
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
ভূরুঙ্গামারীর জয়মনিরহাট খাদ্যগুদামের কার্যক্রমে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে। বর্তমান সফল সরকারের উন্নয়নমূলক কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ ও ভেস্তে দিতে একটি কুচক্রী মহল সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে লিখিত অভিযোগ করেন কয়েকজন স্থানীয় অটো রাইস মিলার। গুদামের বর্তমান (শ্রম ও হ্যান্ডলিং) শ্রমিক সরদ্দার ছানু মিয়ার বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ এনে নিজের স্বার্থ হাসিলে মরিয়া হয়ে উঠেছে পতিত আওয়ামী লীগের উপজেলা শ্রমিকলীগ নেতা ও খাদ্য গুদামের দুর্নীতিবাজ সাবেক শ্রমিক সরদ্দার আনোয়ার হোসেন এবং তার সহযোগী জাতীয় পার্টির নেতা, আন্ধারীঝাড় ইউপি চেয়ারম্যান ও অটো রাইস মিলার জাবেদ আলী মন্ডল।
সম্প্রতি ৪অক্টোবর ২০২৬খ্রীঃ ভুক্তভোগী ছানু মিয়া এবং অটো রাইস মিলারদের লিখিত অভিযোগে জানা গেছে, কুড়িগ্রামের উপজেলার জয়মনিরহাট খাদ্যগুদামের সাবেক শ্রমিক সরদ্দার আনোয়ার হোসেন গত সেপ্টেম্বর ২০২৫খ্রিঃ নিজের স্বার্থ হাসিলে নতুনভাবে তিন জন লেবার নিয়োগ দিয়ে খাদ্যগুদামের শ্রমিক লেবারদের পাওনার সঠিক হিসেব না দিয়ে ও নতুন লেবার নিয়োগ করাসহ অবাধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দূর্ণীতি প্রমাণিত হওয়ায় গত ৮সেপ্টেম্বর ২০২৫খ্রিঃ সরদ্দার তার পদ হারান। এরপর থেকে সাবেক শ্রমিক সরদ্দার আনোয়ার হোসেন জয়মনিরহাট খাদ্যগুদামের সরদ্দার হতে না পারায় অতি-কৌশলে তার ভাই আমিরুল ইসলামকে জয়মনিরহাট খাদ্যগুদামের সরদ্দার বানানোর পাঁয়তারা চালাচ্ছেন। এই অসৎ উদ্দেশ্যে মিলার জাবেদ আলী মন্ডলের সার্বিক সহযোগিতায় এবং কুড়িগ্রামের শ্রম ও হ্যান্ডলিং ঠিকাদার মাহবুবার রহমান ও খাদ্য বিভাগের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজসে সম্পূর্ণ অবৈধ পন্থায় ও মনগড়াভাবে আগামী ১২নভেম্বর শ্রমিকদের ভোট করার একতরফা সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় গুদামের সাধারণ শ্রমিকদের মাঝে তীব্র কোন্দল ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। যা যেকোনো সময় বড় ধরনের বিশৃঙ্খলায় রূপ নিতে পারে।
জয়মনিরহাট খাদ্য গুদামের সাধারণ শ্রমিকরা জানান, বর্তমান শ্রমিক সরদ্দার ছানু মিয়া দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত নিষ্ঠা ও সততার সাথে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তার কার্যকালে গুদামে কোনো ধরনের অনিয়ম বা বিশৃঙ্খলা ছিল না। সাবেক শ্রমিক সরদ্দার আনোয়ার হোসেন তার ব্যক্তিগত স্বার্থ, ফায়দা লোটার উদ্দেশ্যে ও নিজের আখের গোছাতে তার ভাইকে জোরপূর্বক সরদ্দার বানানোর জন্য আগামী ১২নভেম্বর অবৈধ ভোটের নাটক সাজাচ্ছে। আমরা এই প্রহসনের ভোট মানি না এবং অবিলম্বে এই ষড়যন্ত্র বন্ধের দাবি জানাচ্ছি।
সাবেক শ্রমিক সরদ্দার আনোয়ার হোসেন জয়মনিরহাট খাদ্যগুদামের শ্রমিক সরদ্দারের ভোটের কথা অস্বীকার করেন।
জয়মনিরহাট খাদ্যগুদামের (শ্রম ও হ্যান্ডলিং) শ্রমিক সরদ্দার ছানু মিয়ার বলেন, আমি দীর্ঘদিন থেকে শ্রমিকদের সঙ্গে নিয়ে নিষ্ঠার সাথে সরদ্দারের দায়িত্ব পালন করে আসছি। সাবেক শ্রমিক সরদ্দার আনোয়ার হোসেন আমার বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ এনে এবং তার স্বার্থ হাসিলে মরিয়া হয়ে উঠেছে। আগামী ১২নভেম্বর অবৈধ পন্থায় ভোট করার নামে খাদ্যগুদামের পরিবেশ অস্থিতিশীলের চেষ্টা করছেন।
জয়মনিরহাট খাদ্য গুদামের সুমন অটোরাইস মিলের স্বত্বাধিকারী খাদেমুল ইসলাম সিঙ্গাপুরী, মেসার্স দিনা অটো রাইস মিলের স্বত্বাধিকারী আব্দুল হাকিম, দিপু অটো রাইস মিলের স্বত্বাধিকারী নজরুল ইসলাম এবং অন্যান অটো রাইস মিলার আব্দুল হাই, রাসেল কবির ও শরিফ উদ্দিন বলেন, অবৈধ-পন্থায় ভোট করার নামে খাদ্যগুদামের পরিবেশ অস্থিতিশীলের চেষ্টা করছেন সাবেক শ্রমিক সরদ্দার আনোয়ার হোসেন। বর্তমান শ্রমিক সরদ্দার ছানু মিয়া অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। তাঁর কার্যকালে গুদামে কোনো অনিয়ম বা বিশৃঙ্খলা নেই। অথচ, সাবেক শ্রমিক সরদ্দার আনোয়ার হোসেন নিজের ব্যক্তিস্বার্থ ও ফায়দা লোটার অসৎ উদ্দেশ্যে এবং নিজের ভাইকে জোরপূর্বক সরদ্দার বানানোর ফন্দি করছেন। এরই প্রেক্ষিতে ১২নভেম্বর একটি সাজানো ভোটের নাটক মঞ্চস্থ করার পাঁয়তারা চলছে। বর্তমান সরকারের অর্জন ও সুনাম ক্ষুণ্ন করতেই মহলটি পরিকল্পিতভাবে এই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা চালাচ্ছেন। আমরা অবিলম্বে এই ধরনের ষড়যন্ত্রমূলক ও অবৈধ কার্যক্রম বন্ধের জোর দাবি জানাচ্ছি। অন্যথায় শ্রমিক সমাজ এই অপচেষ্টার দাঁতভাঙা জবাব দিতে বাধ্য হবে।
কুড়িগ্রামের শ্রম ও হ্যান্ডলিং ঠিকাদার মাহবুবার রহমানের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।
জয়মনিরহাট খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাজেদুল ইসলামের জানান, খাদ্যগুদামের স্বাভাবিক কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার ক্ষেত্রে শ্রমিকদের শৃঙ্খলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভোট বা সরদ্দার পরিবর্তনের বিষয়টি অযাচিত এবং ভোট করার সুযোগ নেই। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী গুদামের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
ভূরুঙ্গামারী উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক হামিদুল ইসলাম বলেন, সরকারি খাদ্যগুদামে শ্রমিকদের ভোট করার কোনো নিয়ম বা সুযোগ নেই। এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো নির্দেশনা বা লিখিত অভিযোগ পেলে বা সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ভুরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার অমৃত দেব নাথ বলেন, বিষয়টি উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কে ব্যবস্থা নিতে অবগত করা হয়েছে। বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে খাদ্যগুদামে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি বা নিয়বহর্ভূত কোনো কার্যক্রমের তথ্য পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ জানান, সরকারি প্রতিষ্ঠানে কোনো ধরনের অনিয়ম, বিশৃঙ্খলা বা অনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ নেই। জয়মনিরহাট খাদ্যগুদামে যদি কেউ ব্যক্তিগত স্বার্থে বা অবৈধ পন্থায় অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির চেষ্টা করে, তবে তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের (প্রশাসন-২ অধিশাখা (অতিরিক্ত) যুগ্মসচিব মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ভুরুঙ্গামারী উপজেলার জয়মনিরহাট খাদ্যগুদামের শ্রমিক কোন্দলের বিষয়টি রংপুর আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক এর মাধ্যমে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।