মোঃ দেলোয়ার হোসেন বাবু,
জয়পুরহাট প্রতিনিধি।।
দেশে সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত নিগ্রহ, লাঞ্ছনা ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধানী সাংবাদিকেরা। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, এই নির্যাতনের নেপথ্যে শুধু প্রভাবশালীদের হাতই নয়, বরং পেশাগত কোন্দল ও সাংবাদিকদের ভেতরের শত্রুতাও এক বড় কারণ হিসেবে কাজ করছে।
অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে দেখা যায়, কোনো সাংবাদিক যখন অসাধু বা সমাজের তথাকথিত প্রভাবশালীদের অপকর্ম ও অনিয়ম তুলে ধরতে যান, তখন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নিজের অপরাধ ঢাকতে অন্য এক শ্রেণীর সাংবাদিকের আশ্রয় নেন।
দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো, সেই সাংবাদিক নিজ পেশার সহকর্মীর পাশে না দাঁড়িয়ে উল্টো অপরাধী ব্যক্তিকে ওই অনুসন্ধানী সাংবাদিককে লাঞ্ছিত ও হেনস্তা করার কুপরামর্শ দেন।
পেশাগত সাংবাদিকতার অন্তরালে এমন ব্যক্তিগত শত্রুতা ও অভ্যন্তরীণ বিশ্বাসঘাতকতাই সাংবাদিকদের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। যে অন্যের জন্য খাল কাটে, সে একদিন নিজেই সেই খালে পড়ে।
সংবাদকর্মীরা যদি নিজেদের মধ্যে ইর্ষা ও কোন্দল পরিহার করে ঐক্যবদ্ধ না হন, তবে আজ যিনি অন্য সহকর্মীকে হেনস্তার শিকার বানাচ্ছেন, আগামীতে তাকেও একই পরিণতি ভোগ করতে হবে।
তবে পেশার নামে কোনো সাংবাদিক যদি মিথ্যা, ভিত্তিহীন বা উদ্দেশ্যেপ্রণোদিত সংবাদ পরিবেশন করেন, তবে তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া কিংবা কাউকে লাঞ্ছিত করা কোনো সমাধান হতে পারে না।
এই পরিস্থিতিতে জয়পুরহাট জেলাসহ সংশ্লিষ্ট পাঁচ থানার প্রেসক্লাবের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও প্রবীণ নেতৃবৃন্দের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হচ্ছে। সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ করতে গিয়ে কেন একজন সাংবাদিক লাঞ্ছিত হবেন, এ বিষয়ে চুপ না থেকে অনতিবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ ও কঠোর অবস্থান নেওয়ার জোর দাবি জানানো হচ্ছে। পেশার মর্যাদা ও নিরাপত্তা রক্ষায় সকল সাংবাদিককে নিজেদের ভেতরের বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আকুল আহ্বান জানানো হচ্ছে।