
রাজশাহী থেকে মোঃ হায়দার আলী : চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। জিপিএ-৫ এর সংখ্যাও কমেছে। এবার বোর্ডটিতে মাত্র ৪৫ দশমিক ০৬ শতাংশ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন। গত বছর পাসের হার ছিল ৫৯ দশমিক ৪০ শতাংশ। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে ১৪ দশমিক ৩৪ শতাংশীয় পয়েন্ট।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল ১১টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। ফল প্রকাশ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের পাসের হার জাতীয় গড়ের চেয়েও কম। এবার সারা দেশে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় গড় পাসের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। সে হিসাবে রাজশাহী বোর্ডের পাসের হার জাতীয় গড়ের তুলনায় ৭ দশমিক ০৬ শতাংশীয় পয়েন্ট কম।
এ বছর দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ জন পরীক্ষার্থী নিবন্ধিত ছিলেন। সারা দেশে ২ হাজার ৭৬০টি কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রকাশিত ফলাফলে দেখা গেছে, সারা দেশে মোট ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন। সর্বোচ্চ ফল জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন ৪০ হাজার ৮৪ জন। গত বছর এই সংখ্যা ছিল ৬৯ হাজার ৯৭ জন। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ২৯ হাজার ১৩ জন।
এ বছর রাজশাহী বোর্ডে পাসের হার কমে ৪৫ দশমিক ০৬ শতাংশে নেমেছে। অর্থাৎ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের অর্ধেকেরও বেশি অকৃতকার্য হয়েছে। তবে জিপিএ–৫ পাওয়ার ক্ষেত্রে ছেলেদের তুলনায় এগিয়ে রয়েছে মেয়েরা। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ইফফাত জেরীন আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল প্রকাশ করেন।
বোর্ডের প্রকাশিত ফল অনুযায়ী, এ বছর রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে মোট ৪ হাজার ৫২০ জন শিক্ষার্থী জিপিএ–৫ পেয়েছে। এর মধ্যে রাজশাহী জেলার শিক্ষার্থী ১ হাজার ৭৮৫ জন, যা বোর্ডে মোট জিপিএ–৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর প্রায় ৩৯ দশমিক ৫ শতাংশ। এ সূচকে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বগুড়া জেলা। সেখানে জিপিএ–৫ পেয়েছে ১ হাজার ৩০৯ জন। তৃতীয় অবস্থানে থাকা পাবনায় এ সংখ্যা ৫৫০।
পাসের হারেও রাজশাহী জেলা সবার ওপরে। এ জেলায় পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৫৫ দশমিক ৩৩ শতাংশ পাস করেছে। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা বগুড়ায় পাসের হার ৫৩ দশমিক ৬৪ শতাংশ। আর ৪১ দশমিক ৬৭ শতাংশ পাসের হার নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে জয়পুরহাট জেলা।
এ বছর রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য নিবন্ধন করেছিল ১ লাখ ৪১ হাজার ৯৩৬ জন শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেয় ১ লাখ ৩৭ হাজার ৩৫৬ জন। পাস করেছে ৬১ হাজার ৮৯৪ জন। সে হিসাবে অকৃতকার্য হয়েছে ৭৫ হাজার ৪৬২ জন।
রাজশাহী জেলায় পরীক্ষার্থী ছিল ২৮ হাজার ৮৬ জন। তাদের মধ্যে পাস করেছে ১৫ হাজার ৫৪০ জন। বিভাগের আট জেলার ৭৪৩টি কলেজের শিক্ষার্থীরা ২০৮টি কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নেয়।
ফলাফলে ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা এগিয়ে রয়েছে। ছেলেদের পাসের হার ৩৭ দশমিক ৭১ শতাংশ, আর মেয়েদের ৫৩ দশমিক ০৩ শতাংশ। বোর্ডে জিপিএ–৫ পাওয়া ৪ হাজার ৫২০ জনের মধ্যে ছেলে ১ হাজার ৯৬৫ জন এবং মেয়ে ২ হাজার ৫৫৫ জন।
পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ইফফাত জেরীন জানান, পরীক্ষা চলাকালে অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে ৩১ জন পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। এ বছর বিভাগের আট জেলায় মাত্র ৯টি কলেজের সব পরীক্ষার্থী পাস করেছে। অন্যদিকে ৩৯টি কলেজের কোনো পরীক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি।
বিশ্বজিত কুমার বিশ্বাস বলেন, যারা পড়াশোনা করবে তারাই পাশ করবে । বেশি পাশ দিলেই সুনাগরিক হবে এমন নয় । বৃটিশ কাউন্সিল এর পরীক্ষায় কোনো ছাড় দেওয়া হয় না । দেশে নামমাত্র উচ্চ শিক্ষিত প্রচুর মানুষ আছে । কিন্তু বিভিন্ন পেশার দ্ক্ষ মানুষের বড়ই অভাব । এই কারণে আমরা পর নির্ভরশীল ।
অভিভাবক ইলিয়াস আহমেদ বলেন, ‘আমার ছেলে গোল্ডেন এ প্লাস পেয়েছে। এবারের ফলাফলে সে খুব ভালো করেছে। সে নিয়মিত পড়াশোনা করত এবং নিজে নিজেই পড়াশোনা করত। একজন অভিভাবক হিসেবে আমার জায়গা থেকে যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি।’
ফলাফল প্রকাশের পর অনুভূতি জানিয়ে রাজশাহী কলেজের শিক্ষার্থী ইসমাম আহমেদ রিফাত বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, আমার ফলাফল খুব ভালো হয়েছে। ১ হাজার ৩০০ নম্বরের মধ্যে ১ হাজার ১৮৯ পেয়েছি। গোল্ডেন এ প্লাস অর্জন করেছি। তবে ফলাফল পেতে কিছুটা বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছে।’
এবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা গত ২ জুলাই শুরু হয়ে ৮ আগস্ট শেষ হয়। তবে বন্যার কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের কিছু পরীক্ষা পিছিয়ে দেওয়া হয়। পরে ৯ সেপ্টেম্বর সেসব পরীক্ষা শেষ হয়।
রাজশাহী বোর্ডে পাসের হারের বড় ধরনের পতন শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক ফলাফলে উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরেছে। ফলাফলের এই পরিবর্তনের কারণ নির্ধারণে বিষয়ভিত্তিক ফল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর পারফরম্যান্স পর্যালোচনা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
মোঃ হায়দার আলী
নিজস্ব প্রতিবেদক,
রাজশাহী।