
উজিরপুর প্রতিনিধি: বরিশালের উজিরপুরে এক যুবদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় কয়েকজন ও ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের দিয়ে তাঁকে হত্যা করানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তাঁর সঙ্গে থাকা স্বজনেরা। নিহত যুবদল নেতা কাওসার হাওলাদার সাতলার আলামদী গ্রামের মোনাসেফ হাওলাদারের ছেলে। গত শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাতে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বাগ্বিতণ্ডা ও পূর্বশত্রুতার জেরে পরিকল্পিতভাবে যুবদল নেতা কাওসারকে হত্যা করা হয়েছে। শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুর ২টায় উজিরপুর মডেল থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কাওসার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নয়জনকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি জানানো হয় এবং হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়।
হত্যাকাণ্ডের সময় উপস্থিত থেকে ভাগ্যক্রমে প্রাণে বেঁচে যাওয়া নিহত কাওসারের চাচাতো ভাই ও সাতলা ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি রাসেদ আমিন বলেন, শুক্রবার সকালে সাতলার একতা বাজারে কাওসারের সঙ্গে নান্নু মোল্লার হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এরপর তাঁরা মামলা করার চেষ্টা করেন। মিথ্যা মামলা করতে ব্যর্থ হওয়ায় কাওসারকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। মাদকসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বাগ্বিতণ্ডার পর তাঁদের মধ্যে হাতাহাতি হয়।
রাসেদ আমিন আরও বলেন, শুক্রবার রাত ৯টার দিকে তিনি ও কাওসারসহ চার-পাঁচজন সাতলা সেতুর ওপর আড্ডা দিচ্ছিলেন। এ সময় একদল অস্ত্রধারী একটি মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেল নিয়ে তাঁদের ঘিরে ধরে। একপর্যায়ে মাইক্রোবাসে থাকা সজল মোল্লা, শামীম মোল্লা, মেহেদী মোল্লা, কাঞ্চন মোল্লা, সাইফুল বালীসহ আট থেকে দশজন সন্ত্রাসী মাইক্রোবাস থেকে নেমে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করেন।
এ সময় দুর্বৃত্তরা কাওসারকে কুপিয়ে জখম করে। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহত কাওসার প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ে পাশের বাড়ির হাবিব হাওলাদারের ঘরে আশ্রয় নেন। সেখানে তিনি প্রাণ বাঁচাতে নানা আকুতি জানান। কিন্তু সন্ত্রাসীরা ওই বাড়িতে হানা দিয়ে দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে কাওসারকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা নিশ্চিত করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
পরে স্থানীয়রা কাওসারকে পার্শ্ববর্তী গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। কাওসার হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ মানুষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
ঘটনার পরপরই উজিরপুর মডেল থানা-পুলিশ অভিযান চালিয়ে নয়জনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—উজিরপুর উপজেলার আলামদী গ্রামের ফরিদ মোল্লার ছেলে সজল মোল্লা ও শামীম মোল্লা; মোবারক মোল্লার ছেলে তরিকুল ইসলাম; মুলাদী থানার দড়িচর গ্রামের মনির হোসেনের ছেলে সোহাগ; গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী থানার জাহিদ শেখের ছেলে সাগর শেখ; গোপালগঞ্জের ভূমদিয়া গ্রামের হাসান শেখের ছেলে হাসিব শেখ ও হাবিব শেখ; বরগুনা জেলার পাথরঘাটার মানিকখালী গ্রামের মালেক হাওলাদারের ছেলে মাহাবুবুর রহমান এবং ভোলার বোরহানউদ্দিন থানার বাটামারা গ্রামের লোকমান হাকিমের ছেলে শরীফ হোসেন।
উজিরপুর মডেল থানার ওসি রকিবুল ইসলাম কাওসার হাওলাদার হত্যাকাণ্ডের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটেছে।
সহকারী পুলিশ সুপার (উজিরপুর সার্কেল) সৌমেন কুমার বাইন জানিয়েছেন, কাওসার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যেই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। দ্রুত সময়ের মধ্যে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করা হবে বলেও জানান তিনি।
এদিকে, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহত কাওসারের মেজ ভাই মোস্তফা হাওলাদার বাদী হয়ে উজিরপুর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।