
স্থানীয় প্রতিবেশী নাসির উদ্দীন বলেন,
“হুমায়ুনের এই ভবন নির্মাণের কারণে এলাকার মানুষের অনেক ক্ষতি হচ্ছে। নিরাপত্তা বেষ্টনী ঠিকমতো না দেওয়ায় প্রায়ই ইট পড়ে মানুষ আহত হচ্ছে। কিন্তু তিনি কাউকে পাত্তা দিচ্ছেন না।”
এ ঘটনায় ভবন মালিক হুমায়ুনের বক্তব্য নেওয়ার জন্য একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসক মোস্তাক মিয়া বলেন,
“বিষয়টি স্পর্শকাতর। আমি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করেছি।”
অপরদিকে আদর্শ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাতেমাতুজ জোহরা বলেন,
“ভবন নির্মাণে সরকারি আইন ও বিধিমালা মানা হয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হবে। আইন না মেনে ১০ তলা ভবন নির্মাণ করা হলে কাজ বন্ধ করে দেওয়া হবে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ বিষয়ে কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন,
“বিষয়টি আমার জানা নেই। কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ ঘটনায় এলাকাবাসী নিরাপত্তাহীন নির্মাণকাজ দ্রুত বন্ধ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।