
কুমিল্লা দক্ষিণ প্রতিনিধি: তরিকুল ইসলাম তরুন
কৃষকদের জন্য সরাসরি সহায়তা নিশ্চিত করতে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রমকে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেছেন কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী আমিন উর রশিদ ইয়াছিন। তিনি বলেন, দেশের কৃষি খাতের উন্নয়নে অতীতের বিভিন্ন কৃষিবান্ধব পদক্ষেপ আজও ইতিবাচক প্রভাব রেখে চলেছে।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) দুপুরে কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের বিবিরবাজার হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে আয়োজিত কৃষক কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সময় কৃষি ঋণমুক্তকরণ, সারের ভর্তুকি প্রদানসহ কৃষকদের জন্য নানা সহায়ক নীতি বাস্তবায়ন করা হয়েছিল, যা কৃষি খাতকে শক্তিশালী ভিত্তি দেয়। “কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে”—এই দর্শন থেকেই সেই সময়কার নীতিনির্ধারণ করা হয়েছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং বেগম খালেদা জিয়ার উত্তরসূরি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও একই কৃষিবান্ধব আদর্শে বিশ্বাসী। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি কৃষকদের কল্যাণে বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছেন। এর মধ্যে কৃষি ঋণমুক্তকরণ কার্যক্রম জোরদার এবং ‘কৃষক কার্ড’ চালুর মতো উদ্যোগ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। নির্বাচনী ইশতেহারের ৩১ দফা প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে এসব কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, ভর্তুকি ব্যবস্থার সূচনা অতীতে হলেও বর্তমান সময়ে তা আরও সম্প্রসারিত ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়েছে। কৃষকদের সহায়তায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’সহ নতুন নতুন কর্মসূচি চালু করা হয়েছে, যার মাধ্যমে অনেক কৃষক পরিবার ইতোমধ্যে উপকৃত হয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ সরাসরি বা পরোক্ষভাবে কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত। এই বৃহৎ জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা গেলে জাতীয় অর্থনীতিও আরও শক্তিশালী হবে। কৃষকদের স্বাবলম্বী করে তুলতে পারলে দারিদ্র্য হ্রাস পাবে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ, যেখানে সারা বছর বিভিন্ন ফসল উৎপাদনের সুযোগ রয়েছে। কৃষিখাতকে আধুনিক ও লাভজনক খাতে রূপান্তরের জন্য সরকার প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। উৎপাদন খরচ কমানো, ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ সরবরাহ এবং উৎপাদিত পণ্যের সঠিক মূল্য নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর।
তিনি বলেন, ‘কৃষক কার্ড’-এর মাধ্যমে কৃষকরা সহজেই ভর্তুকি, প্রণোদনা ও বিভিন্ন আর্থিক সহায়তা পাচ্ছেন, যা তাদের উৎপাদন কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করছে। ভবিষ্যতেও কৃষকদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সরকার কাজ করে যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা-৫ আসনের সংসদ সদস্য জসিম উদ্দিন, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. রফিকুল ই মোহামেদ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, কুমিল্লা সিটি প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু, জেলা পরিষদের প্রশাসক মোস্তাক মিয়া এবং আদর্শ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতেমাতুজ জোহরা, জেলা কৃষি অফিসার মিজানুর রহমানসহ বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
অনুষ্ঠান শেষে মন্ত্রী নির্বাচিত কৃষকদের মাঝে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ করেন এবং কৃষি বিভাগের বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন।
উল্লেখ্য, কৃষকদের আর্থসামাজিক উন্নয়ন, জীবনমান বৃদ্ধি এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কুমিল্লায় মোট ১,৪৫৮ জন কৃষকের মাঝে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ করা হয়েছে।