রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :-
পরারাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্মচারী কল্যাণ সমিতির সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় সুজানগরে শাহীনকে সংবর্ধনা সুজানগরে অ-গ্নিকাণ্ডের ক্ষ-তিগ্রস্তদের মাঝে বস্ত্র বিতরণ ‎পাইকগাছায় জমে উঠেছে কাঁচা সুপারি বেচাকেনার হাট মহেশপুরে ২০ লিটার চো-লাই মদসহ এক মা-দক কারবারি গ্রে-ফতার মান্নারগাঁও ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুছ ছোবহানের ধনপুরে উঠান বৈঠক” জনগণের ভালোবাসায়ই আমি প্রার্থী মোহনপুরে সার ডিলারদের গুদাম পরিদর্শন সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত, গোদাগাড়ীতে শতবছর থেকে একই আঙিনায় মসজিদ ও মন্দির পদ্মার ভাঙ্গনে ডিপটিউবল ঘর, ২ শতাধিক বিঘা ফসলী জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর দুর্গোৎসব উদযাপন করতে কঠোর ইউএনও ময়মনসিংহে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জেলা প্রশাসনের পরিচ্ছন্নতা অভিযান

পদ্মার ভাঙ্গনে ডিপটিউবল ঘর, ২ শতাধিক বিঘা ফসলী জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৫ Time View

রাজশাহী থেকে মোঃ হায়দার আলীঃ বন্যার পানি কমে গেছে তার পরেও পদ্মার তীব্র ভাঙনে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। গত শনিবার রাতে একটি গভীর নলকূপের ঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে, ভাঙ্গন থেকে মাত্র কয়েক ফিট দূরে অবস্থান করছেন পৌরসভার কুঠিপাড়া মুরহুম ইয়াহিয়া মিয়ার বাড়ীর পাশের জামে মসজিদটি। গত দুই মাসেই নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে প্রায় ২০০ বিঘা ফসলি জমি। দীর্ঘ ৮ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে চলমান এই ভাঙনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হচ্ছেন পদ্মা পাড়ের কৃষক, গোদাগাড়ী পৌরসভার রেলওয়ে বাজার, মাদারপুর, দেওয়ানপাড়া, বারুইপাড়া, কুঠিপাড়া, হাটপাড়া, সুলতানগঞ্জ, জামাতিরমোড় এবং উপজেলার আলিপুর, বিয়ানাবোনা, নীলবোনা এলাকায় আবাদি জমি, বসতবাড়ী হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছেন শত শত মানুষ। এর ফলে চরম হুমকির মুখে পড়েছে এ অঞ্চলের মানুষ।
স্থানীয় কৃষকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত শনিবার রাতে পৌরসভার ৩ নং ওয়াডের দেওয়ানপাড়া একটি ডিপটিউল ঘরসহ নদী বিলীন হয়েছে। এ ডিপটিউলের মাধ্যমে কয়েকশ বিঘা জমিতে সেচ দেয়া হতো, বিভিন্ন ধরনের ফসল ফলানো হতো, মাদারপুর এলাকায় পদ্মা নদীর ধারে জেগে উঠা চরে বিভিন্ন জাতের আম, শিশু, মেহেগুনি বাগান ছিল সে বাগান গুলি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। বেলবাজার ঘাটের দু পাশে ১২ টি দোকান ছিল সে দোকান গুলিতে মানুষ, চা, কলা, বিসকুটসহ নানা ধরণের দ্রব্যাদ ক্রয় বিক্রয় করত। সেগুলি নদী গর্ভে চলে গেছে। সে একটি বটগাছ ছিল সেটিও, কয়েকটি খেলার মাঠ ছিল, সকাল বিকাল এলাকার ছেলে ফুটবল ক্রিকেট, ফুটবল খেলতো সেগুলিতে এখন ৩০/৩৫ হাত পানি, মাঝিরা তাদের লগি দিয়ে থাও পান না। রেলবাজার এলাকায় নদীর পাড়ে কেফাতুল্লা মাষ্টারের ৭৫ বিঘা আবাদি জমি ছিল, যা ভাঙতে ভাঙতে এখন মাত্র কয়েক কাঠায় এসে দাঁড়িয়েছে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ মরিয়ম আহম্মেদ জানান, ক্ষতিগ্রস্ত চর আষাদিয়াদহ ইউনিয়ন ও গোদাগাড়ী পৌরসভার, উপজেলার আলিপুর বিয়ানাবোনা এলাকার শ শ মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। পদ্মানদীর ধারে জেগে উঠা চরে, টমেটো, চিনাবাদাম, কলাই, মটর, খেসারী, মূলা, বেগুনসহ মৌসুমি ফসল হতো ওই জেগে চরটি এবার নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে, সেখানে ১ ডিপটিবল, কয়েকটি সেমি ডিপটিবল ছিল সেগুলও পদ্মার ভাঙনে বিলীন হয়েছে এবার।

গত ১৫ অক্টোবর ২০২৬ খ্রিঃ বৃহস্পতিবার
সরেজমিনে পরিদর্শনকালে আসেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ এমপি। তিনি এক মতবিনিময় সভায় বলেন,
গোদাগাড়ী পৌরসভার নদীতীরবর্তী এলাকায় পদ্মার ভাঙন দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভাঙনের ফলে বসতভিটা, কৃষিজমি, রাস্তা, ব্রিজ, কালভাট যোগাযোগব্যবস্থা ও মানুষের জীবন-জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ অবস্থায় ভাঙনপ্রবণ এলাকা পরিদর্শন এবং প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে সরকারের উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। রিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী নদীভাঙনের বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার অবস্থা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। এ সময় তিনি ভাঙন প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন। এখানে যেসব প্রকল্পের কাজ করা হবে সেগুলি সরকারের টাকায় হবে না। এসব টাকা আপনাদের টাকা, আপনারা যে ট্যাস্ক, জমির খাজনা দেন, ওই সব টাকা দিয়ে কাজ করা হবে। এখানে কোন অনিয়ম সহ্য করা হবে আমাদের দলীয় লোক জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে সাংগাঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এখানে স্থায়ীভাবে বাঁধ নির্মান করা হবে। যেখানে যা করা দরকার তা করা হবে। এ সময় পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন এবং রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন। এ ছাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক মো. রুহুল আমিন, গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসরাত জাহানসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

রাজশাহী ১ সংসদ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, সম্প্রতি পদ্মা নদীর ভাঙ্গন, বাঁধ অবস্থা সরজমিনে দেখে এসেছি মানুষকে আশ্বাসও দিয়েছি বাঁধ নির্মান ও রাস্তা সংস্কারের ব্যপারে তিনি আরও বলেন, ৫ বছরের জন্য ২০০ কোটি টাকার প্রকল্পের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। আমার নির্বাচনী এলাকায় ১৬ ইউনিয়ন ও ৪টি পৌরসভায় এমপির বরাদ্দকৃত অর্থ থেকে সমহারে কাজ হবে ইনশাল্লাহ। এতে প্রতিটি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় আধা কিলোমিটার রাস্তা হয় সেটা করার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রধান ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিয়েছে।
উন্নয়ন ও সংস্কার কাজের জন্য বিভিন্ন দপ্তর প্রধান ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী, সচিবদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ করছি। উনারা আশ্বাস দিয়েছেন। উপজেলার চরআষাড়িয়াদহ ইউনিয়ন ও গোদাগাড়ী পৌরসভার এলাকায় প্রায় ৩ কিলোমিটার পদ্মানদীর তীরে বাঁধ নির্মানের প্রক্রিয়া প্রায় শেষের দিকে। ইনশাল্লাহ অচিরে হয়ে যাবে। এছাড়া কোন অংশ ফাঁকা না রেখে একদিক বাঁধ নির্মানের পরামার্শ দিয়েছি কেন না ফাঁকা অংশ ভাঙ্গনের কবলে পড়ে নির্মিত বাঁধের ক্ষতি না হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৯৭৫ সালে পরীক্ষামূলকভাবে একতরফা ফারাক্কা বাঁধ চালু করেছিল ভারত। পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার সরসেরগঞ্জ থানার একটি গ্রাম ফারাক্কা। এখানেই গঙ্গা নদীর ওপর নির্মিত ১১৯টি লকগেটবিশিষ্ট যে বাঁধ দেওয়া হয়, সেটাই ফারাক্কা বাঁধ। ফারাক্কা থেকে ১৮ কিলোমিটার ভাটিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জের পাঁকা পয়েন্টেই গঙ্গা হয়েছে পদ্মা।

১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি মোতাবেক পানির যে হিস্যা পাওয়ার কথা আমাদের, তা আমরা পাচ্ছি না। গত বছর হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে ১৫ হাজার কিউসেক পানির প্রবাহ কমেছিল।

চলমান ৩০ সাল চুক্তি বাংলাদেশের ন্যায্য পানিপ্রাপ্তির কোনো নিশ্চয়তা দেয়নি। আগের চুক্তিতে যতটুকু নিশ্চয়তা ছিল, এ চুক্তিতে তাও নেই। ফলে পানিবঞ্চনা আরো বেড়েছে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বক্তব্য খোলাখোলি। শুকনো মওসুমে তিস্তার পানি প্রবাহ এত কমে আসে যে, তা দিয়ে পশ্চিমবঙ্গের প্রয়োজনই মেটে না, বাংলাদেশকে আমরা পানি দেবো কিভাবে? আর বর্ষা মৌসুমে মরণ বাঁধ ফারাক্কার সব গেট খুলে দিয়ে পানিতে ডুবিয়ে মারছে ভারত। প্রতিবছর বন্যার সময় ২০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে নদী ভাঙন শুরু হয়। এবার শুরু হয়েছে।

স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে অচিরেই এই এলাকার বাকি আবাদি জমিও, বসত বাড়ী, দোকান, মসজিদ পদ্মার বুকে হারিয়ে যাবে। গোদাগাড়ীর মনচিত্র পাল্টিয়ে যাবে।

মোঃ হায়দার আলী
নিজস্ব প্রতিবেদক,
রাজশাহী।।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved.©natunbazar24.com
Developed by: A TO Z IT HOST
Tuhin