
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহীঃ রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার রিশিকুল ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, আওয়ামীলীগের দোসর, মাহবুবুর রহমান টিটুসহ কয়েকজন ইউপি সদস্য ও কর্মচারীর বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতি, অনিয়ম এবং সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তুলে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকালে ইউনিয়ন পরিষদের সামনে মান্ডইল এলাকায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। এ সময় তারা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে অপসারণ, ইউনিয়ন পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ এবং অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।
বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, ইউনিয়নের প্রায় দেড় কিলোমিটার খাল খননের জন্য সরকার ৩৮ লাখ টাকা বরাদ্দ দিলেও প্রকল্পের কাজ সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা হয়নি। তাদের দাবি, প্রকৃতপক্ষে মাত্র ৮ থেকে ১০ লাখ টাকার কাজ করা হয়েছে এবং বাকি অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে।
এছাড়াও ড্রেন, কালভার্ট, টিআর, কাবিখা, কাবিটাসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দের অর্থ যথাযথ কাজ না করেই উত্তোলনের অভিযোগ তোলেন বক্তারা। তারা বলেন, এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে সাধারণ মানুষ সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের প্রত্যাশিত সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা আরও জানান, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত ও মৌখিকভাবে অভিযোগ জানানো হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। তাই দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তারা।
উল্লেখ এর আগে রিশিকুল ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে বিশেষ বরাদ্দের উন্নয়ন তহবিলের আওতায় নির্মাণাধীন একটি ড্রেনের কাজ নিম্নমানের হওয়ার অভিযোগে কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি বরাদ্দের এই প্রকল্পে ঠিকাদারের পরিবর্তে ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, পতিত হাসিনা সরকারের দোসর মাহাবুবুর রহমান টিটু ও কয়েকজন সদস্য নিজেরাই ব্যাপক, অনিয়ম দূর্ণীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার করে কাজ পরিচালনা করছেন। এমনকি সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারও দাবি করেছেন, তার লাইসেন্স ব্যবহার করে চেয়ারম্যান ও সদস্যরা কাজ করছেন।
ঝিকড়ুপাড়া গ্রামের বাসিন্দা সাহেরুল ইসলাম বলেন, “ড্রেন নির্মাণে প্রথম শ্রেণির ইট ব্যবহারের নিয়ম থাকলেও সেখানে দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণির ইটনিন্মমানের নির্মান সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে । এছাড়া ড্রেনের ঢালাই কাজের পরিবর্তে নিম্নমানের খোয়া ও সিমেন্টের ঘোলা দিয়ে কাজ শেষ করেছে।
টিটু চেয়ারম্যানের ব্যপারে বিস্তর অভিযোগে স্থানীয় পত্রিকা, জাতীয় ও অনলাইন পত্রিকায় নিউজ প্রকাশিত হয়েছে। কাজের কাজ কিছুই হয় নি। তিনি আওমামীলীগের ওয়ার্ড সভাপতি, পতিত সরকারের দৌসর হয়েও এখনও রয়েছেন বহাল তবিয়তে।
অন্যদিকে, সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রিশিকুল ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান টিটু। তিনি বলেন, খাল খনন প্রকল্পসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ জেলা প্রশাসক, বিভাগীয় কমিশনার এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন এবং কাজের বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। অভিযোগগুলো সঠিক নয় বলে দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত জাহান বলেন, তিনি মাত্র দুই মাস আগে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং বিষয়টি তদন্তের জন্য উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে (পিআইও) দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি জানান।
মোঃ হায়দার আলী
নিজস্ব প্রতিবেদক,
রাজশাহী।