রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৪৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :-
শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন রিয়াজ আহমেদ মৃধা বাবুগঞ্জ-মুলাদী-হিজলা মহাসড়কের সার্ফেসিং কাজের উদ্বোধন করলেন জয়নুল আবেদীন এমপি সুজানগরের পদ্মা নদীতে শেষ হলো আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি নৌকা বাইচ উৎসব সুপারি পাড়া কেন্দ্র করে ছোট ভাইয়ের লাঠির আঘাতে বড় ভাই নিহ-ত পীরগঞ্জে ‘দুর্গাপূজায় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা করণীয়’ সভায় অনুপস্থিত ৩ কর্মকর্তাকে শো-কোজের নির্দেশ ‎পাইকগাছায় গলায় ফাঁ-স দিয়ে গৃহবধূ আত্মহ-ত্যা মহেশপুরে ৭০ গ্রাম গাঁ-জাসহ ১ মা-দক কা-রবারি গ্রে-প্তার শিক্ষা খাতে এআই এখন সম্ভাবনার দরজা খুলছে, সন্তানের হাতের স্মার্টফোনই হতে পারে নির্ভরযোগ্য শিক্ষক মধুপুরে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রবিউল ইসলাম শারদীয় দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় নিশ্চিতে ময়মনসিংহে পুলিশ সুপারের ব্রিফিং

ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করলেন মহামান্য রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৬১ Time View

গীতি গমন চন্দ্র রায় গীতি।। স্টাফ রিপোর্টার।ঠাকুরগাঁও জেলা বাসীর প্রানের ।দীর্ঘদিনের দাবি, অপেক্ষা ও প্রত্যাশার অবসান ঘটিয়ে ঠাকুরগাঁওয়ে প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এর মধ্য দিয়ে উত্তরাঞ্চলের উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হলো।সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টা ২০ মিনিটে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার জামালপুর এলাকায় ঠাকুরগাঁও-পীরগঞ্জ সড়কের পাশে নির্ধারিত স্থানে আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন রাষ্ট্রপতি।বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ফলে ঠাকুরগাঁওসহ আশপাশের জেলার শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ আরও বিস্তৃত হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে উত্তরাঞ্চলের অনেক শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার জন্য ঢাকা, রাজশাহী, রংপুরসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যেতে বাধ্য হন। এতে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অভিভাবকদেরও বাড়তি অর্থনৈতিক চাপের মুখে পড়তে হয়। ঠাকুরগাঁওয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলে নিজ এলাকায় থেকেই অনেক শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পাবেন।বিশ্ববিদ্যালয়টি শুধু শিক্ষার প্রসারেই নয়, এ অঞ্চলের আর্থসামাজিক উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। ক্যাম্পাসকে ঘিরে নতুন আবাসিক এলাকা, পরিবহন, খাবারের দোকান, বই ও স্টেশনারি ব্যবসাসহ বিভিন্ন সেবা খাতের বিকাশ ঘটতে পারে। একই সঙ্গে শিক্ষিত তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি গবেষণার ক্ষেত্রেও বিশ্ববিদ্যালয়টি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে। উত্তরাঞ্চলের কৃষি, শিক্ষা, পরিবেশ, সংস্কৃতি, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জীবনযাপন ও স্থানীয় অর্থনীতি নিয়ে গবেষণার সুযোগ তৈরি হলে এ অঞ্চলের সমস্যা ও সম্ভাবনা জাতীয় পর্যায়ে আরও গুরুত্ব পেতে পারে।

তবে বিশেষ করে প্রত্যন্ত এলাকার দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য স্থানীয়ভাবে উচ্চশিক্ষার সুযোগ তৈরি হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ববিদ্যালয়টি চালু হলে নারী শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণও বাড়বে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে এটিই মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের প্রথম সরকারি সফর।।দুই দিনের সফরের দ্বিতীয় দিনে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।এর আগে রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে দুই দিনের সরকারি সফরে ঠাকুরগাঁওয়ে পৌঁছান রাষ্ট্রপতি। তাকে বহনকারী হেলিকপ্টারটি শহীদ মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়াম মাঠে অবতরণ করে। পরে রাষ্ট্রীয় প্রটোকল অনুযায়ী তাকে অভ্যর্থনা জানানো হয় এবং সার্কিট হাউসে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়।সার্কিট হাউসের আনুষ্ঠানিকতা শেষে রাষ্ট্রপতি তার মা-বাবার কবর জিয়ারত করেন এবং তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। পরে বিকেলে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের বড় মাঠে আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশ নেন তিনি।নাগরিক সংবর্ধনায় রাষ্ট্রপতি ঠাকুরগাঁওয়ের দীর্ঘদিনের উন্নয়নবঞ্চনার কথা তুলে ধরেন। জেলার উন্নয়নে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন তিনি। এরই মধ্যে ঠাকুরগাঁওয়ে মেডিকেল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার কাজ শুরু হয়েছে বলেও জানান। পাশাপাশি জেলার বিমানবন্দর পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি।তিনি বলেন, মানুষের জীবনমানের উন্নয়নের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বেকারত্ব কমাতে নতুন নতুন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার পাশাপাশি তরুণদের দক্ষ করে তুলতে হবে। তরুণদের শুধু চাকরির পেছনে না ছুটে নিজেদের মেধা, দক্ষতা ও যোগ্যতাকে কাজে লাগিয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকে ঘিরে স্থানীয় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, শুধু ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মধ্যেই কার্যক্রম সীমাবদ্ধ না রেখে দ্রুত নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম চালু করা হবে।তাদের মতে, ঠাকুরগাঁওয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলে এ অঞ্চলের শিক্ষার মান উন্নয়নের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের স্বপ্ন পূরণের সুযোগ তৈরি হবে। উত্তরাঞ্চলের পিছিয়ে থাকা জনপদের উন্নয়নে বিশ্ববিদ্যালয়টি ভবিষ্যতে একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা ও গবেষণা কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে বলে ঠাকুরগাঁও বাসীর বাস্তব বকাঙ্খা।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved.©natunbazar24.com
Developed by: A TO Z IT HOST
Tuhin