
এম এ আলিম রিপন,সুজানগর ঃ পাবনার সুজানগরে পেঁয়াজের উৎপাদন ও সংরক্ষণ ব্যবস্থার উন্নয়নে কৃষকদের মাঝে এয়ার ফ্লো মেশিন বিতরণ করা হয়েছে। বাংলাদেশের পেঁয়াজ উৎপাদন এলাকায় পরিবর্তিত জলবায়ুর প্রতিকূল প্রভাব প্রশমনে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কৃষক পর্যায়ে পেঁয়াজ সংরক্ষণের অভিযোজন প্রকল্প’ এর আওতায় এ মেশিন বিতরণ করা হয়।
বৃহস্পতিবার সুজানগর উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ আসাদুজ্জামানের সভাপতিত্বে এয়ার ফ্লো মেশিন বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মীর রাশেদুজ্জামান রাশেদ। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে ও উপ সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা আলমগীর হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপজেলা বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক অধ্যক্ষ নাদের হোসেন, বিএনপি নেতা আহমেদ আলী প্রামানিক লাটু, উপজেলা কৃষদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনিছুর রহমান খোকন, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক সিদ্দিকুর রহমান পিন্টু, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের আহ্বায়ক জাকির হোসেন ও ছাত্রদল নেতা গাজী মাজহারুল ইসলামসহ কৃষক-কৃষাণীরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ৪০ লাখ মেট্রিক টন পেঁয়াজ উৎপাদন হলেও, উপযুক্ত সংরক্ষণ ব্যবস্থার অভাবে প্রায় ১০ লাখ মেট্রিক টন পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে যায়। এর ফলে একদিকে যেমন বিদেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি করতে হয়, অন্যদিকে পেঁয়াজের দাম স্থিতিশীল থাকে না এবং কৃষকরাও তাদের ন্যায্য দাম পান না। তিনি এয়ার ফ্লো মেশিনকে এই সমস্যার একটি কার্যকর সমাধান হিসেবে উল্লেখ করেন।
এই প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে পেঁয়াজ নষ্ট হওয়ার পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব, যা দেশের পেঁয়াজ আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে আনবে এবং ভবিষ্যতে পেঁয়াজ রপ্তানির সুযোগ তৈরি করবে। এই প্রকল্পের অধীনে সুজানগরসহ দেশের ১৬টি জেলার ১০৭টি উপজেলায় ৩,৭০০টি এয়ার ফ্লো মেশিন বিতরণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এক্ষেত্রে কৃষকদের সরাসরি মেশিন না দিয়ে, তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ২৭,০০০ টাকা করে প্রদান করা হচ্ছে, যাতে তারা নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী যেকোনো কোম্পানির মেশিন কিনতে পারেন।
সুজানগর(পাবনা)প্রতিনিধি।।