
দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলায়
সরকারি উন্নয়নকাজে ব্যবহারের জন্য সুরমা নদী থেকে বালু ও মাটি উত্তোলনে বাধা, ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং ড্রেজারে কর্মরত শ্রমিকদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বিডি পাওয়ার টেকনোট্রেড, ১৫৮-১৬০ মতিঝিল সি/এ, ঢাকা-এর পক্ষে ছাদিকুর রহমান, মেসার্স সারা এসোসিয়েটস, সুরমা ১৪৪/এ, সুনামগঞ্জ-এর অনুকূলে বালু-মাটি উত্তোলন কার্যক্রম পরিচালনার সময় চাঁদা দাবি ও শ্রমিকদের মারধরের অভিযোগ এনে সুনামগঞ্জের ছাতক সার্কেল বরাবর লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার রঙ্গারচর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের বর্তমান ইউপি সদস্য ও হরিনাপাটি গ্রামের নাইয়র মিয়ার ছেলে শওকত আলী (৪৫)-সহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অন্য অভিযুক্তরা হলেন—একই গ্রামের মৃত আব্দুল হান্দানের ছেলে কালা মিয়া, মৃত আব্দুন নুরের ছেলে আক্তাই মিয়া ও সজিব মিয়া, মুক্তি মিয়ার ছেলে ময়না ও রাসেল মিয়া, মৃত আইল্লা মিয়ার ছেলে নুর মিয়া ও মঞ্জু মিয়া, আলী হোসেন এবং মৃত শওকত আলীর ছেলে জলিল মিয়া।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দোয়ারাবাজার উপজেলার মিনি স্টেডিয়াম (২য় পর্যায়) নির্মাণ প্রকল্পের গর্ত ভরাটের জন্য জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের অনুমতি সাপেক্ষে বাজারগাঁও/৯৫ ও মান্নারগাঁও/৯৬ মৌজার সুরমা নদীতে জেগে ওঠা চর থেকে শর্তসাপেক্ষে ড্রেজারের মাধ্যমে বালু ও মাটি উত্তোলন করা হচ্ছিল।
সোমবার ৫ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে বাজারগাঁও ও মান্নারগাঁও মৌজার সুরমা নদীতে বালু-মাটি উত্তোলনের সময় কয়েকজন ব্যক্তি সেখানে গিয়ে ড্রেজার কর্তৃপক্ষের কাছে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, দাবিকৃত টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ওই ব্যক্তিরা ড্রেজারে কর্মরত শ্রমিকদের ওপর হামলা চালান। এ সময় কয়েকজন শ্রমিককে মারধর করা হয় এবং তাদের সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোনও নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে ছাদিকুর রহমান বলেন, “দোয়ারাবাজার মিনি স্টেডিয়ামের গর্ত ভরাটের জন্য জেলা প্রশাসক ও উপজেলা প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে ড্রেজারের মাধ্যমে বালু-মাটি উত্তোলন করা হচ্ছিল। এ সময় অভিযুক্তরা আমাদের কাছে চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না দেওয়ায় তারা ড্রেজারে কর্মরত শ্রমিকদের মারধর করেন।
অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রঙ্গারচর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শওকত আলী। তিনি বলেন, “সুরমা নদীতে ড্রেজারে চাঁদাবাজি ও মারপিটের বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি বর্তমানে সুনামগঞ্জ-৪ (সদর) আসনের সংসদ সদস্যের একটি প্রোগ্রাম নিয়ে ব্যস্ত রয়েছি।
এ বিষয়ে জানতে ছাতক সার্কেলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সংবাদ লেখা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।