রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:২৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :-
শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন রিয়াজ আহমেদ মৃধা বাবুগঞ্জ-মুলাদী-হিজলা মহাসড়কের সার্ফেসিং কাজের উদ্বোধন করলেন জয়নুল আবেদীন এমপি সুজানগরের পদ্মা নদীতে শেষ হলো আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি নৌকা বাইচ উৎসব সুপারি পাড়া কেন্দ্র করে ছোট ভাইয়ের লাঠির আঘাতে বড় ভাই নিহ-ত পীরগঞ্জে ‘দুর্গাপূজায় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা করণীয়’ সভায় অনুপস্থিত ৩ কর্মকর্তাকে শো-কোজের নির্দেশ ‎পাইকগাছায় গলায় ফাঁ-স দিয়ে গৃহবধূ আত্মহ-ত্যা মহেশপুরে ৭০ গ্রাম গাঁ-জাসহ ১ মা-দক কা-রবারি গ্রে-প্তার শিক্ষা খাতে এআই এখন সম্ভাবনার দরজা খুলছে, সন্তানের হাতের স্মার্টফোনই হতে পারে নির্ভরযোগ্য শিক্ষক মধুপুরে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রবিউল ইসলাম শারদীয় দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় নিশ্চিতে ময়মনসিংহে পুলিশ সুপারের ব্রিফিং

বেতন বৃদ্ধি প্রয়োজন, তবে তার সঙ্গে চাই ন্যায়সংগত কর্মমূল্যায়ন—মোঃ আসাদ উল্লাহ, বিএসসি

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৬৪ Time View

মোঃ শহীদুল ইসলাম
বিশেষ প্রতিনিধি

কর্মজীবী মানুষের ন্যায্য বেতন ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা একটি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীলতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বর্তমান সময়ে জীবনযাত্রার ব্যয় ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাস্তবতায় বেতন বৃদ্ধি অনেক কর্মজীবী মানুষের ন্যায্য প্রত্যাশা। তবে শুধু বেতন বাড়ালেই একটি কর্মপরিবেশ ন্যায়সংগত ও কার্যকর হয়ে ওঠে না; এর সঙ্গে প্রয়োজন যোগ্যতা, দক্ষতা, সততা, দায়িত্ববোধ ও কর্মফলের ভিত্তিতে একটি স্বচ্ছ ও ন্যায়সংগত মূল্যায়ন ব্যবস্থা।

কারণ একজন সৎ, দক্ষ ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং একজন দায়িত্বে অবহেলাকারী, কর্মবিমুখ কিংবা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিকে যদি একই মানদণ্ডে মূল্যায়ন করা হয়, তাহলে সবচেয়ে বড় আঘাত আসে কর্মপ্রেরণায়। তখন একজন নিষ্ঠাবান কর্মীর মনে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগতে পারে—সততা, নিষ্ঠা ও পরিশ্রমের মূল্য কোথায়?

একজন কর্মী নিয়মিত দায়িত্ব পালন করেন, সময়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকেন, মানুষের সেবা করেন, প্রতিষ্ঠানের স্বার্থকে ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে রাখেন এবং কোনো অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ থেকে নিজেকে দূরে রাখেন। তাঁর এই নীরব দায়িত্বশীলতাই একটি প্রতিষ্ঠানের ভিতকে শক্তিশালী করে।

অন্যদিকে কেউ যদি দায়িত্ব পালনে উদাসীন থাকেন, কাজের প্রতি অনাগ্রহ দেখান কিংবা নিয়ম-শৃঙ্খলা লঙ্ঘন করেন, তাহলে তাঁর কর্মদক্ষতা ও দায়িত্ব পালনের বিষয়টিও যথাযথভাবে মূল্যায়ন হওয়া প্রয়োজন। তবে ন্যায়বিচারের স্বার্থে একটি বিষয় অবশ্যই স্পষ্ট থাকা দরকার—প্রমাণ ছাড়া কাউকে দুর্নীতিবাজ, ঘুষখোর বা অনিয়মকারী হিসেবে চিহ্নিত করা সমীচীন নয়। অভিযোগ থাকলে তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে হবে, তথ্য-প্রমাণ যাচাই করতে হবে এবং আইন ও বিধিবিধান অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

কর্মক্ষেত্রে সবার ন্যায্য অধিকার যেমন নিশ্চিত করতে হবে, তেমনি যোগ্যতা ও কর্মফলের যথাযথ মূল্যায়নও করতে হবে। কারণ সমতা সবার অধিকার নিশ্চিত করতে পারে, কিন্তু ন্যায্যতা নিশ্চিত করে যোগ্যতার মূল্য।

যেখানে ভালো কাজের যথাযথ মূল্যায়ন নেই, সেখানে ধীরে ধীরে ভালো কাজ করার প্রেরণাও কমে যেতে পারে। একজন কর্মী যখন দেখেন, তিনি বছরের পর বছর সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন, অথচ দায়িত্বে অনাগ্রহী বা কর্মদক্ষতায় পিছিয়ে থাকা ব্যক্তিও একই ধরনের স্বীকৃতি পাচ্ছেন, তখন তাঁর মধ্যে হতাশা তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়।

এই হতাশা শুধু ব্যক্তিগত পর্যায়ে সীমাবদ্ধ থাকে না। দীর্ঘদিন এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে তা প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক কর্মসংস্কৃতিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। কর্মীদের দায়িত্ববোধ কমে যেতে পারে, কর্মস্পৃহা দুর্বল হতে পারে এবং যোগ্য ও সৎ কর্মীদের মধ্যেও একসময় হতাশা তৈরি হতে পারে।

তাই বেতন বৃদ্ধির পাশাপাশি কর্মমূল্যায়ন ব্যবস্থাকেও স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও কার্যকর করা জরুরি। পদোন্নতি, প্রণোদনা, বিশেষ দায়িত্ব কিংবা অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা প্রদানের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত সম্পর্ক বা প্রভাব নয়; বরং যোগ্যতা, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা, দায়িত্বশীলতা এবং বাস্তব কর্মফলকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

একটি সুস্থ কর্মব্যবস্থায় কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে নিশ্চিত করা প্রয়োজন—প্রত্যেক কর্মীর ন্যায্য বেতন ও প্রাপ্য অধিকার নিশ্চিত করা, কর্মদক্ষতা মূল্যায়নের জন্য স্পষ্ট মানদণ্ড নির্ধারণ করা, সৎ ও দক্ষ কর্মীদের যথাযথ স্বীকৃতি দেওয়া, দায়িত্বে অবহেলার ক্ষেত্রে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং দুর্নীতি বা অনিয়মের অভিযোগ উঠলে তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা।

একই সঙ্গে মনে রাখতে হবে, কর্মদক্ষতার মূল্যায়ন যেন কোনোভাবেই ন্যায্য বেতন থেকে বঞ্চিত করার অজুহাত না হয়। আবার বেতন বৃদ্ধি যেন কর্মদক্ষতা, দায়িত্বশীলতা ও জবাবদিহিতার বিষয়টিকেও আড়াল না করে। এই ভারসাম্যই একটি প্রতিষ্ঠানের সুস্থ ও টেকসই কর্মসংস্কৃতির ভিত্তি।

একটি প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত শক্তি শুধু তার অবকাঠামো, প্রযুক্তি কিংবা আর্থিক সক্ষমতায় নয়; দক্ষ, সৎ ও দায়িত্বশীল জনশক্তিই তার সবচেয়ে বড় সম্পদ। তাঁদের যথাযথ মূল্যায়ন ও সম্মান করা গেলে তাঁরা প্রতিষ্ঠানের প্রতি আরও বেশি নিষ্ঠা ও দায়বদ্ধতা নিয়ে কাজ করার উৎসাহ পান।

অতএব, বেতন বৃদ্ধি অবশ্যই প্রয়োজন। তবে তার সঙ্গে প্রয়োজন স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও ন্যায়সংগত কর্মমূল্যায়ন। সততার পুরস্কার থাকতে হবে, দক্ষতার স্বীকৃতি থাকতে হবে, দায়িত্বহীনতার জবাবদিহিতা থাকতে হবে এবং দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে থাকতে হবে কার্যকর ব্যবস্থা।

কারণ বেতন একজন কর্মীর জীবনযাত্রার নিরাপত্তা নিশ্চিত করে; কিন্তু ন্যায্য মূল্যায়ন তাঁর আত্মমর্যাদা, কর্মপ্রেরণা ও প্রতিষ্ঠানের প্রতি দায়বদ্ধতা শক্তিশালী করে।

সুতরাং প্রয়োজন এমন একটি কর্মসংস্কৃতি, যেখানে কেউ শুধু পরিচয়, প্রভাব কিংবা সম্পর্কের কারণে নয়; বরং তাঁর সততা, দক্ষতা, দায়িত্ববোধ ও কর্মফলের ভিত্তিতেই যথাযথ মূল্যায়ন পাবেন।

কারণ সৎ ও দক্ষ মানুষকে নিরুৎসাহিত করে কোনো প্রতিষ্ঠান দীর্ঘমেয়াদে শক্তিশালী, সফল ও টেকসই হতে পারে না।

মোঃ আসাদ উল্লাহ, বিএসসি
সংগঠক, শিক্ষানুরাগী, পরামর্শক ও সমাজসেবক
আখাউড়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়া।।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved.©natunbazar24.com
Developed by: A TO Z IT HOST
Tuhin