
দোয়ারাবাজার সুনামগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
ফেঞ্চুগঞ্জের বিশিষ্ট ধর্মপ্রাণ ব্যক্তিত্ব আমেরিকা প্রবাসী জনাব মোঃ এমদাদুল ইমন নিজ অর্থায়নে এবং তাঁর মাধ্যমে আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুবান্ধবের আংশিক অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে প্রায় সাড়ে ১২ লক্ষ টাকা ব্যয়ে গ্রামের মুসল্লিয়ান ও মক্তব মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের অজু ও প্রশ্রাব-পায়খানার সুবিধার্থে ৮৭৭.৫ বর্গফুট ছাঁদ বিশিষ্ট এক প্রশস্ত ও দৃষ্টি নন্দন অজুখানা নির্মাণ করে দেন। এতো বিশাল অংকের অনুদানের পরও তিনি দাতা বা প্রতিষ্ঠাতা হিসাবে কোথাও তার নাম লিখতে বিনয়ের সাথে বারণ করেন। শুধুমাত্র তার মরহুম পিতা জনাব তেরাব আলী পীর সাহেব, মরহুমা মাতা সহ বংশীয় সকল মুর্দেগান ও এই নির্মাণ কাজে অংশগ্রহণকারীগণের মুর্দেগানের জন্য মাগফিরাত এবং জিন্দেগানের সার্বিক মঙ্গলের জন্য দোয়া চেয়েছেন। প্রাকৃতিক নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে প্রায় বছরব্যাপী অজুখানার কাজ সমাপ্ত হয়।
গত ২৩ অক্টোবর ২৬ ইং শুক্রবার কালিকাপুর গ্রামবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত বায়তুস সালাম জামে মসজিদের
ওজুখানাটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সদস্য ও দোয়ারাবাজার সদর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব এম এ বারী।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ইসলামী শিক্ষাবিদ মাওঃ মাহমুদুর রহমান আজাদ, মাওঃ বদিউজ্জামান, বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী এনামুল হক এনাম, মসজিদ কমিটির সভাপতি সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুর রহিম নেয়ামত, মসজিদের সেক্রেটারি বদরুজ্জামান, মাদ্রাসার সকল ছাত্র শিক্ষক, স্থানীয় বিশিষ্টজনেরা হলেন, লিল মিয়া, জয়নাল আবেদীন, রজব আলী, আবুল কালাম, আব্দুন নূর, (অব) সেনা সদস্য নুরুল ইসলাম, আব্দুল মালেক, আবুল হোসেন, আব্দুর রহমান, আব্দুল জলিল, সাঈদ হাসান, আলী আহমদ প্রমুখ। প্রবীণ মুরুব্বি ডাক্তার আব্দুল হামিদের সভাপতিত্বে ও অজুখানা নির্মাণের উদ্যোক্তা মাওলানা ফরিদ উদ্দিন এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আব্দুল মতিন, ওজুখানা নির্মাণ প্রকল্পের সেক্রেটারি নজরুল ইসলাম সহ কয়েকজন ব্যক্তি দাতার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন। পাশাপাশি অজুখানার সৌন্দর্য রক্ষা এবং ঈদ ও জানাজার নামাজ পড়ার সুবিধার্থে মসজিদের মাঠ পাকা করার জন্য প্রধান অতিথির কাছে দাবি উত্থাপন করেন। প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে দাতা মহোদয়ের প্রতি উচ্চশিত প্রশংসা করেন এবং এলাকাবাসীর আগ্রহের জবাবে তিনি সরকারি- বেসরকারি সব ধরনের অর্থায়নের বিনিময়ে মসজিদের মাঠ পাকা করন এবং উপজেলা সদর থেকে গ্রামের রাস্তা নির্মাণের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন। উদ্যোক্তা মাওলানা ফরিদ উদ্দিন তাঁর বক্তব্যে জানান, মসজিদে প্রচুর মুসল্লিয়ান পাঁচবেলা উপস্থিত থাকেন, সেখানে অনেক বয়স্ক লোকজন আছেন। পাশাপাশি ২০২৪ সালে "খায়রুন মুজিব আহলুস সুন্নাহ মাদ্রাসা" প্রতিষ্ঠিত হলে শিক্ষার্থীদের পাঠদানের জন্য জরুরী ভিত্তিতে মসজিদের মক্তবঘর নির্মাণ করে সেখানে শিক্ষার্থীদের পাঠদান শুরু করা হয়। এমতাবস্থায় প্রচুর মুসল্লিয়ানের পাশাপাশি প্রায় শ'খানেক ছেলে ও মেয়ে শিক্ষার্থীদের প্রস্রাব-পায়খানা ও ওজুর কাজে ব্যাপক বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। বিঘ্নতার এই চিত্র সংক্ষিপ্ত ভিডিওর মাধ্যমে তার বন্ধু আমেরিকা প্রবাসী জনাব এমদাদুল হক সাহেবের সাথে শেয়ার করলে, এমদাদুল হক বিষয়টি খুব গুরুত্বের সাথে বিবেচনায় নেন এবং তাঁর বন্ধু হেলাল খান ও আত্মীয়-স্বজনের সাথে পরামর্শ করে তিনি নিজেদের অর্থায়নে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা এবং মুরুব্বী ও শিশুদের কথা বিবেচনায় রেখে একটি সুন্দর ওজুখানা নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নিঃশর্তভাবে অর্থায়ন করে তিনি দৃষ্টিনন্দন ওজুখানাটি নির্মাণ করে দেন। অজুখানা চালু হওয়ার পর মুসল্লিদের সংখ্যা আরো বেড়েছে। এজন্য আমরা গ্রামবাসী তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ। অনুষ্ঠান শেষে দাতা মহোদয়ের মা বাবা ও সকল মুর্দেগান এবং অংশগ্রহণকারী সকলের জিন্দা মুর্দার জন্য দোয়া এবং সবশেষে তাবারুক বিতরণ করা হয়।