শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:২৭ পূর্বাহ্ন
Title :
৩২ বছরের শিক্ষকতাকে সম্মান, বিদায়ে লাল গালিচা ও মোটরসাইকেল উপহার মোহনপুরে পেঁয়াজ সংর-ক্ষণের এয়ার-ফ্লো মেশিন বিতরণ তেঁতুলিয়ায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ উদযাপন উপলক্ষ্যে মেলা ও কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত আশুলিয়ার জামগড়া কিশোর কর্তৃক এক শিশুকে ধর্ষ-ণের অভিযোগঃ ৩ ঘন্টার মধ্যে ধর্ষ-ণকারী আ-টক মোহনপুরের কৃষিতে নতুন সম্ভবনা চুইঝাল তেঁতুলিয়ায় মতবিনিময় সভার ভিডিও ধারণে ডিসির বাধা, মতবিনিময় বয়-কট সাংবাদিকদের চারঘাটে শতবর্ষী ঐতিহ্যের কালুপীরের বৈশাখী মেলা শুরু রাজশাহী কেন্দ্রীয় কা-রাগারে সিনিয়র জেল সুপার হলেন আল মামুন ধামইরহাটে পবিত্র বায়তুল্লাহ শরীফে হজ্ব যাত্রা উপলক্ষে দোয়া ও বিদা-য় অনুষ্ঠিত মহেশপুরে নবাগত জেলা প্রশাস-কের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ডাস্টবিনে দেখাগেল নবজাতক  শিশুর মৃ-তদেহ

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬
  • ১৪৪ Time View

কে এম শহিদুল্লাহ, সুনামগঞ্জ :
‎সুনামগঞ্জ জেলা ২৫০শয্যা  সদর হাসপাতালের ডাস্টবিনে পাওয়া গেল  অজ্ঞাত নবজাতক শিশুর মৃতদেহ?  তথ্য দিতে নারাজ ডেলিভারি ওয়ার্ডের ইনচার্জ এবং নার্সরা? আর এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার রহস্য নিয়ে শহর জুড়ে  চলছে আলোচনা সমালোচনা। ৫দিনের অনুসন্ধানের তীর এখন হাসপাতালের কর্তৃপক্ষের দিকে। এমনটাই তথ্য  উঠে এসেছে  দৈনিক জনকণ্ঠ পত্রিকার ক্যামেরায়। জানা যায় ঘটনাটি ঘটে গত ২৬ ফেব্রুয়ারী সকাল অনুমান ৮ঘটিকায় সদর হাসপাতালের মর্গের পাশে ডাস্টবিনের উপর। হাসপাতাল সূত্রে এবং চিকিৎসা নিতে আসা রুগীদের সাথে আলাপ করে জানা যায় ২৬ ফেব্রুয়ারী সকাল ৮ ঘটিকার সময় কয়েকটি কুকুর  এবং কাক  মর্গের পাশে ডাস্টবিনের উপর একটি শিশুর মৃতদেহ নিয়ে টানা হেছড়া শুরু করে। এসময় হাসপাতালের আশপাশে থাকা লোকজন কাছে গিয়ে দেখে একটি শিশুর মৃতদেহ ডাস্টবিনের উপর পড়ে আছে,শিশুটির  গর্ভপাত বয়স আনুমানিক ১০/১১মাসের হবে। এসময়  আশপাশের থাকা এম্বুলেন্সের এক হেলপার ঐ মৃত শিশুটির লাশের ভিডিও করে সেখান থেকে চলে যায়। পরে  কেবা কারা শিশুটির মৃতদেহটি সেখান থেকে সরিয়ে ফেলে?ঐদিন বিকেল ৫টার দিকে এম্বুলেন্সের এক হেলপার নবজাতক শিশুর মৃতদেহের ভিডিওটি দৈনিক জনকণ্ঠ পত্রিকার প্রতিবেদককে দেখালে শুরু হয় কয়েক জন গণমাধ্যম কর্নীদের অনুসন্ধান।  প্রথমে হাসপাতালের গাইনী ওয়ার্ডে গিয়ে নার্সদের কাছে জানতে চাইলে সদর হাসপাতালের দায়িত্বে থাকা নার্সরা সাংবাদিকদের তথ্য দিবেন না এমনটি জানান? তারা বলেন কর্তৃপক্ষের নিষেধ আছে? ২৫ ফেব্রুয়ারী রাতে হাসপাতালে   কোনও জীবিত বচ্চা অথবা মৃত বাচ্চা ডেলিভারি হয়নি। রেজিস্ট্রারে লেখা আছে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে দায়িত্বে থাকা নার্সরা বলেন তত্ত্বাবধায়কের নিষেধ রয়েছে সাংবাদিকদের তথ্য দিতে । এমনকি হাসপাতালের এরিয়ায়  কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া সাংবাদিকেরা  কোন ভিডিও ধারণ করতে পারবেনা বলেও জানান হাসপাতালের ৫ তলায় পুরুষ ওয়ার্ডের নাছিমা নামের এক নার্স। শুধু তাইনয় গাইনী ওয়ার্ডের অজ্ঞাত নামা ২৬ তারিখ রাতে দায়িত্বে থাকা মাস্কপরা ৩জন নার্সের কাছে জানতে চাইলে তারা  প্রাইভেট হাসপাতালে খোঁজ নিতে বলেন। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ইং তারিখে কোন মৃত বাচ্চা হাসপাতালে জন্ম গ্রহন করেনি এবং সাংবাদিকদের  রেজিস্ট্রার খাতা দেখানো যাবেনা, কর্তৃপক্ষের নিষেধ আছে বলে সাফ জানিয়ে দেন নার্সরা।
‎কিআর করা তিনদিন হাসপাতালে ঘুরেও গাইনি ওয়ার্ডের  সঠিক তথ্য না পেয়ে অবশেষে শিশুর মৃতদেহের রহস্যের অনুসন্ধানে কাজ শুরু করেন দৈনিক সকালের সময় ও জনকন্ঠের পত্রিকার প্রতিনিধিরা। গাইনি ওয়ার্ডের নার্সদের ভাষ্যমতে এক এক করে সুনামগঞ্জ শহরের যে কয়টি প্রাইভেট হাসপাতাল ও ক্লিনিক ছিল  প্রত্যেক্যটিতে সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়। যারমধ্যে শহরের হেল্থ কেয়ার পলি ক্লিনিকে ২৫ তারিখে ৩টি সিজার ডেলিভারি হয় এবং সব কয়টি ডেলিভারি জীবিত শিশু সন্তান জন্মগ্রহন করেছে, পাশাপাশি সবগুলি শিশুই সুস্থ রয়েছে। পরবর্তীতে মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র (সরকারি মাতৃ মঙ্গলে) গিয়ে জানা যায় ২৫তারিখে সেখানে ৪টি জীবিত নবজাতক  শিশু জন্ম গ্রহন করে এবং কোন মৃত বাচ্চা হয়নি। অনুসন্ধানে আরও জানা যায় শহরের জেনারেল হাসপাতালে ২৫ তারিখ ২টি শিশু সিজারের মাধ্যমে জীবিত জন্মগ্রহণ করে এবং মা ও শিশুরা সুস্থ  আছে, আলকাছ খন্দকার ও আমিনা  হাসপাতালে ২৫ তারিখে  ১টি শিশুর সিজারের মাধ্যমে জন্মগ্রহণ হয়েছে এবং বাচ্চা সুস্থ রয়েছে । অন্যদিকে আনিসা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গিয়ে জানতে চাইলে তারা বলেন গত ৬ মাসে একটিও মৃত শিশু জন্ম গ্রহণ করেনি? সুরমা ক্লিনিকে গিয়ে জানা যায় তাদের ক্লিনিকে গত ২৫ তারিখে কোন মৃত সন্তান জন্ম গ্রহন করেনি। পাঁচ দিনের অনুসন্ধানে সরেজমিনে ঘুরে অবশেষে নবজাতক শিশুর মৃতদেহের রহস্য উনমোচনের তীর এখন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দিকে ইঙ্গিত করে। কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারনে এবং নার্সদের গড়িমসি তালবাহানাই প্রমান করে ডাস্টবিনের উপর যে শিশুটির মৃতদেহ দেখা গেছে তার মৃত্যুর রহস্য হাসপাতালের চার দেয়ালের ভিতরে ঘুরপাক খাচ্ছে। অন্যদিকে সাধারণ মানুষেরাও জানতে চায় কে ছিল ঐ নবজাতক শিশুটি?  কি তার পরিচয়? কেনইবা তাকে জন্মের পর ডাস্টবিনে ফেলা হল? নাকি হত্যা করা হল? ঐ নবজাতক শিশুর মৃত্যুর রহস্যময় মৃতদেহ কোথায় গেল? যার রহস্য লুকিয়ে আছে হাসপাতালের সিসি ক্যামেরায়? এমন নানান প্রশ্নের উত্তর কি আছে কর্তৃপক্ষের কাছে?  নাকি চিরতরে ধামাচাপা দেওয়া হল ডাস্টবিনের ময়লা আবর্জনার সাথে নবজাতক নিষ্পাপ একটা ফুটফুটে শিশুর রহস্যময় নিথরদেহটি । সুনামগঞ্জ জেলার পুলিশ  প্রশাসন সঠিক ভাবে  তদন্ত করে হাসপাতালের ডাস্টবিনে পাওয়া নবজাতকের মৃত্যুর রহস্য উদঘাটন করবেন এমনটাই দাবী সাধারণ মানুষের।
‎এব্যাপারে সদর হাসপাতালের আরএমও ডাক্তার রফিকুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান বিষয়টি আমার জানা নেই তবে যারাই এই কাজটি করেছে এটা একটি নিন্দনীয় কাজ করেছে, আমাদের তত্ত্বাবধায়ক এ বিষয়ে সিসি ফুটেজে খুঁজ নিয়ে বলতে পারবেন।
‎এব্যাপারে সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ মাহবুবুর রহমান স্বপনের কাছে ফোনে জানতে চাইলে তিনি ফোন রিসিভ করেই সাংবাদিক পরিচয়  জেনে সরাসরি দেখা করার কথা বলে ফোনটি কেটে দেন।
‎এব্যপারে সুনামগঞ্জ জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তাপস রঞ্জন ঘোষ এর কাছে জানালে তিনি বলেন বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হবে। ##

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © natunbazar24.com
Developed by: A TO Z IT HOST
Tuhin