মোঃ বাবুল হোসেন পঞ্চগড়
পঞ্চগড়ের মির্জাপুর ইউনিয়নের তেলিপাড়া গ্রামে জৈব বালাইনাশক প্রয়োগের পর ১ একর ১৫ শতক জমির করলাগাছ নষ্ট হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে একই ইউনিয়নের অন্য একটি জমিতে একই ধরনের বালাইনাশক ব্যবহারে বাম্পার ফলন হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কৃষক। কৃষি কর্মকর্তার প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে অতিরিক্ত মাত্রায় বালাইনাশক প্রয়োগের বিষয়টি উঠে এসেছে।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, কৃষক সাইদুর রহমান, পিতা ইসলাম উদ্দিন, তাঁর করলাখেতে বালাইনাশক প্রয়োগের পর গাছের পচন দেখতে পান। তাঁর দাবি, এম পেড নামের জৈব বালাইনাশক ব্যবহারের পরদিনই জমিতে গিয়ে করলাগাছে পচন দেখা যায়। এতে ১ একর ১৫ শতক জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
অন্যদিকে, একই ইউনিয়নের কিছু দূরে চার বিঘা জমিতে একই বালাইনাশক ব্যবহারে ভালো ফলন হয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্ট কৃষক। ফলে একই পণ্য ব্যবহারের পর এক জমিতে বাম্পার ফলন এবং অন্য জমিতে ক্ষতির ঘটনায় এলাকায় আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
খবর পেয়ে পঞ্চগড়ের কৃষি কর্মকর্তা মতিয়ার রহমান ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষেত পরিদর্শন করেন। তিনি জানান, কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ ছাড়া অতিরিক্ত মাত্রায় জৈব বালাইনাশক প্রয়োগের কারণে করলাগাছে পচন ধরে থাকতে পারে। এ সময় কৃষক সাইদুর রহমান অতিরিক্ত মাত্রায় প্রয়োগের বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, বালাইনাশক জৈব হোক বা রাসায়নিক—নির্ধারিত মাত্রা, প্রয়োগপদ্ধতি ও সতর্কতা মেনে ব্যবহার করা জরুরি। ভুল মাত্রায় বা অনুপযুক্ত পদ্ধতিতে প্রয়োগ করলে ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা থাকে।
তবে ক্ষতির প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে ব্যবহৃত পণ্যের লেবেল, প্রয়োগের মাত্রা, জমির অবস্থা এবং গাছের নমুনা পরীক্ষা করা প্রয়োজন। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট পণ্যের গুণগত মান ও প্রয়োগপদ্ধতি সম্পর্কে আরও যাচাই করা হলে ক্ষতির কারণ স্পষ্ট হতে পারে।