
ময়মনসিংহ ব্যুরো।।
ময়মনসিংহ সদরের ১১নং ঘাগড়া ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড বাড়েরার পাড় এলাকায় পৈত্রিক ও সাফ কাওলা মূলে মালিকানাধীন জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টার অভিযোগে আদালতে দায়ের করা মামলা চলমান থাকাবস্থায় জবর দখলে নিতে জমির চারপাশে খুটি গেরে দিয়েছে প্রতিপক্ষরা। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে জমির মালিক ও প্রতিপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। একই সঙ্গে আতঙ্কে রয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। এব্যাপারে ভুক্তভোগী পরিবার কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের শহিদুল্লাহ এর অভিযোগ, ঘাগড়া ইউনিয়নের ঘাগড়া মৌজায় খতিয়ান সিএস ৬০৬,আর ও আর ৮৩১,বিআরএস ৩২৪৭ সিএস দাগ ৬৯৯৪,বি আর এস দাগ ২২০৯৬ দাগে পৈত্রিক ও সাফকাওলা মূলে কান্দা শ্রেণীর ৩৩শতাংশ জমির মালিকানা হিসাবে ভোগ দখল করছেন তিনি। তফসিলে বর্ণিত এই জমি জোরপূর্বক দখলে নিতে দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব খাটিয়ে জমিটি দখলের চেষ্টা করছেন একই এলাকার মোসলেম উদ্দিনের পুত্র বাবুল মিয়া (৪০),মনির হোসেন (৪৬),সাদেকুল মিয়া (২৮)সহ আলম মিয়া,রনি মিয়া,সোহেল,জাহাঙ্গীর নামের একটি প্রভাবশালী চক্র এবং তাদের সহযোগীরা। এই ঘটনায় বিজ্ঞ আদালতে মামলা দায়ের করেছে শহীদুল্লাহ। মোকাদ্দমা নং- ২৩১৯(ক)/২০২৬। আদালতে উক্ত মামলা চলমান অবস্থায় জমিটি জোরপূর্বক দখলে নিতে চার পাশে খুটিও গেরেছে প্রতিপক্ষরা।
শহীদুল্লাহ বলেন, একই এলাকার মোসলেম উদ্দিনের পুত্র বাবুল মিয়া,মনির হোসেন,সাদেকুল মিয়া, আলম মিয়া,রনি মিয়া,সোহেল,জাহাঙ্গীরের নেতৃত্বে আশপাশের কয়েকজন লোকজন নিয়ে এসে জোরজবরদস্তি করে আমার জায়গা দখলের চেষ্টা করছে। ইতিপূর্বে এই নিয়ে একাধিকবার গ্রাম্য শালিস হলেও তারা শালিস না মেনে জোর করেই জমি দখলে নেওয়ার চেষ্টা করে, তাই আমি বিজ্ঞ আদালতে মামলা দায়ের করেছি।কিন্ত মামলা চলমান থাকাবস্থায় অভিযুক্তরা আমার দখলে থাকা জায়গা দখলে নেওয়ার চেষ্টায় জমিতে খুটি গেড়েছে।
তিনি আরও বলেন, এ বিরোধের জেরে তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এতে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। জমির প্রকৃত মালিকানা ও দখল যাচাই করে সুষ্ঠু সমাধানের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনায় কোতোয়ালী মডেল থানায় অভিযোগ করেন তিনি।
শহিদুল্লাহ স্ত্রী বলেন, ‘জায়গাটি আমাদের দখলে রয়েছে। তারা জোর করে আমাদের জমি বেদখল করার চেষ্টা করছে। আমাদের হত্যার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে। প্রশাসনের কাছে দাবি, তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা বের করে আমাদের জমি ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক।’
এর আগে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার জন্য কয়েকজন মাতবরের উদ্যোগে দুপক্ষকে নিয়ে একাধিকবার সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়। তবে বৈঠক চলাকালে হঠাৎ উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় সালিশি কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় বাবুল মিয়া ও জমি জবরদখল করতে আসা তার সহযোগী দুষ্কৃতিকারীরা সালিশে উপস্থিত বিচারকদের অশ্লীল ভাষায় গালাগাল করেন এবং নানারকম হুমকি দেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে, শহিদুল্লাহ আদালতে মামলা দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষদের মাঝে আরও উত্তেজনাকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। এতে তারা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে আছে। অভিযুক্তরা শহিদুল্লাহ ও তার পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকিও দিচ্ছেন। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত বিরোধের নিষ্পত্তি না হলে যে কোনো সময় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে। তাই জমির কাগজপত্র ও দখল পরিস্থিতি যাচাই করে আইনগতভাবে দ্রুত বিষয়টির সমাধান এবং এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।