
বান্দরবান (থানচি) প্রতিনিধি মথি ত্রিপুরা।
বান্দরবান পার্বত্য জেলার ক্যাথলিক খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বী ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের জন্য এক ঐতিহাসিক ও গৌরবময় মুহূর্তের অপেক্ষা।
দীর্ঘ প্রতীক্ষা, প্রার্থনা ও সাধনার মধ্য দিয়ে যাজকীয় জীবনে অভিষিক্ত হতে যাচ্ছেন মাচাং সাধুমনি ত্রিপুরা, যিনি ফ্রান্সিস নামেও পরিচিত।
এই অভিষেক শুধু একজন ব্যক্তির ধর্মীয় জীবনের নতুন অধ্যায়ের সূচনা নয়; বরং বান্দরবান পার্বত্য জেলার ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ইতিহাসেও একটি স্মরণীয় ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আগামী ৬ নভেম্বর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ, শুক্রবার, সকাল ৯:০০টায় নিবেদিতা কুমারী মারিয়া বলীপাড়া ধর্মপল্লীতে অনুষ্ঠিত হবে তাঁর যাজকীয় অভিষেক অনুষ্ঠান।
এ উপলক্ষে ৫ নভেম্বর থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত রয়েছে বিভিন্ন ধর্মীয় ও আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি। এর মধ্যে রয়েছে বরণ অনুষ্ঠান, পবিত্র আরাধনা, মঙ্গলানুষ্ঠান, সংবর্ধনা, প্রীতিভোজ এবং ধন্যবাদের খ্রিষ্টযাগ।
পুরো আয়োজনকে ঘিরে ধর্মীয় সম্প্রদায়ের সদস্যদের মধ্যে আনন্দ, উৎসাহ ও প্রার্থনার পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।
মাচাং সাধুমনি ত্রিপুরা (ফ্রান্সিস)-এর এই যাজকীয় অভিষেক বান্দরবান পার্বত্য জেলার ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের জন্য বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিনি এই অঞ্চলের ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের প্রথম ফাদার হিসেবে ইতিহাসে স্থান করে নিতে যাচ্ছেন।
একজন ফাদারের জীবন হলো সেবা, ত্যাগ, মানবিকতা, ভালোবাসা ও আধ্যাত্মিক পথনির্দেশনার জীবন। তাঁর মাধ্যমে সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি, নৈতিকতা ও মানবসেবার বার্তা আরও ছড়িয়ে পড়বে—এমন প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এই ঐতিহাসিক মুহূর্তকে স্মরণীয় করে রাখতে ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ, আত্মীয়স্বজন, শুভাকাঙ্ক্ষী ও স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ অনুষ্ঠানটিকে আরও আনন্দময় করে তুলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নিবেদিতা কু্মাারী মারিয়া বলীপাড়া ধর্মপল্লী মিশন পরিচালক, ফাদার শীতল হিউবার্ড সিএসি, জানান, এই যাজকীয় অভিষেক অনুষ্ঠানে শিশু মিনিস্ট্রি, যুব/ যুবতি মিনিস্ট্রি, বৃদ্ধ বয়স্ক প্রতিটি মন্ডলী, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের খ্রিষ্টান বিশ্বাসীরার আনুমানিক লক্ষাধিক অংশ গ্রহণ করবে বলে আশ্বাস দেন।
বান্দরবান পার্বত্য জেলার ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের ইতিহাসে মাচাং সাধুমনি ত্রিপুরা (ফ্রান্সিস)-এর যাজকীয় অভিষেক নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে—এমন প্রত্যাশা সবার।
ধর্মীয় বিশ্বাস, মানবিক মূল্যবোধ ও মানুষের সেবার মধ্য দিয়ে তাঁর আগামী দিনের যাজকীয় জীবন হয়ে উঠুক আশীর্বাদপূর্ণ—এই প্রার্থনা।