
খলিলুর রহমান খলিল, নিজস্ব প্রতিনিধি:
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গেছে। আর মাত্র কয়েকটা দিন, এরপরই মণ্ডপে মণ্ডপে ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি আর দেবীর আরাধনায় মুখরিত হয়ে উঠবে চারপাশ। উৎসবের এই আনন্দকে পূর্ণতা দিতে এখন শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে দিনরাত ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমা শিল্পী ও কারিগররা।
রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের ৬৩টি পূজামণ্ডপে এবার শারদীয় দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। পূজা ঘনিয়ে আসায় প্রতিটি মণ্ডপ ও মৃৎশিল্পীদের কারখানায় এখন চলছে রঙের চূড়ান্ত কাজ। মাটি, খড় ও বাঁশ দিয়ে প্রাথমিক কাঠামো তৈরির কাজ শেষ করে শিল্পীদের সুনিপুণ হাতের ছোঁয়ায় এবং রং-তুলির আঁচড়ে একে একে জীবন্ত হয়ে উঠছে দেবী দুর্গা, মহিষাসুর, লক্ষ্মী, গণেশ, কার্তিক ও সরস্বতীর প্রতিমা। সেই সঙ্গে চলছে দেবীর বাহন সিংহ এবং অন্যান্য দেব-দেবীর বাহনগুলোর রূপ ফুটিয়ে তোলার কাজ।
মৃৎশিল্পীরা জানান, একটি প্রতিমা তৈরি করতে কাঠ, খড় আর মাটির প্রাথমিক কাজ থেকে শুরু করে পূর্ণাঙ্গ রূপ দিতে অনেক পরিশ্রম ও সময়ের প্রয়োজন হয়। পূজার সময় যত ঘনিয়ে আসছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মণ্ডপে প্রতিমা পৌঁছে দেওয়ার জন্য শিল্পীদের ব্যস্ততা ততটাই বাড়ছে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কড়া মনোযোগে তুলির শেষ আঁচড় দিচ্ছেন তারা, যেন মায়ের রূপ নিখুঁত ও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
উৎসবের সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ তারাগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি কুমারেশ রায় বলেন, "প্রশাসন ও স্থানীয় সকলের আন্তরিক সহযোগিতায় আমাদের পূজা আয়োজনের মূল প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। প্রতিবছরের মতো এবারও প্রতিটি মণ্ডপে অত্যন্ত আনন্দঘন, সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপিত হবে বলে আমরা আশাবাদী"।
পূজায় আইনশৃঙ্খলা ও সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রস্তুতি নিয়ে তারাগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইজার উদ্দিন বলেন, "দুর্গাপূজা যেন নির্বিঘ্নে ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হতে পারে, সেজন্য পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। প্রতিটি মণ্ডপে আমাদের বিশেষ নজরদারি থাকবে এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বদা তৎপর রয়েছে। আমরা একটি উৎসবমুখর ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ"।
এদিকে কারিগরদের ব্যস্ততার পাশাপাশি মণ্ডপগুলোতেও চলছে চোখধাঁধানো তোরণ নির্মাণ, নান্দনিক প্যান্ডেল সাজসজ্জা এবং আলোকসজ্জার প্রস্তুতি। সব মিলিয়ে উৎসবের একটি আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে পুরো এলাকা জুড়ে। মায়ের আগমনকে ঘিরে ভক্তদের মাঝে বিরাজ করছে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা, আর শিল্পীদের রং-তুলির ছোঁয়ায় সেই উদ্দীপনা যেন আরও বেশি প্রাণবন্ত হয়ে ধরা দিচ্ছে।