
হেলাল শেখঃ রাজধানীর মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বর ও ঢাকার সাভার আশুলিয়া, পল্লী বিদ্যুৎ ও বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর সড়কসহ বিভিন্ন এলাকায় ফুটপাত দখলমুক্ত করতে সিটি করপোরেশন ও উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উচ্ছেদ অভিযান কিছুটা সফল হলেও তার বিপরীত চিত্র মিরপুর ১ নম্বরে। একের পর এক অভিযান চালিয়েও মিরপুর ১-এর ফুটপাত স্থায়ীভাবে দখলমুক্ত রাখতে পারছে না ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। উচ্ছেদের কয়েক ঘণ্টা পরই আবারও আগের চেহারায় ফিরে আসছে ফুটপাত।
বিশেষ করে মুক্তিযোদ্ধা হকার্স মার্কেটের দুই পাশের ফুটপাত এবং সংলগ্ন সড়কের একটি অংশ এখন হকারদের দখলে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ পথচারীরা। ফুটপাতের ওপর পোশাক, জুতা, কসমেটিকস, শাকসবজি ও বিভিন্ন পণ্যের দোকান বসিয়ে চলাচলের পথ প্রায় পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে ফুটপাত ব্যবহার করতে না পেরে বাধ্য হয়ে মূল সড়কে নেমে হাঁটছেন পথচারীরা। এতে একদিকে যেমন যানজট বাড়ছে, অন্যদিকে তৈরি হচ্ছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে নারী, শিশু ও বয়স্কদের।
উচ্ছেদের পরই ফিরে আসে দখল, স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, মিরপুর ১ নম্বর এলাকায় এর আগেও একাধিকবার অবৈধ দখল উচ্ছেদে অভিযান চালানো হয়েছে। অভিযানের সময় ফুটপাত খালি করা হলেও অভিযান শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আবার বসে যায় দোকানপাট।
স্থানীয়দের প্রশ্ন বারবার অভিযান হয়, ফুটপাতও খালি হয়, তাহলে অভিযান শেষ হওয়ার পর আবার কার ইশারায় ফুটপাত দখল হয়ে যায়? মোটা অংকের চাঁদাবাজি করায় ফুটপাত দখলমুক্ত করা যাচ্ছে না।
মুক্তিযোদ্ধা মার্কেটের সামনের অংশে বর্তমানে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যে, স্বাভাবিকভাবে ফুটপাত দিয়ে হাঁটা অনেকটা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ক্রেতা-বিক্রেতার ভিড়, দোকানের পসরা ও হকারদের হাঁকডাকে ব্যস্ত এই এলাকায় পথচারীদের চলাচল কার্যত বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
ফুটপাত ছাড়িয়ে সড়কেও দখল শুধু ফুটপাত নয়, অভিযোগ রয়েছে-হকারদের দখল ফুটপাত ছাড়িয়ে মূল সড়কের একটি লেন পর্যন্ত পৌঁছেছে। এতে গুরুত্বপূর্ণ এই সংযোগস্থলে যানবাহন চলাচলের জায়গা সংকুচিত হয়ে প্রতিনিয়ত সৃষ্টি হচ্ছে যানজট।
অফিসগামী একাধিক পথচারী বলেন, ফুটপাত দিয়ে হাঁটার কোনো সুযোগ না থাকায় অনেক সময় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গাড়ির পাশ দিয়ে সড়কে হাঁটতে হয়। বিশেষ করে ব্যস্ত সময়ে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।
চাঁদা আদায়ের অভিযোগ, নেপথ্যে কারা? এদিকে স্থানীয়দের মধ্যে অভিযোগ রয়েছে, প্রভাবশালী মহল ও অসাধু কিছু ব্যক্তির ছত্রছায়ায় নিয়মিত অর্থের বিনিময়ে ফুটপাত ও সড়কের অংশে দোকান বসানোর সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়দের দাবি, ফুটপাত দখল যদি শুধুই হকারদের ব্যক্তিগত উদ্যোগ হয়, তাহলে উচ্ছেদের পর এত দ্রুত তারা আবার কীভাবে একই জায়গায় ফিরে আসে-এ বিষয়টিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
স্থায়ী সমাধান চান নগরবাসী, নগর বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু অভিযান পরিচালনা করে ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা সম্ভব নয়। উচ্ছেদের পাশাপাশি নিয়মিত মনিটরিং, স্থায়ী তদারকি এবং হকারদের জন্য বাস্তবসম্মত পুনর্বাসন পরিকল্পনা প্রয়োজন।
মিরপুর ১০ নম্বরের মতো মিরপুর ১ নম্বরেও যদি ধারাবাহিক নজরদারি ও কঠোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা যায়, তাহলে ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ভুক্তভোগী নগরবাসীর দাবি, ফুটপাত কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ব্যবসার জায়গা নয়-এটি সাধারণ মানুষের চলাচলের অধিকার। তাই মিরপুর ১ নম্বরের ফুটপাত ও সড়কের অবৈধ দখল উচ্ছেদ করে তা স্থায়ীভাবে পথচারীদের জন্য উন্মুক্ত রাখতে ডিএনসিসি, ট্রাফিক পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ জরুরী বলে মনে করছেন ভুক্তভোগী ও সচেতন মহল।