শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৪৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম :-
কুমিল্লা মনোহরগঞ্জে পদ না পেয়ে নিজের গালে জুতাপেটা ছাত্রদল নেতার বাংলাবাজার পত্রিকার সাংবাদিক জাহাঙ্গীর প্রধানকে প্রা-ণনাশের হু-মকি-আশুলিয়া থানায় জিডি আশুলিয়ায় ডিবি পুলিশ কর্তৃক ৫২ কেজি গাঁজাসহ একজন পেশাদার মাদক কারবারী গ্রে-ফতার একটি গাড়ী ‍উদ্ধার গোপালগঞ্জে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে পূজা মন্ডপ পরিদর্শন করেছেন ঢাকা রেঞ্জ ডিআইজি মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান  সন্তানের হাতের স্মার্টফোনই হতে পারে প্রিয় শিক্ষক, এআইনির্ভর শিক্ষায় পড়াশোনা হবে সহজ- ড. মো. শাহজামাল সাজু রাজশাহীতে ক্রিকেটারদের চু-রি হওয়া লাগেজ উদ্ধার ৪ জনকে আট-ক করেছে পুলিশ তানোরে ছাত্রলীগ-যুবলীগের ঝটিকা মশাল মিছিলের ভিডিও ভাইরাল দুর্গোৎসবে বিশৃঙ্খলা রোধে বাড়তি সতর্কতার আহ্বান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হকের স্বাধীনতার ৫৪ বছরে নদীভাঙনে বিলীন হয়েছে বহু ঘরবাড়ি ও স্থাপনা: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী পার্বতীপুরে কোকো ক্রীড়া সংসদের বেলাইচণ্ডী ইউনিয়ন কমিটি গঠন

সন্তানের হাতের স্মার্টফোনই হতে পারে প্রিয় শিক্ষক, এআইনির্ভর শিক্ষায় পড়াশোনা হবে সহজ- ড. মো. শাহজামাল সাজু

Reporter Name
  • Update Time : শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬
  • ১১৪ Time View

রাজশাহী থেকে মোঃ হায়দার আলীঃ বাংলাদেশের রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার মহিশালবাড়ী মহল্লার মোঃ আব্দুল হান্নানের বড় ছেলে অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসী কম্পিউটার বিজ্ঞানী ড. মো. শাহজামাল সাজু সুদূর অষ্টোলিয়ার মাটিতে বসে দেশের ছেলে মেয়েদের কথা চিন্তা করে সফল হতে যাচ্ছেন। বেশ সাড়া জাগিয়েছে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় বদলে যেতে পারে বাংলাদেশের পড়াশোনার চিত্র, কমতে পারে শিক্ষার সুযোগের বৈষম্য
নিজের সন্তানের পড়াশোনা নিয়ে দুশ্চিন্তা করেন না—এমন অভিভাবক খুঁজে পাওয়া কঠিন। কেউ ভালো শিক্ষকের অভাবে চিন্তিত, কেউ ব্যয়বহুল প্রাইভেট ও কোচিংয়ের খরচ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন। আবার অনেক অভিভাবকের অভিযোগ, সন্তান পড়তে বসতে চায় না, পড়াশোনায় মনোযোগ ধরে রাখতে পারে না। অথচ সেই সন্তানের হাতেই রয়েছে একটি স্মার্টফোন। যে ফোনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা গেম খেলা, ভিডিও দেখা কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে চ্যাট করে কাটছে, সেই ফোনই যদি হয়ে ওঠে ব্যক্তিগত শিক্ষক, পড়ার সঙ্গী এবং শেখার আনন্দময় মাধ্যম? কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই সেই সম্ভাবনাই তৈরি করছে। বাংলাদেশের প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষায় এমন সম্ভাবনার দুয়ার খুলতে কাজ করছে Saj Academy নামের একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম।
মুখস্থ নয়, আনন্দ নিয়ে শেখার সুযোগ
প্রযুক্তির ব্যবহার এখন আর কেবল অফিসের কাজ সহজ করা কিংবা বিনোদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানুষের কাজের ধরন বদলে দিচ্ছে। শিক্ষাক্ষেত্রেও এর প্রভাব হতে পারে সুদূরপ্রসারী। বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো দেশে, যেখানে মানসম্মত শিক্ষার সুযোগ, দক্ষ শিক্ষকের প্রাপ্যতা এবং পরিবারের আর্থিক সামর্থ্য—সব শিক্ষার্থীর জন্য সমান নয়, সেখানে এআই হতে পারে নতুন সম্ভাবনার নাম।
একজন শিক্ষার্থী গণিতের কোনো বিষয় বুঝতে না পারলে তাকে হয়তো বারবার শিক্ষকের কাছে যেতে হয়। কোনো কোনো শিক্ষার্থী শ্রেণিকক্ষে প্রশ্ন করতে সংকোচ বোধ করে। আবার কেউ দ্রুত বুঝতে পারলেও প্রচলিত পাঠদানের গতির কারণে নিজের আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। এআইভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা এসব সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে ওঠার সুযোগ তৈরি করতে পারে।
এখানে শিক্ষার্থী নিজের সুবিধামতো সময়ে প্রশ্ন করতে পারে, একই বিষয় বারবার বুঝে নিতে পারে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সহজ উদাহরণ, ব্যাখ্যা কিংবা অনুশীলনের সাহায্য নিতে পারে। অর্থাৎ, সবার জন্য একই পদ্ধতিতে পড়ানোর পরিবর্তে শিক্ষার্থীর বোঝার ধরন অনুযায়ী শেখানোর সুযোগ তৈরি হয়।
শিক্ষার এই ব্যক্তিকেন্দ্রিক পদ্ধতি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, সব শিক্ষার্থী একইভাবে শেখে না। কেউ উদাহরণ দিয়ে বুঝতে পারে, কেউ ছবি বা চিত্রের সাহায্যে, আবার কেউ বাস্তব জীবনের ঘটনার সঙ্গে মিলিয়ে বিষয়টি সহজে আয়ত্ত করতে পারে। সঠিকভাবে তৈরি এআই টিউটর শিক্ষার্থীর প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যাখ্যার ধরন বদলাতে পারে।
ফোন কেড়ে নেওয়া নয়, ফোনের ব্যবহার বদলে দেওয়া
বর্তমান সময়ে শিশু-কিশোরদের স্মার্টফোন থেকে পুরোপুরি দূরে রাখা অনেক পরিবারের জন্য কঠিন হয়ে উঠেছে। কিন্তু ফোন ব্যবহারের সময়টিকে কীভাবে আরও অর্থবহ করা যায়, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
ধরা যাক, একজন শিক্ষার্থী পড়াশোনার চেয়ে গেম খেলতেই বেশি পছন্দ করে। প্রচলিত পদ্ধতিতে তাকে পড়ার টেবিলে বসানোই হয়তো অভিভাবকের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। কিন্তু পড়ার বিষয়গুলো যদি কুইজ, চ্যালেঞ্জ, পয়েন্ট অর্জন কিংবা ছোট ছোট লক্ষ্য পূরণের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়, তাহলে শেখার অভিজ্ঞতা আরও আকর্ষণীয় হতে পারে।
আবার বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগের অভ্যাসকে কাজে লাগিয়ে যদি দলগত অনুশীলন, প্রশ্নোত্তর কিংবা পড়াশোনাকেন্দ্রিক কমিউনিটি গড়ে তোলা যায়, তাহলে শিক্ষার্থীরা একে অপরের কাছ থেকেও শিখতে পারবে। পড়াশোনা তখন কেবল একা বসে বই মুখস্থ করার বিষয় থাকবে না; বরং হয়ে উঠতে পারে অংশগ্রহণমূলক ও আনন্দদায়ক একটি অভিজ্ঞতা।
তবে এখানে একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ—প্রযুক্তি নিজে থেকেই শিক্ষার্থীর মনোযোগ বাড়িয়ে দেবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। এআইভিত্তিক অ্যাপের কার্যকারিতা নির্ভর করবে তার নকশা, শিক্ষাসামগ্রীর মান, শিক্ষার্থীর ব্যবহার এবং অভিভাবক-শিক্ষকের সহযোগিতার ওপর। সঠিকভাবে ব্যবহার করা গেলে স্মার্টফোন বিনোদনের পাশাপাশি শেখারও কার্যকর মাধ্যম হতে পারে।
অভিভাবকের দুশ্চিন্তা কমাতে পারে এআই
সন্তান আসলে কতটা পড়ছে, কোন বিষয়ে ভালো করছে, কোথায় পিছিয়ে আছে—এসব প্রশ্নের উত্তর জানতে অভিভাবকদের অনেক সময় নিয়মিত খোঁজ নিতে হয়। কিন্তু প্রতিদিন সন্তানের পড়াশোনার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা সবার পক্ষে সম্ভব হয় না।
এআইভিত্তিক শিক্ষাপ্ল্যাটফর্মে শিক্ষার্থীর অনুশীলন, সম্পন্ন করা পাঠ এবং পারফরম্যান্সের তথ্য বিশ্লেষণ করে অগ্রগতির প্রতিবেদন তৈরি করার সুযোগ রয়েছে। এ ধরনের প্রতিবেদন নিয়মিত ই-মেইল বা বার্তার মাধ্যমে অভিভাবকের কাছে পৌঁছালে তাঁরা সন্তানের পড়াশোনার অবস্থা সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পেতে পারেন।
কোন বিষয়ে অতিরিক্ত অনুশীলন প্রয়োজন, কোথায় উন্নতি হচ্ছে, কিংবা কোন অধ্যায়ে শিক্ষার্থী বারবার ভুল করছে—এসব তথ্য পরবর্তী পড়াশোনার পরিকল্পনা করতে সাহায্য করতে পারে।
এতে অভিভাবকের ভূমিকা কমে যায় না; বরং সন্তানের শেখার প্রক্রিয়ায় তাঁরা আরও কার্যকরভাবে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পান।
Saj Academy: সহজ, সাশ্রয়ী ও আনন্দময় শিক্ষার উদ্যোগ

এমন সম্ভাবনাকে সামনে রেখে গত এক বছর ধরে Saj Academy নামের একটি ডিজিটাল শিক্ষাপ্ল্যাটফর্ম তৈরিতে কাজ করছেন একদল কম্পিউটার প্রকৌশলী। দলটির নেতৃত্বে রয়েছেন অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসী কম্পিউটার বিজ্ঞানী ড. মো. শাহজামাল।
এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে পড়াশোনাকে সহজ করা, শিক্ষার ব্যয় কমানোর সুযোগ তৈরি করা এবং শেখার অভিজ্ঞতাকে আরও আনন্দময় করে তোলা।
বিশেষ করে যেসব পরিবারের সন্তানদের জন্য নিয়মিত প্রাইভেট টিউটর বা কোচিংয়ের ব্যয় বহন করা কঠিন, তাদের জন্য প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাসহায়তা নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। একজন শিক্ষার্থী নিজের সুবিধামতো সময়ে পড়তে পারবে, না-বোঝা বিষয়ে প্রশ্ন করতে পারবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অনুশীলনের সুযোগ পেতে পারে।
এ ধরনের ব্যবস্থা প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে, যেখানে অভিজ্ঞ শিক্ষক কিংবা মানসম্মত কোচিংয়ের সুযোগ তুলনামূলকভাবে সীমিত। তবে এর সুফল পেতে নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট, উপযুক্ত ডিভাইস, মানসম্মত বাংলা শিক্ষাসামগ্রী এবং প্রযুক্তির নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি।
ভর্তি প্রস্তুতি থেকে শ্রেণিকক্ষ—একাধিক সেবার পরিকল্পনা
Saj Academy ইতোমধ্যে ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য AdmitPrep নামের একটি সেবা চালু করেছে। প্রতিষ্ঠানটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আগ্রহী শিক্ষার্থীরা এখানে বিনা মূল্যে ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া, ভর্তি-সংক্রান্ত গাইডবুক পাওয়া এবং ব্যক্তিকেন্দ্রিক পড়াশোনার সুযোগ গ্রহণ করতে পারবেন।
প্রতিষ্ঠানটির পরিকল্পনায় রয়েছে আরও দুটি সেবা। এর একটি TeacherDesk, যার লক্ষ্য শিক্ষকদের দৈনন্দিন কাজ সহজ করা। পাঠ পরিকল্পনা, শিক্ষাসামগ্রী তৈরি কিংবা মূল্যায়নের মতো কাজে এআইয়ের সহায়তা শিক্ষকদের সময় বাঁচাতে পারে। ফলে তাঁরা শিক্ষার্থীদের শেখানো এবং ব্যক্তিগত সমস্যার সমাধানে আরও বেশি মনোযোগ দেওয়ার সুযোগ পাবেন।
অন্য সেবা StudyPrep। প্রতিষ্ঠানটির পরিকল্পনা অনুযায়ী, নবম ও দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য এআইভিত্তিক এই সেবার মাধ্যমে পাঠ্যবিষয় শেখা, প্রশ্নের উত্তর জানা এবং টিউটরের মতো সহায়তা পাওয়ার সুযোগ তৈরি করা হবে। এর উদ্দেশ্য হলো, শিক্ষার্থীরা যেন প্রয়োজনের সময় পড়াশোনার সাহায্য পায় এবং প্রতিটি প্রশ্নের জন্য আলাদা বই বা ব্যক্তিগত শিক্ষকের ওপর পুরোপুরি নির্ভর করতে না হয়।
তবে এসব সেবার কার্যকারিতা, শিক্ষাসামগ্রীর মান এবং দীর্ঘমেয়াদি ফলাফল মূল্যায়নে ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতা ও নির্ভরযোগ্য তথ্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
শিক্ষার্থীর ধরন বুঝে শেখাবে এআই
প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থার একটি বড় সীমাবদ্ধতা হলো, একই শ্রেণিকক্ষে ভিন্ন সক্ষমতা ও শেখার ধরনসম্পন্ন অনেক শিক্ষার্থীকে একই গতিতে পড়ানো হয়। ফলে কেউ পাঠ বুঝতে না পেরে পিছিয়ে পড়ে, আবার কেউ নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী এগোনোর সুযোগ পায় না।
এআইভিত্তিক শিক্ষার অন্যতম সম্ভাবনা হলো, শিক্ষার্থীর প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যাখ্যা ও অনুশীলন সাজানো। একজন শিক্ষার্থী কোনো গাণিতিক সমস্যার সমাধান বুঝতে না পারলে এআই ধাপে ধাপে ব্যাখ্যা দিতে পারে। অন্য একজন একই সমস্যার সমাধান উদাহরণ, চিত্র বা সহজ ভাষায় বুঝতে চাইতে পারে।
এভাবে শেখার পদ্ধতি ব্যক্তিভেদে বদলানোর সুযোগ তৈরি হয়। শিক্ষার্থী ভুল করলে শুধু সঠিক উত্তর দেখানোর পরিবর্তে কোথায় ভুল হয়েছে, কেন হয়েছে এবং কীভাবে সঠিক পথে এগোনো যায়, তা বুঝিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থাও তৈরি করা সম্ভব।
তবে এআইয়ের দেওয়া প্রতিটি উত্তর নির্ভুল হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ পাঠ্যবিষয়, পরীক্ষার তথ্য ও জটিল প্রশ্নের ক্ষেত্রে উত্তর যাচাই করার ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনে শিক্ষকের সহায়তা থাকা প্রয়োজন।

শিক্ষার সুযোগের বৈষম্য কমানোর সম্ভাবনা
বাংলাদেশে শিক্ষার সুযোগের বৈষম্য শুধু শহর ও গ্রামের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। একই শহরেও আর্থিকভাবে সচ্ছল পরিবারের শিক্ষার্থী এবং সীমিত আয়ের পরিবারের শিক্ষার্থীর শেখার সুযোগে বড় পার্থক্য থাকতে পারে। কেউ একাধিক গৃহশিক্ষক ও কোচিংয়ের সুবিধা পায়, কেউ আবার স্কুলের পড়াশোনার বাইরে অতিরিক্ত সহায়তা পাওয়ার সুযোগই পায় না।
এআইভিত্তিক শিক্ষাপ্ল্যাটফর্মের বড় সম্ভাবনা হলো, তুলনামূলক কম খরচে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর কাছে শেখার সহায়তা পৌঁছে দেওয়া। তবে প্রযুক্তি সবার কাছে সমানভাবে পৌঁছাতে না পারলে নতুন ধরনের বৈষম্যও তৈরি হতে পারে। তাই সাশ্রয়ী সেবা, সহজ ব্যবহার, বাংলা ভাষায় মানসম্মত কনটেন্ট এবং ডিজিটাল সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ অত্যন্ত জরুরি।
শিক্ষাব্যবস্থায় এআইয়ের সার্থকতা কেবল নতুন অ্যাপ তৈরি করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে, কতজন শিক্ষার্থী বাস্তবে ভালোভাবে শিখতে পারছে, কতটা কম খরচে মানসম্মত সহায়তা পাচ্ছে এবং শেখার প্রতি তাদের আগ্রহ কতটা বাড়ছে—তার ওপর।
শিক্ষককে সরিয়ে নয়, শিক্ষকের কাজকে আরও কার্যকর করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শিক্ষকের বিকল্প হয়ে উঠবে কি না, তা নিয়ে আলোচনা বাড়ছে। কিন্তু শিক্ষার ক্ষেত্রে প্রযুক্তির সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা হতে পারে শিক্ষককে সহায়তা করা। এআই দ্রুত তথ্য দিতে পারে, অনুশীলন তৈরি করতে পারে কিংবা কোনো বিষয় বারবার বুঝিয়ে বলতে পারে। কিন্তু একজন শিক্ষকের মানবিক সংযোগ, শিক্ষার্থীর আবেগ বোঝার ক্ষমতা, অনুপ্রেরণা দেওয়া এবং নৈতিক বিকাশে ভূমিকার বিকল্প হিসেবে একে দেখা ঠিক হবে না।
বরং শিক্ষক, অভিভাবক ও এআই—এই তিনের সমন্বয়ে শিক্ষার্থীর জন্য আরও কার্যকর শেখার পরিবেশ তৈরি হতে পারে।
Saj Academy-এর মতো উদ্যোগ সেই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার চেষ্টা করছে। এখন দেখার বিষয়, এসব প্রযুক্তি কতটা সহজলভ্য হয়, শিক্ষার্থীরা কতটা উপকৃত হয় এবং প্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে তাদের সেবার মান ও কার্যকারিতা প্রমাণ করতে পারে।
একসময় সন্তানের হাতে স্মার্টফোন দেখলেই অভিভাবকের মনে প্রশ্ন জাগত—সে কি পড়ছে, নাকি সময় নষ্ট করছে? ভবিষ্যতে সেই প্রশ্নের উত্তর হয়তো নির্ভর করবে ফোনে কী আছে, তার ওপর। প্রযুক্তিকে সঠিকভাবে কাজে লাগানো গেলে সন্তানের হাতের সেই স্মার্টফোনই হয়ে উঠতে পারে শেখার সঙ্গী—যেখানে প্রশ্ন করতে ভয় নেই, না বুঝলে আবার শেখার সুযোগ আছে, আর পড়াশোনা কেবল পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাওয়ার জন্য নয়, সত্যিকার অর্থে বোঝার আনন্দও হয়ে উঠতে পারে। গড়ে উঠবে আপনার সন্তানের সোনালী ভবিষ্যৎ।

মোঃ হায়দার আলী
নিজস্ব প্রতিবেদক,
রাজশাহী।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved.©natunbazar24.com
Developed by: A TO Z IT HOST
Tuhin