বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:১৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :-
মিরকাদিমে ওয়াকফা সম্পত্তি দ-খলের আ-শঙ্কা, প্রশাসনের জরুরি হস্ত-ক্ষেপ দাবি এলজিইডির সড়কে ইট বি-ছিয়ে তিন মাসেই ২০ লাখ টাকা খরচ, তুলে ফেলা হচ্ছে ইট একজন অ-শিক্ষিত হকার কি করে সাংবাদিক হলো দূর্নী-তির দায়ে সৈয়দপুর কামালপুকুর ইউনিয়ন সচিবের ব-দলি সাইবার সু-রক্ষা আইন পুনর্বিন্যাস- সাংবাদিক ও মালিক গ্রে-প্তারে লাগবে আদালতের অনুমতি প্রবাসীদের সহযোগিতায় মাথা গোঁ/জার ঠাঁই পেলেন অস-হায় হুজেরা খাতুন সরঞ্জাই ইউপি নির্বাচনে মতি সকলের কাছে দো-য়া প্রত্যাশী এসআরবি-১২ সিরাজগঞ্জ কর্তৃক উদ্ধারকৃত অ-স্ত্র ও গো-লাবারুদ সম্পর্কে মহেশপুরে ১২৫ পিস ইয়া-বা ও মোবাইল ও নগদ টাকাসহ ১ মাদ-ক কার-বারি গ্রেফ-তার পলা-তক ২ ঝিনাইদহে মহাসড়কে টায়ারে আগু-ন ও বি-স্ফোরণ ছাত্রলীগ কর্মী আটক

এলজিইডির সড়কে ইট বি-ছিয়ে তিন মাসেই ২০ লাখ টাকা খরচ, তুলে ফেলা হচ্ছে ইট

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬
  • ৩৬ Time View

মোঃ বাবুল হোসেন পঞ্চগড় প্রতিনিধি:

পঞ্চগড় জেলা শহরের এলজিইডির আঞ্চলিক মহাসড়কের দুই পাশে ইট বিছিয়ে প্রায় ২০ লাখ টাকা ব্যয় করেছে পঞ্চগড় পৌরসভা। অথচ কাজ শেষ হওয়ার মাত্র তিন মাসের মধ্যেই নতুন করে সড়ক নির্মাণের জন্য সেই ইট তুলে ফেলা হচ্ছে। নিম্নমানের ইট ব্যবহারের কারণে তোলার সময় ভেঙে যাচ্ছে অধিকাংশ ইট। পরে এসব ইটের মালিকানা দাবি না করে এলজিইডিকে ‘নো অবজেকশন’ বা অনাপত্তি দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। এতে সরকারি অর্থের অপচয়, প্রকল্প গ্রহণের যৌক্তিকতা এবং অন্য দপ্তরের সড়কে পৌরসভার কাজ করার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, চৌরঙ্গী মোড় থেকে বানিয়াপট্টি কালভার্ট পর্যন্ত সড়কটি এলজিইডি সংস্কার করবে—এমন খবর জানার পরও দ্রুত ইট বিছানোর কাজ সম্পন্ন করা হয়। এ কাজে পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী প্রণব চন্দ্র দে ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের যোগসাজশের অভিযোগও উঠেছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী।

জানা গেছে, পঞ্চগড় জেলা শহরের চৌরঙ্গী মোড় থেকে বানিয়াপট্টি কালভার্ট পর্যন্ত সড়কের দুই পাশের অবৈধ স্থাপনা ২০২৫ সালের শুরুর দিকে উচ্ছেদ করে জেলা প্রশাসন। পরে সড়ক প্রশস্ত করতে বৈদ্যুতিক খুঁটি সরিয়ে দুই পাশে প্রশস্ত ড্রেন নির্মাণ করে জেলা পরিষদ। এরপর ড্রেনসংলগ্ন সড়কের অংশে বর্ষাকালে পানি জমে কাদা সৃষ্টি হলে চলাচলের সুবিধার্থে বালু ছিটিয়ে তার ওপর ইট বিছিয়ে দেয় পৌরসভা।

পৌরসভার দাবি, ২০২৪ সালের শেষ দিকে নরম মাটির ওপর দিয়ে যানবাহন ও পথচারীদের চলাচলের সুবিধার্থে ইট বিছানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে প্রকল্পের নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে ‘পঞ্চগড় বাজার শ্যামলী বাস কাউন্টার হতে বানিয়াপাড়া কালভার্ট পর্যন্ত (সিনেমা রোড) প্রায় ৪২০ মিটার রাস্তার উভয় পাশে হার্ড শোল্ডার উন্নয়ন কাজ’ নামে প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হয়। এতে ব্যয় ধরা হয় ১৯ লাখ ৮৫ হাজার ৮৮৮ টাকা।

একই বছরের ১৫ ডিসেম্বর কাজের দরপত্র আহ্বান করে পৌরসভা। কাজটি পায় পৌরসভার উত্তর রামের ডাঙ্গা এলাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স রাইসা এন্টারপ্রাইজ। ২০২৫ সালের ৩০ জানুয়ারি চুক্তি স্বাক্ষর এবং ৩ ফেব্রুয়ারি কার্যাদেশ দেওয়া হয়। কার্যাদেশ অনুযায়ী, ওই বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি কাজ শুরু করে ১৫ জুনের মধ্যে শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে কাজ শুরু না করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সময় বাড়ানোর আবেদন করে। পরে ২০২৬ সালের ৩০ জুলাই পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়। এরপর দ্রুতগতিতে দায়সারাভাবে কাজ শেষ করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

অন্যদিকে, কাজ শেষ হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই সড়কটি নতুন করে নির্মাণের উদ্যোগ নেয় এলজিইডি। ফলে পৌরসভার বিছানো ইট এখন তুলে ফেলা হচ্ছে। নিম্নমানের ইট হওয়ায় সেগুলোর বড় অংশ ভেঙে যাচ্ছে। পৌরসভা এসব ইটের কোনো আর্থিক দাবি না করে এলজিইডিকে ছেড়ে দিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে জেলা শহরের ডোকরোপাড়া এলাকার বাসিন্দা আজহারুল ইসলাম জুয়েল বলেন, ‘এগুলো এক ধরনের লুকোচুরি খেলা। শহরের সৌন্দর্যবর্ধন ও নাগরিক সেবা নিশ্চিত করাই পৌরসভার কাজ। প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হয়েও নিজেদের সড়ক ও নাগরিক সুবিধার উন্নয়ন না করে অন্য দপ্তরের সড়কে ইট বিছিয়ে বাহবা নেওয়ার চেষ্টা কেন? জবাবদিহি না থাকায় তারা যা ইচ্ছা তাই করছে।’

কামাতপাড়া এলাকার বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম ভূট্টু বলেন, ‘পৌরসভার অনেক রাস্তা এখনো বেহাল অবস্থায়। অনেক সড়কে বাতি নেই, ড্রেনেজ ব্যবস্থারও উন্নতি হয়নি। অথচ নিজেদের তহবিলের টাকা অন্য দপ্তরের সড়কে খরচ করা হয়েছে। আবার সেই ইট তুলে ফেলা হচ্ছে। কোন আইনি ভিত্তিতে এসব করা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।’

অভিযোগের বিষয়ে পঞ্চগড় পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী প্রণব চন্দ্র দে বলেন, সড়কের দুই পাশের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের পর তৎকালীন জেলা প্রশাসক সাবেত আলী তাঁদের ইট বিছিয়ে যানবাহন ও সাধারণ মানুষের চলাচলের ব্যবস্থা করার নির্দেশনা দিয়েছিলেন। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী কাজটি করা হয়েছে। এলজিইডি সড়কটি সংস্কার করবে—এমন তথ্য আগে থেকেই জানা ছিল, এমন অভিযোগ সঠিক নয়। কারণ, এলজিইডি কবে কাজ শুরু করবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময় জানা ছিল না।

তিনি আরও বলেন, সড়কে বিছানো ইট বর্তমানে তুলে ফেলা হচ্ছে। ইটগুলো ‘সেলভেজ’ বা উদ্ধারযোগ্য মালামাল হিসেবে দেখিয়ে এলজিইডির কাছে নো অবজেকশন বা অনাপত্তি চাওয়া হয়েছে। পৌরসভা থেকে তাদের সেই অনাপত্তি দেওয়া হয়েছে।

পঞ্চগড় পৌরসভার প্রশাসক সীমা শারমিন বলেন, স্থানীয় বাসিন্দাদের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে বর্ষাকালে চলাচলের সুবিধার্থে ওই সড়কে ইট বিছানোর কাজ হাতে নেওয়া হয়েছিল। তখন এলজিইডির কোনো প্রকল্প অনুমোদিত ছিল না। পৌরসভা কাজ শেষ করার পর এলজিইডির প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে।

তবে অন্য দপ্তরের সড়কে পৌরসভার অর্থায়নে কাজ করার নিয়ম এবং তুলে ফেলা ইট এলজিইডিকে বিনা মূল্যে দেওয়ার আইনগত ভিত্তি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।

এদিকে, এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, চৌরঙ্গী মোড় থেকে বানিয়াপট্টি কালভার্ট পর্যন্ত প্রায় ৪২০ মিটার সড়ক ১০ ইঞ্চি উচ্চতার আরসিসি ঢালাইয়ের মাধ্যমে নির্মাণ করা হচ্ছে। এ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ২ কোটি ২৫ লাখ ৮ হাজার ২৮৫ টাকা। এমএস তানিয়া কনস্ট্রাকশন নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি বাস্তবায়ন করছে। ইতোমধ্যে নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে।

পঞ্চগড় এলজিইডির সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী মনোজ কুমার আচার্য বলেন, পৌরসভার সঙ্গে আলোচনা করেই ইটগুলো সেলভেজ বা উদ্ধারযোগ্য মালামাল হিসেবে দেখানো হয়েছে। এ বিষয়ে তাদের মৌখিক বা লিখিত নো অবজেকশন অবশ্যই রয়েছে। পৌরসভার সঙ্গে আলোচনা না করে তো কাজ শুরু করা সম্ভব নয়। তিনি আরও বলেন, প্রায় ৪২০ মিটার সড়ক দুই কোটি টাকার বেশি ব্যয়ে আরসিসি করা হচ্ছে। এতে যানবাহন ও পথচারীদের চলাচলে সুবিধা হবে।

তবে প্রশ্ন উঠেছে, যে সড়কে কয়েক মাসের মধ্যেই বড় অঙ্কের ব্যয়ে আরসিসি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, সেখানে পৌরসভার প্রায় ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে ইট বিছানোর প্রকল্প গ্রহণ কতটা যৌক্তিক ছিল? অন্য দপ্তরের সড়কে কাজ করতে গিয়ে প্রয়োজনীয় অনুমোদন নেওয়া হয়েছিল কি না, প্রকল্পের কাজের মান যাচাই করা হয়েছিল কি না এবং উদ্ধার করা ইটের প্রকৃত মূল্য কত—এসব বিষয়ও এখন সামনে এসেছে।

সচেতন মহলের দাবি, প্রকল্পের অনুমোদন, দরপত্র, কার্যাদেশ, কাজের মান, ব্যয়ের হিসাব এবং ইট হস্তান্তরের প্রক্রিয়া নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হোক। সরকারি অর্থের অপচয় কিংবা দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved.©natunbazar24.com
Developed by: A TO Z IT HOST
Tuhin