আব্দুল হামিদ।।
মধুপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি:
টাঙ্গাইলের মধুপুর পৌরসভার টেংরী গ্রামে জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের জেরে ছাপড়া ঘর নির্মাণ করে জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী শিরিনা জেসমিনের অভিযোগ, তাঁর ক্রয় করা জমিতে জোরপূর্বক ঘর নির্মাণ করে দখলের চেষ্টা করছেন প্রতিপক্ষের লোকজন। প্রতিবাদ করায় তাঁকে ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এতে পরিবারটি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, টেংরী গ্রামের মৃত ফরজ আলীর মেয়ে শিরিনা জেসমিন স্থানীয় আজাহার আলীর কাছ থেকে জমি ক্রয় করেন। জমিটি টেংরী মৌজার আরএস খতিয়ান নং-৪২ ও ৪৬৮, ডিপি নং-১০৭, নামজারি খতিয়ান নং-৪৩৩ এবং আরএস দাগ নং-১৭৫-এর অন্তর্ভুক্ত। মোট ১৮ শতাংশ জমির মধ্যে সাড়ে তিন শতাংশ জমি তিনি ক্রয় করেছেন বলে দাবি করেন। তাঁর ভাষ্য, ১৯১৩ সালের ২৯ অক্টোবর সম্পাদিত দলিলে আজাহার আলীর ঘরসহ ওই জমি ক্রয়ের বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে।
শিরিনা জেসমিনের অভিযোগ, সম্প্রতি আলী আকবর, আজাহার আলীর মেয়ে কল্পনা, তাঁর ছেলের স্ত্রী ফাতেমা বেগমসহ কয়েকজন ওই জমিতে ছাপড়া ঘর নির্মাণ করে জবরদখলের চেষ্টা করছেন। নির্মিত ঘর সরিয়ে নিতে বললে তাঁকে ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এমনকি ঘর সরানোর উদ্যোগ নিলে হামলা ও মামলা-মোকদ্দমার ভয় দেখানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ তাঁর।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ভিন্ন দাবি করেছেন অভিযুক্ত আলী আকবর। তিনি বলেন, “আমি আমার স্ত্রীর নামে আজাহার আলীর ছেলে আনোয়ার হোসেনের কাছ থেকে ২০২৬ সালে ওই জমি ক্রয় করেছি।”
অন্যদিকে, স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, আজাহার আলী জীবিত থাকতেই তাঁর সব জমি বিক্রি করে দিয়েছিলেন। তাঁর নামে আর কোনো জমি অবশিষ্ট ছিল না। তাঁদের অভিযোগ, আনোয়ার হোসেন আলী আকবরের স্ত্রীর কাছে যে জমি বিক্রি করেছেন, সেটির বৈধ মালিকানা তাঁর ছিল না। জমিটির প্রকৃত মালিক আনোয়ার হোসেনের ফুফু রেজিয়া বেগম বলে দাবি করেন তাঁরা।
এদিকে, একই জমির মালিকানা নিয়ে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি দাবিতে বিরোধ জটিল আকার ধারণ করেছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত বিষয়টির সমাধান না হলে যেকোনো সময় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে। সম্ভাব্য সংঘাত এড়াতে তাঁরা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
ভুক্তভোগী শিরিনা জেসমিন জমির প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট দলিলপত্র, নামজারি ও ভূমি রেকর্ড যাচাই করে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে জমির বর্তমান দখল পরিস্থিতি সরেজমিনে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী পরিবার জমির মালিকানা বিরোধের সুষ্ঠু নিষ্পত্তি এবং সম্ভাব্য সংঘাত এড়াতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।