
কালকিনি ও ডাসার প্রতিনিধিঃ
অফিস চলাকালীন কক্ষ তালাবদ্ধ করে উধাও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। সেবা নিতে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাইরে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন সাধারণ মানুষ। কোনো কোনো সেবাগ্রহীতা প্রায় ১০ কিলোমিটার দূর থেকে এসেও দেখা পাচ্ছেন না কারও। আবার কাজ করিয়ে দেওয়ার নামে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার পরও ভুলের মাশুল গুনতে হচ্ছে তাঁদের।
মাদারীপুরের ডাসার উপজেলার নবগ্রাম ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয়ের চিত্র এটি। কার্যালয়টিতে দীর্ঘদিন ধরে এমন অনিয়ম ও হয়রানি চলছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
গত রোববার দুপুর ১২টার দিকে নবগ্রাম ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, দাপ্তরিক কাজ চলার কথা থাকলেও প্রতিটি কক্ষের দরজায় ঝুলছে তালা। তবে খোলা রাখা হয়েছে জানালাগুলো। ভবনের বারান্দা ও বাইরে অপেক্ষা করছেন ৫-৬ জন সেবাগ্রহীতা।
ভুক্তভোগীদের একজন চলবল গ্রামের বাসিন্দা নির্মল মল্লিক। তিনি জানান, নামজারির (মিউটেশন) কাজের কথা বলে তাঁর কাছ থেকে কার্যালয়ের অফিস সহায়ক সৈয়দ মিন্টু ৫ হাজার টাকা নেন। কিন্তু টাকা দেওয়া সত্ত্বেও কাগজে ভুল আসে। সেই ভুল সংশোধনের জন্য রোববার অফিসে এসে দুই ঘণ্টার বেশি সময় অপেক্ষা করেও কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর দেখা মেলেনি।
নির্মল মল্লিক আক্ষেপ করে বলেন, ‘টাকা দিয়েও কাজের কাজ কিছুই হয়নি, উল্টো কাগজে ভুল আসছে। এখন তা ঠিক করতে এসে দেখি দরজায় তালা ঝুলছে। দুই ঘণ্টা ধরে দাঁড়িয়ে আছি, কাউকেই পাচ্ছি না।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে অসুস্থতা, নামাজ ও দুপুরের খাবারের অজুহাত দেন অফিস সহায়ক সৈয়দ মিন্টু। তিনি বলেন, ‘আমি একটু অসুস্থ থাকার কারণে দেরি হয়েছে, নামাজেও গিয়েছিলাম।’ সাংবাদিকের ফোন পাওয়ার কিছুক্ষণ পর তিনি মোটরসাইকেলে অফিসে এসে পৌঁছান। তবে নামজারির বিনিময়ে টাকা নেওয়ার বিষয়টি তিনি এড়িয়ে যান।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এটি কোনো এক দিনের ঘটনা নয়। প্রায় প্রতিদিনই অফিস খোলা রাখার সময়ে তালা ঝুলিয়ে নিজ বাড়িতে বা ব্যক্তিগত কাজে চলে যান অফিস সহায়ক।
এদিকে দাপ্তরিক সময়ে কার্যালয়ে পাওয়া যায়নি ইউনিয়ন উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা মো. রাজ্জাককেও। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি মুঠোফোনে দাবি করেন, কার্যালয়ের কম্পিউটার নষ্ট থাকায় সেটি মেরামতের জন্য তিনি মাদারীপুর জেলা সদরে গেছেন।
নবগ্রাম ইউনিয়নের ১৫টি গ্রামের প্রায় ১৪ হাজার মানুষের ভূমি সেবার মূল কেন্দ্র এই ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয়। দাপ্তরিক কাজে এসে প্রতিনিয়ত এমন চরম ভোগান্তি ও দুর্নীতির শিকার হওয়ায় ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে সেবাগ্রহীতাদের মাঝে। তারা অবিলম্বে এ অনিয়ম বন্ধে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
জানতে চাইলে ডাসার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাকিয়া সুলতানা বলেন, ‘অফিস চলাকালীন সময় কার্যালয় বন্ধ রাখা কিংবা সেবাগ্রহীতাদের হয়রানির কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিধিমোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
কালকিনি ও ডাসার প্রতিনিধিঃ
তাং ০১/৯/২৬