পটিয়া (চট্টগ্রাম)।।
চট্টগ্রামের পটিয়ায় পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলা, ভাঙচুর ও স্বর্ণালঙ্কার লুটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় হামলার ভিডিও ধারণ করতে গেলে মা ও দুই ছেলেকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। আহতরা হলেন- মা দিলুয়ারা বেগম (৪৮), ছেলে শাহদাত হোসেন ইরফান (২০) ও জিহান হোসেন (২৪)। আহতদের উদ্ধার করে পটিয়া হাসপাতালে নিয়ে গেলে ডাক্তার তাদের তিনজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
গত শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে উপজেলার বড়লিয়া ইউনিয়নের ওকন্যারা গ্রামে এই হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মো. জাবেদ হোসেন বাদী হয়ে পটিয়া থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন। গ্রেফতার করা হয়েছে- আবদুল হান্নান (৪৫), মো: সেলিম (৪৬), নেজাম উদ্দিন (৪০) ও ফোরকান উদ্দিন আজম (
৩৫)। শনিবার বেলা ৩টার দিকে আসামিদের পটিয়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেটে পাঠানো হয়েছে।
জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে বাদীর সাথে অভিযুক্তদের পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। এরই জেরে গত শুক্রবার সকালে অভিযুক্ত মো. আলম (৪২), মো. আব্দুল হান্নান (৪৫), মো. সেলিম (৪৫), মো. নেজাম উদ্দিন (৪০), মো. ফোরকান উদ্দিন আজম (৩৫), মো. জনি আক্তার (৩০) সহ অজ্ঞাতনামা ৫/৬ জন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে বাদীর বসতবাড়ির পেছনের টিনের বেড়া ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। ভাংচুর করে প্রায় ৫০ হাজার টাকা ক্ষতি করে।
হামলার সময় বাদীর ভাই মোবাইল ফোনে ঘটনার দৃশ্য ধারণ করার চেষ্টা করলে অভিযুক্তরা তাকে মারধরের চেষ্টা চালায়। এতে বাধা দিতে গেলে বাদীর মা দিলয়ারা বেগমকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। একপর্যায়ে অভিযুক্তের কোপে বাদীর মায়ের কপালে গুরুতর জখম হয় এবং অপর এক হামলায় সাক্ষীর নাক ফাটিয়ে রক্তাক্ত জখম করা হয়।
পরে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে রেফার করেন।
পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক জানান, পৈত্রিক সম্পত্তির বিরোধ নিয়ে পক্ষের বাকবিতন্ডার এক পর্যায়ে ভিডিও ধারণকে কেন্দ্র করে মা-ছেলেকে রক্তাক্ত করার ঘটনায় থানায় একটি মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। ঘটনার পর ইতোমধ্যে ৪জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।