
রাজশাহী থেকে মোঃ হায়দার আলী : রাজশাহীর গোদাগাড়ীবাসির ভালোবাসায় সিক্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. এম এনামুল হকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা শেষে পরিবারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ব্যক্তিবর্গ সংক্ষিপ্ত বক্তব্য প্রদান করেন। তার নামাজের জানাজায় ছাত্র, শিক্ষক, প্রশাসনের কর্মকতা, কর্মচারী, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন পেশার হাজার হাজার মানুষ অংশ গ্রহন করেন। সকাল সাড়ে ১০ টার পূর্বেই বিদ্যালয়ের মাঠে শুধু মানুষ আর মানুষ প্রিয় মানুষটি এক নজর দেখার জন্য ছুটে আসেন। আজ ৩১ আগস্ট সোমবার বেলা ১১ টায় গোদাগাড়ীর মরহুম ডক্টর এনামুল হকের পিতা-মাতার প্রতিষ্ঠা করা আফজি স্কুল মাঠে তার জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। নামাজের জানাজায ইমামতি করেন মরহুমের নিজ গ্রামের কেল্লা বারইপাড়া জামে মসজিদের, খতিব মুফতি নোমান আল ফাইজী। নামাজ জানাজা শেষে ফাজিলপুর পারিবারিক কবরস্থানে বাবা-মা ভাইদের পাশে দাফন কাজ সম্পন্ন হয়।
জানা যায়, গোদাগাড়ী পৌরসভা মহল্লার কেল্লাবারুইপাড়া নিবাসী মরহুম ফাহিম উদ্দিন মাস্টার ও আনোয়ারা খাতুন দম্পতির ১ম সন্তান ও সাবেক মন্ত্রী মরহুম ব্যারিস্টার আমিনুল হক এর বড় ভাই এম এনামুল হক গত রবিবার বাদ ফজর ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু বরন করেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রজিউন তিনি বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক আইজিপি, ইন্টারপোল ও ল-কমিশনের সাবেক সদস্য এবং ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী -১ (গোদাগাড়ী তানোর) আসনের বিএনপি দলীয় প্রার্থী ছিলেন।
তিনি সনামধন্য ব্যক্তিত্ব এবং কর্মজীবনের অধিকরী ছিলেন। দীর্ঘ ৯৪ বছর বয়সে মৃত্যুর সময় তিনি এক স্ত্রী, এক কন্যা সন্তান এবং দুই পুত্র সন্তান সহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
মরহুমের বিদেহী আত্মার শান্তি ও মাগফেরাত কামনা করেছেন গোদাগাড়ীবাসী। শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করছি। মহান আল্লাহ তায়ালা যেন মরহুমের পরিবার ও আত্মীয়স্বজনদের শোক সইবার শক্তি ও সামর্থ্য প্রদান করেন এবং মরহুমকে জান্নাতুল ফেরদাউস নসিব করেন।
তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ছিলেন এবং তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন ডিএমপি কমিশনার ও আইন কমিশনের সদস্য হিসেবে।
বিএনপির গণমাধ্যম সেলের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। শোকবার্তায় জানানো হয়, মরহুম এম. এনামুল হক সরকারের উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদের বড় চাচা। তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে বিএনপির গণমাধ্যম সেল। তার মুত্যতে গোদাগাড়ী তথা রাজশাহীর বাতাস যেন ভারী হয়ে উঠেছে। তিনি ছিলেন গোদাগাড়ী এক আলোকবর্তিকা। তার মৃত্যুতে গোদাগাড়ীতে গোদাগাড়ীবাসী এক উজ্জল নক্ষত্রকে হারালেন। যা পূরণ হবার নয়।
মোঃ হায়দার আলী
রাজশাহী।।