রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০১:২৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :-
কুর্শা ইউপি নির্বাচন “দ্বিতীয় দিনে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন নিলেন সাবেক সেনাসদস্য আমির আলী স-ন্ত্রাস মাদ-কমুক্ত সমাজ গঠনে চট্টগ্রামে গোলটেবিল বৈঠক নাজিরাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়ে এডহক কমিটির পরিচিতি ও শিক্ষার মানোন্নয়ন শীর্ষক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত পঞ্চগড়ে লিজার বিরুদ্ধে মি-থ্যা মামলা ও এআই দিয়ে ছবি তৈরি করে অ-পপ্রচারের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন কালাইয়ে ট্রাক-অটোরিকশার মু-খোমুখি সং-ঘর্ষে নিহ-ত ২, আহ-ত ১ সুজানগর পৌর শ্রমিক দলের উদ্যোগে বাউল উৎসব দুলাই ইউপি নির্বাচনের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী কামরুল ইসলামের সমর্থনে বিশাল মোটরসাইকেল শো-ডাউন মোহনপুরে খামারি অ্যাপসের মাধ্যমে সার সুপারিশ কার্যক্রম পরিদর্শন গোদাগাড়ীতে খেতুরীধামে নরোত্তম দাসের তিরোভাব মহোৎসব ব্যাপক অ-ব্যবস্থাপনা রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে পাসের ৪৫ দশমিক ০৬, কমেছে জিপিএ-৫ এর সংখ্যা

রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে কলেজ গুলির এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল বিপর্যয়, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন।

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬
  • ২৭ Time View

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহীঃ চলতি বছরের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। জিপিএ-৫ এর সংখ্যাও কমেছে। এবার বোর্ডটিতে মাত্র ৪৫ দশমিক ০৬ শতাংশ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন। গত বছর পাসের হার ছিল ৫৯ দশমিক ৪০ শতাংশ। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে ১৪ দশমিক ৩৪ শতাংশ।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল ১১টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। ফল প্রকাশ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। শিক্ষাবোর্ড এর পাসের হারে তলানীতে অবস্থান করেছে গোদাগাড়ী উপজেলার অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। মাধ্যমিকে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীরাও এবার অকৃতকার্য হয়েছে। গোদাগাড়ী সরকারী কলেজ ও গোদাগাড়ী সরকারী স্কুল এন্ড কলেজের অবস্থান খুবই খারাপ অবস্থানে রয়েছে। প্রকাশিত ফলাফলে রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী উপজেলার গোদাগাড়ী সরকারী কলেজ থেকে ২৩২ জন পরীক্ষা অংশ গ্রহন ৫০ পাস করেছে, কেউ জিপিএ – ৫ পায় নি।পাসের ২২ দশমিক ১২ ভাগ।

উপজেলার গোদাগাড়ী সরকারী স্কুল এন্ড কলেজ থেকে ৩২০ জন পরীক্ষা অংশ গ্রহন ৯৭ পাস করেছে, জিপিএ – ৫ পেয়েছে একজন । পাসের ৩১ দশমিক ৯১ ভাগ। নন এমপিও গোগ্রাম স্কুল এন্ড কলেজ পাসের দিক থেকে ভাল করেছে। এ কলেজ থেকে ৪১ জন পরীক্ষা দিয়ে ২১ পাস করেছে কেউ জিপিএ-৫ পায় নি। পাসের হার ৫২ দশমিক ৫০ ভাগ। গোদাগাড়ী মহিলা কলেজ থেকে ২০০ জন পরীক্ষা পাস করেছে ৯৫ জন কেউ জিপিএ- ৫ পায় নি। পাসের হার ৪৯ দশমিক ২২ ভাগ। গুলগফুর বালিকা স্কুল এন্ড কলেজ থেকে ৬১ জন পরীক্ষা দিয়ে ১৬ জন পাস করেছে পাসের হার ২৭ দশমিক ৫০ ভাগ। চব্বিশ নগর স্কুল এন্ড কলেজ থেকে ৯৩ জন পরীক্ষ ২৫ জন পাস করেছে কেউ জিপিএ -৫ পায় নি।
কাঁকনহাট কলেজ থেকে ১৭৩ জন পরীক্ষা দিয়ে ৪৫ জন পাস করেছে। জিপিএ- ৫ কেউ পায় নি। পাসের হার ২৬ দশমিক ৭৯ ভাগ।
চব্বিশ নগর স্কুল এন্ড কলেজ থেকে ৯৩ জন পরীক্ষ ২৫ জন পাস করেছে কেউ জিপিএ -৫ পায় নি। পাসের হার ২৭ দশমিক ১৭ ভাগ।
বিশ্বনাথপুর স্কুল এন্ড কলেজ থেকে ২৫ জন পরীক্ষা দিয়ে ৫ জন পাস করেছে কেউ জিপিএ- ৫ পায় নি। পাসের হার ২৫ দশমিক ০ ভাগ।
ললিতনগর স্কুল এন্ড কলেজ থেকে ৭৯ জন পরীক্ষা দিয়ে ১৯ জন পাস করেছে পাসের হার ২৪ দশমিক ৬৮ ভাগ। কেউ জিপিএ -৫ পায় নি। পাকড়ী কলেজ থেকে ৯৬ জন পরীক্ষা দিয়ে ২১ জন পাস করেছে পাসের হার ২২ দশমিক ৫৮ ভাগ। কেউ জিপিএ – ৫ পায় নি। পালপুর ধরমপুর কলেজ থেকে ৮৯ পরীক্ষা দিয়ে ১৭ জন পাস করেছে। কেউ জিপিএ – ৫ পায় নি। পাসের হার ২০ দশমিক ৯৯ ভাগ। রাজাবাড়ী ডিগ্রি কলেজ থেকে ১৪২ পরীক্ষা দিয়ে ১৭ জন পাস করেছে। কেউ জিপিএ – ৫ পায় নি। পাসের হার ১২ দশমিক ৬৮ ভাগ।

মাটিকাটা আদর্শ ডিগ্রী কলেজ থেকে ১০৭ জন পরীক্ষা দিয়ে ৮ জন পাস করেছে। কেউ জিপিএ – ৫ পায় নি। পাসের হার ৭ দশমিক ৭৭ ভাগ।

প্রেমতলী ডিগ্রী কলেজ থেকে ১৩৯ জন পরীক্ষা দিয়ে ২৮ জন পাস করেছে। কেউ জিপিএ – ৫ পায় নি। পাসের হার ২০ দশমিক ৯০ ভাগ।

এ দিকে রাজবাড়ী ডিগ্রি কলেজের এমন ফল বিপর্যয়ের প্রকৃত কারণ হিসেবে অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন মহল। তাঁদের মতে, শুধু শিক্ষার্থীদের দুর্বল প্রস্তুতিকে দায়ী না করে কলেজের সামগ্রিক শিক্ষা কার্যক্রম, শিক্ষকদের পাঠদান, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি এবং নিয়মিত মূল্যায়ন ব্যবস্থা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
তাঁরা আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবন ও কর্মজীবনের কথা বিবেচনা করে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
অন্যদিকে কলেজ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া বক্তব্য পাওয়া যায় নি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছেন অভিভাবকরা। তারা আরও জানান, কলেজ অধ্যক্ষ সেলীম রেজাকে একই মামলা একাধিক করে কলেজের বাইরে রাখায় এ ফলাফলের প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন শিক্ষার্থী, অভিভাবকগণ।

উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার, পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাবেক পরিচালক মোঃ সাইদুর রহমান গত ২৯ অক্টোবর সকাল ১০ টায় অনুষ্ঠিত উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় বলেছিলেন, গোদাগাড়ী উপজেলার কলেজ গুলির কোন অভিভাবক নেই। কলেজ চলে খেয়াল খুশিমত, অধ্যক্ষ, অধ্যাপক, প্রভাষকগন কখন আসেন কখন যান তার ঠিক নেই। ২ দিন পর একদিন আসেন, ক্লাস ঠিকভাবে হয় না তাই শিক্ষার্থীরা ক্লাসে আসেন না। এ সময় কাটিকাটা আদর্শ কলেজের অধ্যাপক, জামায়াতের রাজশাহী জেলা আমির আব্দুল খালেক তার বক্তব্যের তীব্র বিরোধীতা করেছেন। তারই কলেজের রেজাল্ট সব চেয়ে তলানীতে। সাইদুর রহমান বলেন, আমার বক্তব্য যে সঠিক ছিল তার প্রমান কলেজ গুলির ফলাফল। তিনি আরও প্রশসনক যদি কলেজগুলি ভালভাবে দেখভাল করেন, শিক্ষকগণ নিয়মিত আসবেন, ক্লাস করবেন ফলাফল এমনি ভাল হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইসরাত জাহানকে মোবাইল করা হলে রিসিভ না করাই বক্তব্য পাওয়া পাওয়া যায় নি।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে একজন অধ্যক্ষ বলেন, কিভাবে রেজাল্ট ভাল হবে বলেন, রাজনৈতিক কারণে সকল বিষয়ে ফেল করা শিক্ষার্থীকে বাধ্য করে ফরম পূরণ করতে হয়েছে, একদিনও ক্লাস করে নি তাদেরও ফরমপূণ করতে হয়েছে। তাদের সাথে কী মারামরি করতে পারবো। ফেল করা শিক্ষার্থী আর পাস করতে পারে না। তিনি আরও বলেন টেষ্ট পরীক্ষায় ৭/৯ বিষয়ে ফেল করা ছাত্রীদের ফরম পূরণ করতে বাধ্য হয়েছিলাম। অভিভাবক ও স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মী, আগামী দিনের সম্ভব্য জনপ্রতিনিধি, এলাকার কিছু মানুষ শিক্ষকদের জিম্মি করে রেখে ফরমপূরন করেছেন।

মোঃ হায়দার আলী
নিজস্ব প্রতিবেদক,
রাজশাহী।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved.©natunbazar24.com
Developed by: A TO Z IT HOST
Tuhin