
তরিকুল ইসলাম তরুন | কুমিল্লা
কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার শাকতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. অলিউল্যাহ হেলালের বিরুদ্ধে তদবির, বদলি বাণিজ্য, কোচিং ব্যবসা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, প্রভাব খাটিয়ে তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। এ ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কুমিল্লা কার্যালয়ের মাধ্যমে তদন্তেরও অনুরোধ জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সম্প্রতি এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে কুমিল্লা জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, অলিউল্যাহ হেলাল নিজেকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাবেক শিক্ষামন্ত্রীর ভাগনি জামাই পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বদলি তদবির, শিক্ষক ডেপুটেশন, প্রশ্নপত্র ও সিলেবাস ব্যবস্থাপনায় অবৈধ প্রভাব বিস্তার করে আসছেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি চাঁদপুর জেলার কচুয়া উপজেলা থেকে বদলি হয়ে প্রথমে কুমিল্লার গৈয়ারভাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগ দেন। পরে রসুলপুর, কনেশতলা ও কাজীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হয়ে বর্তমানে শাকতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, সদর দক্ষিণ উপজেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি হিসেবে প্রভাব খাটিয়ে উপজেলার প্রায় ৯০টি বিদ্যালয়ের সিলেবাস, প্রশ্নপত্র ছাপানো, শিক্ষক ডেপুটেশন ও বদলি কার্যক্রমে একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেন।
লিখিত অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, সরকারি নির্ধারিত ১০ টাকার সিলেবাস শিক্ষার্থীদের কাছে ২০ টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। প্রথম প্রান্তিক মূল্যায়ন পরীক্ষার নামে প্রতি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ১৫ টাকা ও ছয়টি সাদা কাগজ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া স্কাউট কার্যক্রমের নামে একাধিকবার ফি আদায়ের অভিযোগও রয়েছে।
কোচিং বাণিজ্যের অভিযোগে বলা হয়েছে, শাকতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে সাড়ে ৮টা পর্যন্ত কোচিং পরিচালনা করা হয়। এতে প্রতিটি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে এক হাজার টাকা করে আদায় করা হয় এবং সেই অর্থের একটি বড় অংশ প্রধান শিক্ষকের কাছে যায় বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের কক্ষে নিয়মিত বিভিন্ন ব্যক্তিকে নিয়ে তদবিরের আসর বসে। স্কুল বন্ধের দিনেও বিভিন্ন বৈঠকের আয়োজন করা হয়। অতীতে দুর্নীতির অভিযোগে তিনি দুইবার সাময়িক বরখাস্ত হয়েছেন বলেও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, বদলি বাণিজ্য ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে অলিউল্যাহ হেলাল বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। তাই তার আয়-সম্পদের উৎস অনুসন্ধানে দুদকের নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে প্রধান শিক্ষক মো. অলিউল্যাহ হেলালের মোবাইল ফোনে কয়েক দফা কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
কুমিল্লা জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, “এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।