
আরিফ রব্বানী ময়মনসিংহ।।
জনবান্ধব পুলিশি সেবাকে জনকল্যাণে পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে নিরাপদ ও বাসযোগ্য জেলা উপহার দিতে ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের কার্যক্রম যাচাইয়ে পরিদর্শন করেছেন ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান। পরিদর্শন শেষে ডিআইজি ৩টি পিংক কেশিয়া, ৩টি জারুল ও একটি কুরচি-গিরি মল্লিকার গাছ রোপন করেন। এর আগে তিনি ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং জেলার সকল থানার অফিসার ইনচার্জদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট,২০২৬) ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ কার্যালয় পরিদর্শনে গেলে তাকে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুল হাসান এর নেতৃত্বে জেলা পুলিশের কর্মকর্তাগণ ফুলের শুভেচ্ছায় বরণ করেন।
মতবিনিময় সভায় জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, অপরাধের ধরন ও প্রবণতা, বিভিন্ন মামলার পরিসংখ্যান, মামলার তদন্ত ও নিষ্পত্তির অগ্রগতি এবং মাদকবিরোধী কার্যক্রমের সার্বিক চিত্র পর্যালোচনা করা হয়। পাশাপাশি থানাভিত্তিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও পুলিশের সেবামূলক কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
ডিআইজি মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান বলেন, অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে আরও সক্রিয়, পেশাদার ও প্রযুক্তিনির্ভরভাবে কাজ করতে হবে। মাদক নির্মূলে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও নজরদারি জোরদারের পাশাপাশি মাদকের উৎস, সরবরাহকারী ও মূল হোতাদের আইনের আওতায় আনতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশনা দেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশকে আরও সংবেদনশীল, মানবিক ও দায়িত্বশীল হতে হবে। থানায় আগত নারী, শিশু, ভুক্তভোগী ও সাধারণ জনগণের সঙ্গে সৌজন্যপূর্ণ আচরণ এবং দ্রুত ও কার্যকর পুলিশি সেবা নিশ্চিত করার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
পুলিশের আচরণ ও সেবাদানের মানোন্নয়নের বিষয়ে ডিআইজি বলেন, জনগণের আস্থা অর্জনই জনবান্ধব পুলিশিংয়ের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। পুলিশের প্রতিটি সদস্যকে সততা, পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ সুপার কামরুল হাসান বলেন, জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, মাদক, কিশোর অপরাধ, চুরি-ছিনতাই, ডাকাতি ও সাইবার অপরাধসহ বিভিন্ন অপরাধের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান আরও জোরদার করা হবে। একই সঙ্গে নারী ও শিশু নির্যাতনসহ সংবেদনশীল মামলায় দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভুক্তভোগীদের প্রতি মানবিক আচরণ নিশ্চিত করা হবে।
পুলিশ সুপার আরও বলেন, থানাকে জনগণের আস্থার কেন্দ্রে পরিণত করতে পুলিশি সেবায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করা হবে। জনগণের সঙ্গে পুলিশের দূরত্ব কমিয়ে পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করার জন্য তিনি সকল ইউনিটের সদস্যদের নির্দেশনা প্রদান করেন।
সভায় ডিআইজি মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান
জেলার সকল থানার অফিসার ইনচার্জদের নিজ নিজ এলাকার অপরাধ পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ, মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার, গুরুত্বপূর্ণ ও চাঞ্চল্যকর মামলার তদন্ত দ্রুত সম্পন্ন, গ্রেফতারি পরোয়ানা তামিল এবং জনসাধারণের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এছাড়া নারী ও শিশুবান্ধব পুলিশিং, ভুক্তভোগীবান্ধব সেবা, বিট পুলিশিং কার্যক্রম জোরদার এবং জনগণের সঙ্গে নিয়মিত মতবিনিময়ের মাধ্যমে জনবান্ধব, সেবামুখী ও আস্থাশীল পুলিশিং ব্যবস্থা গড়ে তোলার নির্দেশনা প্রদান করা হয়।
পরিদর্শন ও মতবিনিময় শেষে ডিআইজি মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের সকল সদস্যকে নিষ্ঠা, সততা, শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। জনগণের নিরাপত্তা ও কল্যাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তাকে নির্দেশ প্রদান করেন এবং পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে সৌন্দর্য বৃদ্ধির লক্ষে বিরল প্রজাতির ৩টি পিংক কেশিয়া, ৩টি জারুল ও একটি কুরচি-গিরি মল্লিকার গাছ রোপন করেন।
এ সময় অতিরিক্ত ডিআইজি(প্রশাসন ও অর্থ) মোঃ আবু বকর সিদ্দীক; পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতি প্রাপ্ত রাশিদা বেগম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মোঃ আবদুল্লাহ আল মামুন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ আশরাফুল করিম, ,সহকারী পুলিশ সুপার, স্টাফ অফিসার টু ডিআইজি,পারভেজ আলমসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।