
স্টাফ রিপোর্টারঃ
ময়মনসিংহ সদর উপজেলার ১১নং ঘাগড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হিসাবে সাধারন মানুষের ভোট ও দোয়া চেয়ে বেড়াচ্ছেন ঘাগড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক ও ময়মনসিংহ জিলা দলিল লিখক সমিতির সভাপতি শামসুল আলম সুরুজ।
তরুণ এই জনপ্রতিনিধি জানান, নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ পেলে একটি আধুনিক, পরিকল্পিত ও জনবান্ধব ঘাগড়া ইউনিয়ন গড়ে তোলাই হবে তাঁর প্রধান লক্ষ্য।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকালে ঘাগড়া ইউনিয়নের ০৯ নং ওয়ার্ড সুহিলা টানপাড়া এলাকায় সাধারণ মানুষের সাথে মতবিনিময়কালে এসব কথা জানান তিনি। পরে আলোচনা সভা শেষে ৯ নং ওয়ার্ডের সুহিলা টানপাড়া এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণা কেন্দ্র উদ্বোধন করেন।
ইউনিয়নের সাবেক এই ছাত্র নেতা তার ছাত্রজীবন থেকে থেকেই ইউনিয়নের গণমানুষের কল্যাণে কাজ করাসহ শিক্ষা, ধর্মীয় ও সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়নে কাজ করে আসছেন বলে স্থানীয়ভাবে আলোচনা রয়েছে। স্কুল, কলেজ, মসজিদ, মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে তিনি ধারাবাহিকভাবে সহযোগিতা করে আসছেন বলে তাঁর সমর্থকরা দাবি করেন।
শামসুল আলম সুরুজ বলেন, “স্থানীয় জনগণের আস্থা ও ভালোবাসা নিয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হতে পারলে একটি পরিকল্পিত, নিরাপদ ও উন্নত ঘাগড়া ইউনিয়ন গড়ে তুলতে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করব। উন্নয়নের সুফল যেন সমাজের প্রতিটি মানুষের কাছে পৌঁছে যায়, সেটিই হবে আমার অঙ্গীকার।”
তিনি জানান, যুবসমাজকে মাদকাসক্তি থেকে দূরে রাখতে সচেতনতামূলক কার্যক্রম, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের প্রসারের পাশাপাশি একটি মাদকমুক্ত সমাজ গঠনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। একই সঙ্গে বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রবীণদের জন্য একটি বৃদ্ধাশ্রম প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন এই সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী। কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় কমানো এবং পরিবেশবান্ধব কৃষি সম্প্রসারণে জৈবসার উৎপাদন প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
অবকাঠামোগত উন্নয়নের বিষয়ে তাঁর পরিকল্পনায় রয়েছে নিরাপদ সুপেয় পানির জন্য গভীর নলকূপ স্থাপন, রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, আধুনিক পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধস প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ। পাশাপাশি ঘাগড়া ইউনিয়নের ছোট-বড় সব হাট-বাজারকে পর্যায়ক্রমে আধুনিকায়নের মাধ্যমে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটানোরও পরিকল্পনা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, তরুণ নেতৃত্ব, উচ্চশিক্ষা এবং উন্নয়নমুখী পরিকল্পনার কারণে শামসুল আলম সুরুজের প্রার্থিতা ইতোমধ্যে স্থানীয় রাজনীতি ও জনমনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য জনপ্রতিনিধি হিসেবে জনগণের সমর্থন ও সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর সমন্বিত সহযোগিতা প্রয়োজন হবে বলেও তারা মনে করেন।
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ঘাগড়া ইউনিয়নে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা ক্রমেই জমে উঠছে। সেই আলোচনায় উন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরছেন শামসুল আলম সুরুজ।