
রাজশাহী থেকে মোঃ হায়দার আলীঃ দীর্ঘ ৫ বছরের আইনি লড়াই শেষে আদালতের রায়ে চেয়ারম্যান পদ ফিরে পেলেন রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার গোগ্রাম ইউনিয়নের ভোটে নির্বাচিত চেয়ারম্যান মো. হজরত আলী।
মঙ্গলবার রাজশাহী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে তাকে শপথবাক্য পাঠ করান জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম। শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, বিভিন্ন ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
শপথ নিয়ে চেয়ারম্যান হজরত আলী বলেন, জনগণই আমার শক্তি। ৫ বছর ধরে আমি ন্যায়বিচারের জন্য অপেক্ষা করেছি। গোগ্রামবাসী যে ভালোবাসা দিয়েছেন, আমি উন্নয়ন দিয়ে তার প্রতিদান দিতে চাই।
তিনি আরও বলেন, আমার ইউনিয়নে কোনো দুর্নীতি, অনিয়ম থাকবে না। স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও জনবান্ধব ইউনিয়ন পরিষদ গড়াই হবে আমার প্রথম কাজ।
২০২১ সালের ১১ নভেম্বর অনুষ্ঠিত গোগ্রাম ইউপি নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী (আনারস প্রতীক) হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন হজরত আলী। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন নৌকা প্রতীকের আওয়ামীলীগের নেতা মজিবর রহমান।
অভিযোগ অনুযায়ী, ফরাদপুর সবুজ সংঘ ও পাবলিক লাইব্রেরি কেন্দ্রে হজরত আলী ১২৭০ ভোট পেলেও খাতায় ৯৭০ দেখানো হয়। আর মজিবর রহমানের ৬৩৫ ভোটকে ৯৩৫ দেখানো হয়। এতে ৮৭ ভোটের ব্যবধানে মজিবরকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয় এবং ৭ ডিসেম্বর ২০২১ গেজেট প্রকাশ হয়।
অথচ ১০টি কেন্দ্রের সম্মিলিত হিসাবে হজরত আলী পেয়েছিলেন ৯৮০১ ভোট এবং মজিবর পেয়েছিলেন ৯২৮৭ ভোট। হিসাবে ৫১৪ ভোট বেশি পেয়েও কারচুপিতে হেরে যান হজরত আলী।
পরে তিনি হাইকোর্টে রিট করেন। মামলাটি রাজশাহী নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল (সদর সিনিয়র জজ আদালত) এ স্থানান্তরিত হয়। আদালত ভোট পুনঃগণনা ও তথ্য যাচাই শেষে ২০২১ সালের গেজেট বাতিল করে হজরত আলীকে বৈধ চেয়ারম্যান ঘোষণা করেন এবং নির্বাচন কমিশনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন।
আদালতের সেই রায়ের পরিপ্রেক্ষিতেই আজ তার শপথ অনুষ্ঠিত হলো। শপথ শেষে তার সমর্থক ও সাধারণ জনগণ ফুল দিয়ে তাকে বরণ করে নেন।
তার এ চেয়ারম্যান পদ ফিরে পাওয়ায় দীর্ঘদিনে জটিলতার অবসান ঘটলো। এলাকায় বইছে আনন্দের বন্যা।
মোঃ হায়দার আলী
নিজস্ব প্রতিবেদক,
রাজশাহী।