শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৪১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :-
কুমিল্লা মনোহরগঞ্জে পদ না পেয়ে নিজের গালে জুতাপেটা ছাত্রদল নেতার বাংলাবাজার পত্রিকার সাংবাদিক জাহাঙ্গীর প্রধানকে প্রা-ণনাশের হু-মকি-আশুলিয়া থানায় জিডি আশুলিয়ায় ডিবি পুলিশ কর্তৃক ৫২ কেজি গাঁজাসহ একজন পেশাদার মাদক কারবারী গ্রে-ফতার একটি গাড়ী ‍উদ্ধার গোপালগঞ্জে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে পূজা মন্ডপ পরিদর্শন করেছেন ঢাকা রেঞ্জ ডিআইজি মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান  সন্তানের হাতের স্মার্টফোনই হতে পারে প্রিয় শিক্ষক, এআইনির্ভর শিক্ষায় পড়াশোনা হবে সহজ- ড. মো. শাহজামাল সাজু রাজশাহীতে ক্রিকেটারদের চু-রি হওয়া লাগেজ উদ্ধার ৪ জনকে আট-ক করেছে পুলিশ তানোরে ছাত্রলীগ-যুবলীগের ঝটিকা মশাল মিছিলের ভিডিও ভাইরাল দুর্গোৎসবে বিশৃঙ্খলা রোধে বাড়তি সতর্কতার আহ্বান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হকের স্বাধীনতার ৫৪ বছরে নদীভাঙনে বিলীন হয়েছে বহু ঘরবাড়ি ও স্থাপনা: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী পার্বতীপুরে কোকো ক্রীড়া সংসদের বেলাইচণ্ডী ইউনিয়ন কমিটি গঠন

জয়মনিরহাট এলএসডি: চাল সংগ্রহে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দেদার বাণিজ্য – তদবিরে ঘুষ

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৭৪ Time View

​কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:

তদন্ত কমিটির বিরুদ্ধে লাখ লাখ টাকার বাণিজ্য ঢেকে দেওয়ার অভিযোগ অরক্ষিত থাকার পরের রাজনৈতিক প্রভাবে আরারো চলতি সেপ্টেম্বর মাসে অতিগোপনে অতিরিক্ত চাল বরাদ্দ এনে জয়মনিরহাট খাদ্যগুদামে এক সপ্তাহের মধ্যে শেষ করেছে মিটারবিহীন চাল সংগ্রহের মহোৎসব।
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার জয়মনিরহাট খাদ্যগুদামে (এলএসডি) চলতি বোরো চাল সংগ্রহ অভিযানে ঘুষ বাণিজ্য ও অনিয়মের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠনের পরও বন্ধ হয়নি দুর্নীতি; বরং তদন্ত কর্মকর্তারা নিজেরাই অনিয়মে জড়িয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ রয়েছে, জয়মনিরহাট খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসিএলএসডি) মাজেদুল ইসলাম এবং পঞ্চগড় জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অন্তরা মল্লিক সক কয়েজন দীর্ঘদিন আগে রংপুর শহরে একটি জায়গা কিনে একটি ফ্লাড নির্মাণ করে বসবাস করছেন। এদিকে জয়মনিরহাট খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাজেদুল ইসলামের বিরুদ্ধে গুরুত্বর অভিযোগের প্রেক্ষিতে রংপুর আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় থেকে গত ৪আগস্ট ২০২৬খ্রিঃ তিন সদস্যের বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কিন্তু অতি কৌশলে জয়মনিরহাট খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাজেদুল ইসলাম তার অপরাধ ঢাকতে পঞ্চগড় জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অন্তরা মল্লিক কে আহ্বায়ক করে নামমাত্র লোক দেখানো তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করেন।

​অনুসন্ধানে জানা যায়, জয়মনিরহাট খাদ্যগুদামে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসিএলএসডি) মাজেদুল ইসলাম (আওয়ামী লীগের সক্রিয়কর্মী) তার বিরুদ্ধে চাল সংগ্রহে ব্যাপক অনিয়ম ও উৎকোচ গ্রহণের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় রংপুর আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় থেকে গত ৪আগস্ট ২০২৬খ্রিঃ তিন সদস্যের বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। পঞ্চগড় জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অন্তরা মল্লিক কে আহ্বায়ক এবং কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন লালমনিরহাট সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোঃ রিয়াজুল ইসলাম এবং অত্র দপ্তরের ল্যাবরেটরি টেকনিশিয়ান মোঃ শহীদ কবির গত ১৯আগষ্ট ২০২৬খ্রিঃ তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি জয়মনিরহাট খাদ্যগুদামে দুপুর ৩টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত মাত্র ৩ঘন্টা অতি-গোপনে তদন্ত কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে গিয়ে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত না করে নামমাত্র লোক দেখানো তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করেন। এ সময় তারা অনিয়ম ঢাকা দিতে ঘুষ হিসেবে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন বলে জানা গেছে। শুধু তাইনয় তিন সদস্যের বিশিষ্ট তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক পঞ্চগড় জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অন্তরা মল্লিক কে খুশি করতে প্রায় ২০হাজার টাকার ভারতীয় কসমেটিকস প্রদান জয়মনিরহাট খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাজেদুল ইসলাম। তিন সদস্যের বিশিষ্ট তদন্ত কমিটির নামমাত্র তদন্ত করে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। এদিকে জয়মনিরহাট খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাজেদুল ইসলাম ও প্রভাবশালী মিলার খাদেমুল ইসলাম সিঙ্গাপুরী সিন্ডিকেট গঠন করে মন্ত্রণালয়ে তদবির শুরু করেন। সেই তদবিরের জোরে চলতি মাসেই আরও ১হাজার ৪৫মেট্রিক টন চালের নতুন বরাদ্দ বাগিয়ে আনেন তারা। ​বরাদ্দ আসার পর পরই ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাজেদুল ইসলাম প্রতিটি মেট্রিক টন চাল সংগ্রহের বিনিময়ে নির্ধারিত ১হাজার টাকা হিসেবে ১০লাখ টাকা ঘুষ হাতিয়ে নিয়েছেন। সরকারি নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে এবং আর্দ্রতা মাপার ‘মিটার’ ব্যবহার না করেই মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে এই ১হাজার ৪৫মেট্রিক টন নিম্নমানের ও মিটারবিহীন চাল সংগ্রহ প্রক্রিয়া শেষ করা হয়। ​এ বিষয়ে স্থানীয় ভুক্তভোগী ও সাধারণ মিলারদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অবিলম্বে এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা মাজেদুল ইসলাম ও প্রভাবশালী মিলারের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

(সংযুক্ত তিন সদস্য কমিটির তদন্ত সমূহ: যথাযথ প্রমাণসহ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন অটো রাইস মিলের স্বত্বাধিকারীরা জানান, জয়মনিরহাট খাদ্যগুদামে চলতি বোরো মৌসুমে চাল সংগ্রহকালে খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাজেদুল ইসলাম এবং মিলার শরিফুল ইসলামের নেতৃত্বে অতি গোপনে মিলাদের সঙ্গে চুক্তিভিত্তিক গত ১৯জুন ২০২৬খ্রী. থেকে ২৫জুন ২০২৬খ্রী. পর্যন্ত বোরো চাল সংগ্রহের নামে অতি কৌশলে আমন ধানের পুরাতন চাল প্রায় ৪হাজার মেট্রিক টন সংগ্রহ করে খাদ্যগুদামের দক্ষিণে ১হাজার মেক্ট্রিক টন গুদামে মওজুত করে রাখার অভিযোগ সম্পন্ন সত্য বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন মিলারের। চাল সংগ্রহে প্রতি কেজি চালে ১টাকা থেকে ২টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। পুরাতন আমন প্রায ৪হাজার মেট্রিক টন চাল সংগ্রহে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাজেদুল ইসলাম হাতিয়ে নিয়েছেন ৪০লাখ টাকা। সরকারি পরিপত্র অনুসারে, খাদ্যগুদাম থেকে চাল অন্য কোন খাদ্যগুদামে দেওয়ার সরকারি নির্দেশনা থাকলেও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাজেদুল ইসলাম ক্ষমতার দাপটে অবৈধভাবে কয়েকটি অটো রাইস মিল থেকে সরাসরি অন্য খাদ্যগুদামে ট্রাকে করে চাল পাঠান প্রায় ৫হাজার মেট্রিক টন। এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন উপজেলা খদ্য নিয়ন্ত্রণ হামিদুল ইসলাম। সম্প্রতি, জয়মনিরহাট খাদ্যগুদামে চলতি বোরো মৌসুমেে তালিকাভুক্ত মিলারদের নিকট থেকে সিদ্ধ চাল ১০হাজার ৬৬৩মেট্রিক টন ৯৮০কেজি এবং আতপ চাল ৫৫মেট্রিক টন ৯৮০কেজি সংগ্রহ শেষ।)

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অটো রাইস মিলারদের অভিযোগমতে, জয়মনিরহাট খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাজেদুল ইসলাম পরোক্ষ যোগসাজশে কয়েকজন মিলারদের সাথে ১মেক্ট্রিক টন চালে সংগ্রহে প্রা ১হাজার উৎকোচ নিয়ে চাল সংগ্রহ করেছেন। ফলে বঞ্চিত অনেক সাধারণ মিলার। অতিরিক্ত ১হাজার মেক্ট্রিক টন চাল বরাদ্দ এনে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাজেদুল ইসলাম ১০টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

তিন সদস্যের তদন্ত কমিটির আহবায়ক পঞ্চগড় জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অন্তরা মল্লিকএর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, অভিযোগের তদন্ত শেষ হয়েছে এবং তদন্ত প্রতিবেদন রংপুর আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রকের নিকট দাখিল করা হয়েছে এ বলেই ফোন কেটে দেন।

ভুরুঙ্গামারী উপজেলার জয়মনিরহাট খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাজেদুল ইসলাম অনিয়মের কথা স্বীকার করে বলেন, খাদ্যগুদামে অতিরিক্ত বরাদ্দের চাল সংগ্রহ শেষ হয়েছে।

কুড়িগ্রাম জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ কাজী হামিদুল হকের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে পাওয়া যায়নি।

রংপুর বিভাগীয় খাদ্য দপ্তরের আরসি ফুড জহুরুল ইসলাম বলেন, পুনরায় অভিযোগ পেলে জয়মনিরহাট খাদ্যগুদামের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের (প্রশাসন-২ অধিশাখা (অতিরিক্ত) যুগ্মসচিব মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ভুরুঙ্গামারী উপজেলার জয়মনিরহাট খাদ্যগুদামের অনিয়মের বিষয়ে রংপুর আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয় থেকে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন। তদন্ত কমিটির বিরুদ্ধে অভিযোগ পেলে পুনরায় তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved.©natunbazar24.com
Developed by: A TO Z IT HOST
Tuhin