
মোঃ নাঈম মল্লিক, ঝালকাঠি প্রতিনিধি
ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলার অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ কাটিপাড়া ট্রলার ঘাট ও শ্রীরামপুর সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে সম্পূর্ণ বেহাল হয়ে পড়েছে। তীব্র ভাঙনের কবলে পড়ে সড়ক ও ট্রলার ঘাটের সংযোগস্থল ক্রমান্বয়ে নদী ও খালে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এতে যেকোনো সময় এই অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে বর্ষাকালে এই সড়কটি এক চরম মরণফাঁদে পরিণত হয়। পিচ্ছিল ও ভাঙাচোরা রাস্তার কারণে একদিকে যেমন প্রতিনিয়ত সাধারণ মানুষ স্লিপ (পা পিছলে) খেয়ে পাশের খালে পড়ে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন, অন্যদিকে মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়েছেন স্থানীয় রোগীরা। সড়ক যোগাযোগের বেহাল দশার কারণে জরুরি অবস্থায় কোনো রোগীকে নলছিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পর্যন্ত নেওয়া সম্ভব হয় না। ফলে বাধ্য হয়ে দূরবর্তী ঝালকাঠি সরকারি হাসপাতাল কিংবা বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগী নিয়ে ছুটতে হয় ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এই ঘাট ও সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ নলছিটি মূল শহরে যাতায়াত করেন। প্রতিদিন সকালে স্কুল-কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার উদ্দেশ্যে এবং সাধারণ মানুষ নিত্যদিনের বাজার-সদাই করতে এই ট্রলার ঘাট পার হয়ে নলছিটি শহরে আসেন। কিন্তু নদী ও খালের ভাঙনে সড়কটি ক্রমান্বয়ে ধসে পড়ছে এবং ছোট হয়ে আসছে। বর্ষা মৌসুম শুরু হলেই সড়কটির খানাখন্দে পানি ও কাদা জমে একাকার হয়ে যায়, যার ফলে হেঁটে বা কোনো যানবাহনে চলাচল করাও অসম্ভব হয়ে পড়ে।
এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, “রাস্তা ভেঙে নদীগর্ভে বিলীন হতে থাকায় এলাকায় কোনো অ্যাম্বুলেন্স বা জরুরি গাড়ি ঢুকতে পারে না। কোনো মানুষ গুরুতর অসুস্থ হলে তাকে দ্রুত নলছিটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ারও উপায় নেই। ভাঙা রাস্তায় ঝাঁকুনি আর অতিরিক্ত সময়ের কারণে রোগীর অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যায়। ফলে বাধ্য হয়ে অনেক কষ্ট করে রোগীকে সরাসরি ঝালকাঠি সদর হাসপাতাল বা বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেলে নিয়ে যেতে হয়। সময়মতো চিকিৎসা না পেয়ে অনেক সময় রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে ওঠে।”
তারা আরও জানান, বর্ষার দিনে রাস্তাটি এতটাই পিচ্ছিল হয়ে যায় যে, একটু অসাবধান হলেই সাধারণ পাবলিক, বিশেষ করে বয়োবৃদ্ধ এবং স্কুলগামী শিশুরা স্লিপ খেয়ে সরাসরি পাশের খালে পড়ে যায়। এতে অনেকের মোবাইল, বাজার-সদাই নষ্ট হওয়াসহ মারাত্মক শারীরিক জখমও হচ্ছে। নদীভাঙন দ্রুত রোধ করা না গেলে ঘাট ও সড়কটি সম্পূর্ণ মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে।
ভুক্তভোগী শিক্ষকেরা জানান, “প্রতিদিন সকালে আমাদের এই রাস্তা ও ঘাট দিয়ে নলছিটি মূল শহরে যেতে হয়। শুকনো মৌসুমে কোনোমতে চলাفেরা করা গেলেও, বর্ষাকালে এই সড়কটি মারাত্মক খারাপ রূপ নেয়। কাদা-পানিতে জামাকাপড় নষ্ট হয় এবং যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা থাকে।”
দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাটি বেহাল অবস্থায় থাকলেও এবং ভাঙন দেখা দিলেও এটি সংস্কার বা নদীভাঙন রক্ষায় এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। অথচ এই একটি মাত্র পথ দিয়ে দৈনিক হাজার হাজার মানুষ চলাচল করে।
নলছিটির কাটিপাড়া ও শ্রীরামপুর এলাকার ভুক্তভোগী জনগণের দাবি—নদীভাঙন রোধসহ সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ লাঘব, মুমূর্ষু রোগীদের জরুরি চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং শিক্ষার্থীদের যাতায়াত নিরাপদ করতে ঝালকাঠি জেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও নলছিটি উপজেলা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেন অতি দ্রুত এই কাটিপাড়া ট্রলার ঘাট এবং শ্রীরামপুর রোডটি স্থায়ীভাবে সংস্কারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।